বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

মোবাইল প্রতারনা !!

সকাল ১০ টা ! আমার ছোট বোনের ঘুম ভাঙল এটা ফোন কল এ । খুব মনোযোগ দিয়ে কথা বলছিল ! আমি আকার ইঙ্গিত করে বোঝার চেষ্টা করলাম। কে ? কি বলছে ? কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না, কথা বলেই গেল।
ঠিক ৩০ মিনিট কথা বলার পর এসে আমাকে বলছে, জানো আমি না গ্রামীন ফোন এর লটারি জিতছি। আমার সিম টা ১০ বছরের পুরানো তাই আমি জিতেছি । কথাটা শুনেই আমি রেগে গেলাম । বলাম বোকা এটা একটা চক্র ! যারা মানুষকে ধোঁকা দিয়া টাকা হাতিয়ে নেয় । আমার কথা শেষ হতে না হলেই আবার ফোন আসল, এবং আমি ধরলাম। ধরে যেই না বকা শুরু করলাম তখন ঐ প্রান্ত থেকে শুরুতে বললো যার ফোন তাকে দিন। আমাকে বললো আপনি আমাদের কথা বিশ্বাস করছেন না? দেখুন আমরা আপনার ফোন এর আউট গোয়িং কল বন্ধ করে দিয়েছি ! সঠিক তথ্য ! ফোনের আউট গোয়িং কল বন্ধ! কিন্তু কি করে হল ? কে করলো ?
…. তারপর আমার বোকা বোন বলে, শুন আপা ওঁরা সত্য বলছে। কারন, আমি ওঁদের ডিজিএম এর সাথে কথা বলেছি ! ওঁরা আমাকে #33*0000# এ ডায়াল করে কথা বলে দিয়েছে !
যেই নাম্বারটি থেকে ফোন আসছিল সেটি হল: 01767913551
আমি গ্রামীন ফোন কাস্টমার কেয়ার-এ ফোন দিয়ে জানলাম যে আমার বোন নাকি তার ফোন টির আউট গোয়িং কল বন্ধ করে দেয়াছে ! এবং তাদের সহযোগিতায় আমরা ফোনটির আউট গোয়িং কল একটিভ করতে আবার সামর্থ্য হলাম ! আসলে রহস্যটা টা কিছুই না । প্রতারক চক্র কিছু বুদ্ধিমান! ব্যাস! ঐ যে আমার বোন #33*0000# চেপেছিল তখনই তার গ্রামীন ফোন নাম্বার টির আউট গোয়িং কল অফ হয়ে গেছে ! আবার যখন একইভাবে ঐ ডিজিট গুলো চাপলাম ফোন পুনরায় ঠিক ঠাক !
এই চক্র বহুদিন ধরেই এভাবে প্রতারনা করে অনেককে নিঃস্ব করছে। এবং করে চলছে ! সরলসোজা মানুষকে বোকা বানাচ্ছে ! কিন্তু এদের নিয়া কোন জনসচেতনা মুলক প্রচারনা সরকার এবং গ্রামীন ফোন কর্তৃপক্ষের কেন নাই ? এই চক্র শুধু যে ফোনের মাধ্যমেই এই ধরনের প্রতারনা করছে আর অন্য কোনোভাবে করছেনা সেটাও তো আমরা সঠিক করে জানি না অনেকেই।
অনেক সচেতনতামুলক প্রচার প্রচারনা আজকাল দেখা যায় কিন্তু প্রতারক চক্র যে কতোটা সক্রিয়ভাবে অপরাধগুলো করে যাচ্ছে দিনের পর দিন সেদিকে কারোরই কোন দয়িত্ব দেখছিনা !গ্রামীণ ফোন কর্তৃপক্ষ এত এত বিজ্ঞাপন প্রচার করছে টিভি – পত্রিকায় অথচ তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে,তাদের গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে তারা এব্যাপারে কিছুই করছে না! এটা আমরা কি ভাবে মেনে নেব? তারা কেন এবিষয়গুলি নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে না? নাকি তাদের ভেতরেও এই প্রতারক চক্র কাজ করছে?

মা দিবস !!

