বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

অটিস্টিক নির্ঝর আর সেরেব্রাল পালসির সাকিন এরা আমাদের ই সন্তান ।

২ রা এপ্রিল অটিস্টিক দিবস !!
সাকিন
নির্ঝর
এই দুইজন ছেলেকে আমি খুব ভাল করে জানি এবং চিনি। একজন আমার পরিবারের সদস্য অন্যজন আমাদের এক বর ভাইয়ের ছেলে। কাকতালীয় ভাবে দুইজনের বয়স প্রায় একই বলা যায়।
০১. সাকিন আমার ভাসুরের (স্বামীর বর ভাই) একমাত্র ছেলে। সাকিন বয়স এখন ১২+ বছর। শেষ কবে ঘর থেকে বের হয়েছে আমার ঠিক মনে পরছেনা ! সাকিন সব সময় চার দেয়ালে বন্দী । জন্মের শুরুতে নানা চেষ্টা করলেও গত ১০ বছর যাবত আমি দেখছিনা সাকিনকে নিয়ে কেও ভাবছে ! সবাই নিজেকে নিয়ে আছে । ভাই ভাবী ভিতরের চিন্তা ভাবনা মাঝে মাঝে আমার জানার খুব ইচ্ছা হয় কিন্তু সাহস পাইনা কারন অনেক বার জানতে অজানা থেকেই ফিরে আসতে হয়েছে আমাকে। সাকিন এর কি হবে ?? সে বড় হচ্ছে একদিন আসবে যেদিন ভাই ভাবী নাও থাকতে পারে তখন ?
০২. নির্ঝর আমাদের এক বর ভাইয়ের ছেলে। বয়স ১০+ বছর। নির্ঝর-এর অটিজম ধরা পরার পর থেকেই ভাইয়া এবং ভাবি সাথে তাদের পরিবার একটা ভয়ানক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন । নির্ঝরকে নিয়া ওনারা কি না করছেন ? যুদ্ধ করতে করতে গত ৫ বছর যাবত নির্ঝর বাস করছে AUSTRALIA MELBOUNRE এ। আপা এবং ভাইয়ার মতে নির্ঝরের জীবন ওখানেই অনেক ভাল। ও একটা স্কুল পড়াশুনা করে। যেই স্কুলে নির্ঝর পড়ে তার সহপাঠীরা বেশির ভাগই স্বাভাবিক শিশু । ওখানে ওকে আলাদা কোন স্কুল পরতে হয়না। হ্যাঁ এটা সত্যি ওর প্রতি আলাদা যত্ন করে সবাই। গত ৫ বছরে নির্ঝর অনেক উন্নতি করেছে মানসিক বিকাশে । যদিও আপা ভাইয়া অনেক কষ্ট করে ভিসা পেয়েছেন। কারন অটিজম আক্রান্ত বিদেশী বাচ্চাদের ভিসা দিতে চায়না। কিন্তু আপা এবং ভাইয়া দমে জান নি । আপা থাকেন MELBOURNE আর ভাইয়া থাকেন ঢাকা শুধু নির্ঝর এর জন্য ওই জীবনে আছেন উনারা গত ৩ টি বছর। নির্ঝর আজ দৌঁড়ায়, খেলে আর সব স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতই বলা যায় । কেবল কথা বলেনা কিন্তু সব বুঝাতে সক্ষম। আপা ভাইয়া যুদ্ধে অনেকটা এগিয়ে গেছেন । শুধু সম্ভব হয়েছে একটা উন্নত দেশে নির্ঝরকে রাখতে পেরেছেন বলে।
নির্ঝর আর সাকিন এর মধ্যে অনেক তফাৎ । নির্ঝরকে নিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন ওর বাবা মা পুরো পরিবার। আর সাকিনকে সবাই মুখে মুখে আহা ! রে আহা ! রে করে। তবে কি সাকিন বাইরের আলো দেখতে পাবেনা ??
(আমি যখন সন্তানসম্ভবা তখন আমার এক খালা বলেছিলেন শুনো মা তুমি সাকিনের কথা বেশি ভেবো না। ওর দিকে বেশি তাকাইও না। কাছে যেও না । কারন সাকিন CEREBRAL PALSY তে আক্রান্ত)
( নির্ঝর এর মা বাবা অনেক অনুষ্ঠানেই উপস্থিত হতে পারেন নাই কারন নিষেধাজ্ঞা ছিল নির্ঝরকে আনা যাবে না। ওকে দেখলেই সব বাচ্চাদের সরিয়ে নেয়া হল পাগল বলে )