রাত ঠিক ১২.০১ মিনিট এসে আমার ৭ বছরের ছেলেটি আমার গলা জরিয়ে এসে ধরে বল ” মা-জি শুভ মা দিবস “! আমি যে মা! অনুভুতিটা যে কি বলতে পারবনা ! এই প্রথমবার আমার ছেলে আমাকে বিশেষ দিন মা দিবসে শুভেচ্ছা দিল। আগে দিত সেটা না বুঝে। কেউ বলে দিত এসে হড়বড় করে বলে চলে যেত ! কিন্তু এই প্রথম আমার কাছে অনেকক্ষণ রইল ! আদর করল। গল্প করল।
খুবই আনন্দিত হলাম ছেলের স্পর্শ পেয়ে ! কারন আমার দষ্টু ছেলেটি সারাটাদিন ব্যস্ত থাকে নিজের জগত নিয়ে। খেলা আর খেলা ! কাছে গেলে বলে, যাও তো আমি ব্যস্ত আছি রোবট বানান নিয়া। কিংবা আমাকে বলবে তুমি’তো ইঞ্জিনিয়ার ! তুমি আমাকে এক্তা রোবট বানায়ে দাওনা কেন ? কবে দিবা বল?
কিন্তু মাঝে মাঝে ভয়ে বুক কেপে উঠে ! বাবা তুমি বড় হয়ে আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়ে দিবানাত? কে জানে দিতেও পারে ! এখনই ভেবে কষ্ট পেয়ে কি লাভ তাই না? আজ যেই সন্তানের জন্য দিনকে রাত রাতকে দিন করে খাটছি সেই সন্তান কি আমাকেও পাঠিয়ে দিবে ওর আদরযত্ন থেকে দূরে সরায়ে! তাহলে কি পেলাম? কি দিল আমার সন্তাটি আমাকে !
আমি তো আমার মা কে পাঠাইনি। আমার স্বামীও তার মা’কে পাঠায় নি। তবে কি আমার ভাগ্যে জুটবে সেই আশ্রয় ! যেখানে থাকবেনা আমার কাছের কেউ। আমার সন্তান। নাতি নাত্নি ! বউ ছেলে ? মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত ! এই কথাটি কি ভুল নাকি মিথ্যা!
অনেক মা আছেন যারা বৃদ্ধাশ্রমে ! তাদের সন্তানেরাও হয়তো আজ তাদের শুভেচ্ছা জানাতে যাবে ! কিন্তু আসলেই কি তারা তাদের মা’কে ভালবাসে? আমার মা এবারই প্রথম আমার কাছে নাই ! কারন মা বেড়াতে গেছেন বড় বোনের কাছে দেশের বাইরে ! মাকে আগেভাগে শুভেচ্ছা দিয়ে রেখেছি ! আবার রাতে গল্প করব ! কারন মায়ের সাথে সময় ফারাক এই কারন !
প্রতিটি দিনই আসলে একটি বিশেষ দিন মায়ের কাছে ! কিন্তু আমরা সন্তানেরা দেখে দেখে একএকটা দিন’কে বিশেষ দিন লক্ষ্য করে বাবা মাকে শুভেচ্ছা জানাই ! উপহার দেই ! তারপর ভুলে যাই ! কিন্তু আমি যখন মা আমি বুঝি যে একজন মা আমাকে বর করতে কতটা কষ্ট করেছেন !
আরা মা আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা। সবার মা’ই সবার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা হওয়া উচিত ! কিন্তু সেটা হয়না বলেই অনেক মা’ই আজ বসে আছে সন্তানের অপেক্ষায় বৃদ্ধাশ্রমে। আমরা কি পারিনা এই নিষ্ঠুরতা থেকে নিজদের বের করে আনতে? আজ আমি সন্তান কাল আমি বাবা/ মা হবো ! আমাকেও যদি একদিন এই জীবন পেতে হয় তবে কি আমি মেনে নিতে পারব ? না আমি পারবনা ! যেটা আমি পারব না সেটা আমি আমার মা বাবাকেও পেতে দিবনা । কখনই না।

তরল দুধ কি করে বানানো হয় ?