কেউ কি কখন দেখেছে নির্ঝর , সাকিন দের মায়েদের কান্না ? কেউ কি বুঝতে চেয়েছে এই বাচ্চাটির জন্য বাবা মা কেউ ই দায়ী নয় । তবু ও তারা সমাজ বঞ্চিত । কেন ?? আমরা সাধারনরা কেন এত অজ্ঞ ? আমি দেখেছি সাকিন-এর মায়ের কাঁন্না হাহাকার, আমি দেখেছি নির্ঝর এর মায়ের কাঁন্না, যুদ্ধ আর চিৎকার । আমিও একজন মা তাই আমি বুঝি আমার সন্তানটি যেমনি হক সেই আমার কাছে শ্রেষ্ঠ। বড় আদরের।
২১ শে মার্চ ২০১২ এর এই দিনটাকে একটু শেয়ার করি। সেদিন ছিল নির্ঝর এর জন্মদিন। যেহেতু ও দেশের বাইরে থাকে তাই ২০ মার্চ রাতের বেলায় আমি WISH করেছি FACEBOOK এর মাধ্যমে।
সকালে যখন অফিস আসার উদ্দেশে বাসে উঠলাম, আমার পাশে বসা একজন ভদ্র মহিলা আমার সাথে কথা বলতে বলতে বললেন যে উনারও একজন AUTISTIC ছেলে আছে যাকে নিয়ে উনি যুদ্ধ করে যাচ্ছেন গত নয়’টি বছর। ছেলেটার নাম আমার মনে নাই। যাক, ওই ভদ্রমহিলা জয়ী হয়েছেন। তার ছেলে এখন অনেক স্বাভাবিক। ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে উনি ছেলের থেরাপি দিয়েছেন।
সন্ধ্যে বেলা যখন অফিস থেকে বের হব ঠিক তার আগ মূহুর্তে জানতে পারলাম আমার একজন সহকর্মীর ছেলের বয়স ৩.৫ বছর। তারও অটিজম ধরা পড়েছে এবং ডক্টর তাকে বিশেষ স্কুলে ভর্তি করতে বলেছেন সাথে শিশু হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে নিয়ে যেতে বলেছেন।
মনটা ভেঙ্গে গেল ! একদিনে ৩ টি বাচ্চার জীবন সম্পর্কে জানলাম ! এত অটিজম আক্রান্ত বাচ্চা চারপাশে কেন? এর থেকে কি প্রতিকার পাবার আগাম কোন সতর্কতা আছে সন্তান কাঙ্খিত বাবা মা’দের ? বিজ্ঞান কত দিক দিয়ে এগিয়ে গেছে কিন্তু তারপরও কেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অংশগুলো আজ নড়বরে ? দুর্বল ?
২রা এপ্রিল অটিজম ও প্রতিবন্ধী দিবস। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তাদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ দিতে। আমার প্রশ্ন হল আগেতো আমাদেরই বাচ্চাগুলোকে কর্মক্ষম করে তুলতে হবে যার যার শারীরিক বিকাশ অনুযায়ী ।তারপর আসবে তাদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগের কথা। বিশেষ করে AUTISTIC. CEREBRAL PALSY আক্রান্ত বাচ্চদের বেলায়। কয়টা ভাল মানের শিক্ষালয় আছে? চিকিৎসালয় আছে? কয়জন ডাক্তার এর বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ?
একজন নির্ঝর অনেকটা এগিয়ে গেল বাবা মায়ের দূরদর্শী মনোবল এর জন্য । একজন সাকিন আজ চার দেয়ালে গৃহবন্দী। সাকিনদের বাবা মায়েদেরকে এগিয়ে আসতে ওদেরকে ঘর থেকে মুক্ত বাতাসে খোলা আকাশ দেখাতে কে অনুপ্রেরনা দিবে ?
অটিস্টিক অটিজম সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে জানতে হবে। সজাগ থাকতে হবে। একটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ সম্পর্কে সবার সচেতন থাকতে হবে। এই ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে । অটিজম অটিস্টিক বাচ্চাদের সংস্পর্শে গেলে কোন ক্ষতি নেই এরা আমাদেরই সন্তান। এরা আমার আপনার মতই একজন মানুষ।