আমরা জানি কি ? কি করে তরল দুধ বানানো হয় ? কি করে আবার? তরল দুধ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গাভি থেকে পেয়ে থাকি আমরা ! এটাই আমরা সকলে জানি ! ঠিক জানি ? ভুল জানি ? তথ্য টা ঠিক হলেও এতা এই সময়ের জন্য কতোটা সত্য এবং যুগোপযোগি ! বর্তমানে যেই অসম্ভব এবং ভয়ানক সত্যটা আমাদের অনেকেরই জানা ( হয়ত অনেকেই জানেন না কিংবা দ্বিমত পোষণ ও করবেন আমার এ তথ্যটিতে ) কিন্তু অবাস্তব হলেও সত্য ! একমন মন দুধ বানানো রেসিপি যদি এমন হয় তবে ?
৩০ কেজি ছানার পানি
১০কেজি গরুর দুধ
১ কেজি ক্রিম
২৫০ গ্রাম সোডা
০.৫ কেজি চিনি
ব্যাস তৈরি হয়ে গেল ১ মন দুধ ! আসলেই কি দুধ হল ? আরা যা প্রতিদিন খাচ্ছি সেটা কি দুধ ভেবে সেটাই তৈরি করা হয় এভাবে ?
যেটা অনেক নামি দামি কোম্পানি গুলো বহুদিন যাবত খাটি দুধ বলে বাজারজাত করে আসছে এবং আরা সাধারন জনগণ সেই সব কোম্পানি গুলোর চমক কারা বিজ্ঞাপন আর সুন্দর মোড়কে মোড়ক করা পণ্যটি সাদরে কিনে বাসার সকলে মিলে আমোদ করে খাচ্ছি একটা পুষ্টিকর পানীয় / খাদ্য হিসেবে সেটা কি আসলেও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দ্রব্য ?

বাবা তুমি কেমন আছো?

আজ বাবা দিবস !
কিন্তু আমি জানি না আমার বাবা কেমন আছে ! আমি জানি আমার বাবা কোথায় আছে ! কিন্তু বাবাকে শুভেচ্ছা পাঠাতে পারিনি পারব ও না !
আমরা জন্মের পর প্রথম বার বাবা পেয়ে থাকি ! বৈবাহিক সুত্রে আর একবার বাবা পাই (শ্বশুর) ! আর আমার দুই বাবার একজনও আমাদের মাঝে নেই ! তারা আকাশের তারা হয়ে আমাদের সাথে মিশে আছেন ! ছোট বেলায় এটাই জানতাম ! কেউ মারা গেলে আকাশের তারা হয়ে যায় ! আর একবার একজন বাবা আমার জীবনে চলে এসেছে ! জার কারণে আজ আমার মুখ থেকে বাবা ডাকটা হারিয়ে যায়নি যাবেও না ইনশাআল্লাহ! কারন আল্লাহ আমাকে একজন দুষ্টু ছেলের মা বানিয়েছেন ! যাকে প্রতি সেকেন্ড বাবা ডেকে ডেকে জন্মদাতা বাবাকে ডাকার অপূর্ণতাটা ভুলে  যাই !
যাদের বাবা নেই মা নেই তারাই জানে বাবা মা হারানর কষ্টটা ! আজ আমি বুঝি ! সেদিন একটা পত্রিকায় দেখলাম বিজ্ঞাপন দেয়াছে ! বাবা দিবসে বাবার সাথে থাকা স্মৃতি নিয়ে লিখা পাঠাতে ! যদি মনোনীত হয় তবে ছাপা হবে  এবং লটারির মাধ্যমে বিজয়ীকে পুরস্কার দেয়া হবে ” বাবাসহ টিকেট নন্দন পার্ক “…। আমি থমকে গেলাম ! স্মৃতি লিখে যদি পুরস্কার জিতে জাই তবে কাকে নিয়ে যাব ! কষ্ট পেলাম, রাগও হল ! মনে হল আমাকে আর একটা মনে করিয়ে দেয়া হল যে আমার বাবা বেঁচে নেই ! ফিরেও আসবেনা কোনদিন ! চাইলেও যেতে পারব না নন্দন পার্ক !
বাবা দিবসে যাদের বাবা বেঁচে আছে তাদের বাবার প্রতি রইল আমার অনেক অনেক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা ! আমার বাবার জন্য ও দোয়া চাইলাম সবার কাছে ! আমার ছোট বাবাটা যেন বড় হয়ে একজন ভাল মানুষ হয় ! আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করে ” ছেলেকে বড় হলে কি বানাবেন?” আমি উত্তর দেই ” একজন ভাল মানুষ”…! অনেকেই বিরক্ত হয় ! হাসে !
আমার বাবা এখন শুধুই আমার ছেলে !