র‌্যাব ও ক্রসফায়ারের হত্যা উৎসব ?

সন্ত্রাসী ধরতে গিয়ে গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসী নিহত । এটা কোন নতুন ঘটনা নয় । প্রতিটি হত্যাকান্ডের একই ব্যখ্যা! আমাদের RAB বাহিনীর সদস্যারা কি পারেন না জীবিত অবস্থায় প্রতিটি সন্ত্রাসীকে ধরতে? ক্রসফায়ার মানেতো দুই পক্ষের মুখোমুখি গুলি চালাচালি! তাহলে র‌্যাবের কেউ তো গুলি খেয়ে মরছেন না, একজনও আহত হচ্ছেন না! আমরা নাগরিকরা কিছুটা হলেও তো বুঝি এইসব নাটক। তাহলে তো নির্দোষ লিমনকে পঙ্গু হতে হত না । গত বছর সাভারে মারা গেল কয়েকজন ছাত্র যাদের নিতান্তই আড্ডাবাজি করতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে । তারা আইনের সাহয্য চেয়েও পায়নি। পুলিশ’তো পরে স্বীকার করলো।

দোষী ব্যক্তির সাজা দিবে আদালত। আদালতের রায় উপেক্ষা করে প্রায় প্রতিদিনই নির্বিচারে মারা হচ্ছে অজস্র মানুষ। যাদের সবাই যে মৃত্যুদণ্ড পেতে পারে এমন সন্ত্রাসী নয় কিংবা অনেকেই সাধারন পথচারী। অপরাধীদের সাজা অপরাধের ধরণ প্রকৃতির উপর হয়। তাই আমি মনে করি দয়া করে ক্রস ফায়ার বন্ধ করে সন্ত্রাসীকে আদালতের সামনে হাজির করুন, এতে অনেক গোপন তথ্যও বেরিয়ে আসবে সাথে কিছু নিরপরাধ মানুষের জীবন বেঁচে যাবে।
কাউকে মেরে ফেলার অধিকার তো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাই !

অনেক বছর আগে তৎকালিন এসি আক্রামের হতে খুন হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রুবেল। জানি না আমদের কয়জনের রুবেল-এর কথা আছে! কিন্তু আমার মনে আছে। গত সোমবার নরসিংদীতে মারা হলো ৬ জনকে। তাদের মধ্যের নাহিদ ও আরিফ-এর পরিবারের দাবি তারা এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছিল।

আইনের রক্ষকরাই যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তাহলে কাদের উপর আস্থা রেখে আমাদের নিরাপত্তার কথা ভাববো ? এদেশে কবে বন্ধ হবে বিচারবিহীন হত্যাকান্ডের উৎসব? এভাবে কি কোন সভ্য দেশ পরিচালিত হতে পারে?

আমরা গরীব দেশ……।আমাদের দেশে হরতালের রাজনীতি বন্ধ করুন !!!

আমরা যে উন্নয়নশীল দেশ না এটা বলেছেনে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয়। কথাটা তো আসলেই সত্যি । আমরা তো গরিবই।

আমার অফিস সকাল ৯ টা থেকে। গত দুই দিন হরতালের কারনে অফিস যাই নাই। তাই আমাদেরকে আজ বাধ্য করলো অফিস যেতে। এবং আমি অফিস গেলাম সকাল ৬.৩০ এ । কারন, যেন নিরাপদে যেতে পারি। ফিরব কখন ?? রাতের বেলায়। হরতাল শেষ হলে !! এই যদি হয় আর এমন ভাবে হরতাল চলতে থাকে তাহলে তো আমাকে এইভাবেই অফিস করতে হবে। অনেকেই করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কিছু করার নাই। আমিও তৃতীয় দিনে যেতে বাধ্য হলাম। এবং আমাকে পরবর্তীতেও যেতে হবেই হবে। অফিস না আসলে তো হবেনা ! দিনের পর দিন এইভাবে দেশ কোন প্রতিষ্ঠান চলতে পারেনা !!

সব কিছু বন্ধ করে মারামারিতে মেতে উঠে কি দেশের লাভ হচ্ছে ? কত টুকু হচ্ছে ? আমাদের দেশ চালকদের দুই পক্ষের এ যদি এই ধারনা এই রাজনীতিকে পরিহার না করে তবে কি তারা আসলে দেশের উন্নতি চায় ??
হরতাল, খুন, বোমাবাজি এগুলু দিয়ে আমাদের মতো একটি গরিব দেশে কখনই সুফল বয়ে আতে পারেনা ! গাড়ি জ্বালাও, মানুষ মারো , এতে কি পচ্ছি আমরা ? হরতাল কি দিচ্ছে ? এইচ এস সি পরীক্ষাসহ এমন অনেক পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেল। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি ! মারা যাচ্ছে কিছু নিরীহ সাধারন মানুষ !

সকল কল কারখানা থেমে গেছে ! ব্যবসা প্রতষ্ঠান বন্ধ !! চলাচলে নাই নিরাপত্তা !! সর্বত্র কেবল হাহাকার। আমরা হরতালের মত নোংরা রাজনীতি থেকে বের হয়ে যেতে কি পারিনা ?মানুষ খুনের রাজনীতিতে যারা লিপ্ত তারা কি তাদের সন্তান মা বাবা হারাচ্ছেন। তাদের তো সব চলেছে । তারা সকলেই বছরের পর বছর ভি আই পি জীবন যাপন করছে !!…মাঝে থেকে আমাদের মতো খেটে খাওয়া আর দিন মজুররা পড়ছেন চরম বিপদে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানে এই নয় এই রকম খুনাখুনিতে লিপ্ত হতে হবে।

এই দেশ আমার আপনার সকলের !! দেশেকে ভালোবাসলে দেশের জন্য যদি সত্যি কিছু করতে চায় আমাদের বড় দুই রাজনৈতিক দল তবে তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ রইল দয়া করে আপনারা আপনাদের রাজনৈতিক দর্শন বদলান। যুগোপযোগি রাজনীতিতে আসুন। যেটাতে দেশ ও জাতির উন্নতি হবে !!

সাগর রুনি হত্যা রহস্য !!!

সাগর রুনি’কে খুন করা হয়েছে আড়াই মাস পার হয়ে গেল ! এতদিন যাবত খোঁজা হচ্ছিল কে বা কারা খুনি এবং কি কারনে খুন করা হয়েছে ! কিন্তু অবাক করা এটা খবর জেনে বিস্মিত হতে হল । লাশ আবার কবর থেকে উত্তলন করা হবে । রাসায়নিক পরীক্ষা করতে হবে । কারন কবর দেয়ার আগে এই পরীক্ষাটা করা হয়নি । এর মানে কি ? তবে এত বড় এটা খুন হল এর তদন্তের শুরুতেই দেখি গরমিল !! কিসের উপর ভিত্তে করে তাহলে আড়াই তা মাস কাটিয়ে দেয়া হল ?