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিস্কুট বিতরণে ভয়াবহ দুর্নীতি হচ্ছে

বাংলাদেশ সরকার সকল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুশিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিদিন এক প্যাকেট করে বিস্কুট বিতরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। নিয়ম হচ্ছে ছাত্র ছাত্রীরা ঐ বিস্কুট স্কুল থেকে খেয়ে যেতে হবে। প্যাকেট বাসায় নিয়ে যেতে পারবেনা। এবং ওই প্যাকেট মোড়ক স্কুল ক্যাম্পাসেই ধ্বংস করে দেয়া হবে। পুষ্টিঘাটতি পূরণের সেই বিশেষ বিস্কুট কি ছাত্র ছাত্রীরা ঠিক মত পাচ্ছে?  কিংবা স্কুল প্রতি কিভাবে বিস্কুট বরাদ্দ দেয়া হয় এটার কী নিয়ম বা হিসাব আছে?
যেহেতু নগরের যান্ত্রিক জীবনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ব্যস্ত জীবনযাপন করছি ! আমি এই বিস্কুট বিতরনের তথ্যটা জানতে পারলাম গতকাল ! আমার এক সহকর্মী গতকাল আমাকে এই বিস্কুটা খাওয়াল !  বিস্কুট খেতে বেশ মজাদার ! কিন্তু আমার কি এই বিস্কুটটা চাকরি জীবনে পাওয়ার এবং খাওয়ার কথা? তাহলে ! কিন্তু কিভাবে পেলাম ! আমার সহকর্মীর এক নিকট আত্মীয় প্রাথমিক   বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ! তিনি নিজের জন্য বাসায় নিয়ে এসেছেন অনেক বিস্কুট !
কারন বিদ্যালয়ের একটা কক্ষ উপছে পড়ছে বিস্কুটে ! এই ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিদপ্তর কেন এত দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে আছেন ?
বিস্কুটের প্যাকেটে গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের সীল দেয়া আছে এবং সকল বিস্তারিত তথ্য গুলো দেয়া থাকা সত্ত্বেও কেউ মানছে না।

ট্রাফিক আইন অমান্য করার কি শাশ্তি নাই ?!

গতকাল অফিসের গাড়ি দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। আমাদের গাড়ির চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করল। অমনি দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আমাদের গাড়ীটা আটকাল। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক আছে। গাড়ীর অন্যান্য কাগজপত্র সব ঠিক আছে ! তাই আমাদের ছেড়ে দিল। কিন্তু আমার অজানা জিজ্ঞাসা রয়ে গেল তবে কি ট্রাফিক আইন না মানার জন্য শাস্তির বিধান নেই? গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক মানেই আমি আমার গাড়ি বেপরোয়া হয়ে যাবে!
আমার জানার আগ্রহ রয়ে গেল কিন্তু জিজ্ঞাস করতে গেলাম না ! জানতে গেলেই দেরি হয়ে যাবে রাস্তা এবং লেনদেনের একটা পর্ব যে চলে আসতে পারে এটাও আমাদের মোটামুটি জানা আছে !

ট্রাফিক আইন অমান্য করার কি শাশ্তি নাই ?!

গতকাল অফিসের গাড়ি দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। আমাদের গাড়ির চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করল। অমনি দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আমাদের গাড়ীটা আটকাল। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক আছে। গাড়ীর অন্যান্য কাগজপত্র সব ঠিক আছে ! তাই আমাদের ছেড়ে দিল। কিন্তু আমার অজানা জিজ্ঞাসা রয়ে গেল তবে কি ট্রাফিক আইন না মানার জন্য শাস্তির বিধান নেই? গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক মানেই আমি আমার গাড়ি বেপরোয়া হয়ে যাবে!
আমার জানার আগ্রহ রয়ে গেল কিন্তু জিজ্ঞাস করতে গেলাম না ! জানতে গেলেই দেরি হয়ে যাবে রাস্তা এবং লেনদেনের একটা পর্ব যে চলে আসতে পারে এটাও আমাদের মোটামুটি জানা আছে !