লাশ উত্তলন হবে। একজন সহকারী ম্যাজিসট্রেট থাকবেন । চুরিকাঘাতে মৃত্যু হয়েছে সাগর রুনি’র এটা জেনে আসছিলাম এতদিন !! কিন্তু RAB এর কাছে মালার তদন্ত পরার পর সব পুরু বেপারটাই এটা গলক ধাঁধায় পরে গেল । যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি ৪৮ ঘন্টর মধ্যে খুনিকে খুজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলন !! সেখানে তো খুনি কিংবা খুনের কারন ও আজ পর্যন্ত দেশবাসী আর নিহতদের পরিবার জানতে পারেনি। সেখানে এখন খোঁজা হচ্ছে কিভাবে খুন হল সেই কারন।

লাশ উঠানো হবে ! নতুন করে মৃত্যুর কারন বের করবে ! খুনের রহস্য বের করতে কাটিয়ে দেয়া হলো আড়াই মাস ! তারপর আরও নাকি কিভাবে খুন হল সেই তদন্ত ঠিক হয়নি !!

কবে খুনি সনাক্ত হবে ? খুনের কারন সনাক্ত হবে । তারপর শুরু হবে বিচার । হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা ! বেঁচে গেলেও যেতে পারে খুনি !

খুনি বেঁচে যাবে । বিচার চলতে থাকবে ! সরকার বদলাবে। নিয়ম বদলাবে।
নিরাপত্তাহীন জীবন নিয়ে আমাদের এভাবেই চলতে হবে বাঁচতে হবে !!কোন অন্যায়ের বিচার পাব না শুধু কেঁদে যাব প্রিয়জন হারানোর বেদনায় !

কঠোর আন্দোলন মানেই হল হরতাল !?!

ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার জন্য সব চেয়ে কঠিন পথটি বেছে নেয়া হয়েছে হরতাল। হরতাল দিলে কি ইলিয়াস আলী বের হয়ে আসবে ? সম্ভব ? দেশ প্রেমিক নেতারা দেখি দেশ প্রেম ভুলে গিয়ে নিজেরে একে অপরকে ঘায়েল করার একটা সুন্দর কারন খুঁজে পেয়েছে ।এক দল অন্য দলকে দোষ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ফলাফল শুন্য !!

হরতাল দেয়া ছাড়া নাকি আর কোন উপায় নেই আন্দোলনের ! ব্যাস শুরু হয়ে যাবে আবার হরতাল ! বন্ধ হয়ে যাবে সাভাবিক জীবনযাপন ! ইলিয়াস আলি আর তার ড্রাইভারকে খুঁজে পেতে চাই আমরা সকলেই !! কিন্তু খুঁজে পেতে হরতালের মত এটা নোংরা পন্থাকে বেছে নেয়া মোটেও ঠিক নয় !!

বরং তাকে কিভাবে খুঁজে বের করা যায় সেই ব্যাপারে সকলের এক হওয়া দরকার ! হরতাল দিয়ে আন্দোলন করে কি খুঁজা যায় ? বরং খুঁজে পেতে সকল কৌশল অবলম্বন করুন !

হরতালের রাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া দরকার আইন করে !! হরতাল কোন কারনেই গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা না !!

বজ্রপাতে মৃত্যুহার বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক !!

বিজ্ঞানের ভাষায় প্রাকৃতিক ভাবে বায়ু মণ্ডলে এর কিছু বিদ্যুৎ তৈরি হয়ে থাকে। যেগুলোর কিছু ধনাত্মক চার্জ আর ঋণাত্মক চার্জ ! আর দুইটি চার্জ মেঘের কাছাকাছি এলে পারস্পরিক বিনিময়ে বিদ্যুৎ চমকায় ! তখন মেঘের নিচে চলে আসে ঋণাত্মক চার্জ । ভু পৃষ্ঠের উপর থাকে ধনাত্মক চার্জ ! এই দুটি চার্জ মিলিত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় যা উপরের দিকে উঠে যায় । ঊর্ধ্বমুখি যে বিদ্যুৎটি উৎপন্ন হচ্ছে সেটাই হল বজ্রপাত ! যার তাপমাত্রা হয় ৩০-৬০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট ! তবে এই বজ্র পাতের স্থায়িত্ব খুবই কম ! মাত্র এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ !
সমীক্ষায় দেখে গেছে যে পৃথিবীতে বজ্রপাতে বাংলাদেশে সব চেয়ে বেশি লোক প্রাণ হারায় ! বর্ষাকাল শুরু হলে সাথে সাথে শুরু হয় বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ! আমাদের দেশের আবহাওয়াবিদদের কাছে বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকলেও কিভাবে সেটা প্রতিহত করা যাবে তা নিয়ে সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কারো কোন মাথা ব্যাথা নাই। আন্তর্জাতিক সমীক্ষা অনুসারে বাংলাদেশে বজ্রপাতের আসল কারন বায়ু দূষণ ! বায়ু দূষণ কমান গেলে হয়ত বজ্রপাতের পরিমান ও কমে যেত !
আমাদের দেশের সরকারের কোন দায় দায়িত্ব কি নাই এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার? যেখানে জাপান, আমেরিকার মত দেশে চলছে গবেষণা !
বায়ুদূষণই যদি বজ্রপাতের আসল কারন হয়ে থাকে তবে কেন বায়ুদূষণ কমানোর জন্য সরকার থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা !! দিন দিন তো বায়ুদূষণ বেরেই চলছে !!
শহর থেকে গ্রাম অঞ্চলেই বজ্রপাতে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে ! এর ব্যাপারে কি কোন পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে? গত মাসে মারা গেল ৭৫ জন ! পত্রিকার পাতা খুললে চোখে পরবেই ! সামনে আরও ঝর বৃষ্টির দিন আসছে !! বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এভবে ক্রমাগত মরেই যাবে?

মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গুলুর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি !!

দেশের সর্বত্র ডকুমেন্ট ছাড়া অবৈধ মোবাইল সিম-এ ছেয়ে গেছে গোটা দেশ। এই দিকটায় সরকারের কোন নজর নাই। এদিকে মোবাইল কোম্পানিগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেয়া দরকার । কারণ, ডকুমেন্ট ছাড়া মোবাইল দিয়ে ক্রাইম করতে বেশি সুবিধা ! এ বিষয়টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও জানার কথা।
একজন মানুষের নামে একাধিক সিম উঠাতে গেলে তারও একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা এবং তথ্য দিয়ে একজন গ্রাহককে সিম দেয়া দরকার ! আমরা দেখছি বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে একটি টুল পেতে বা ফুটপাতে চাদর বিছিয়ে ডুকুমেন্ট ছাড়া সিম বিক্রি হয়। দেশে যেভাবে নানামুখী ক্রাইম বেড়ে চলেছে সেখানে আমাদের সাবধানতার একটা অংশ কিন্তু মোবাইল ফোন । সবচেয়ে আরামদায়ক পদ্ধতি যেকোনো ক্রাইম করতে মোবাইল ফোন-এর বিকল্প নাই ।
এই ব্যাপারে যাথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রের কি কেউ আছে ? মোবাইল কোম্পানিগুলোর সচেতনতা সব চেয়ে বেশি জরুরি ! এরা ঐক্যবদ্ধ হলেই কিন্তু সমস্যাটির সমধান হয়ে যায় ! সবাই তাদের বানিজ্যিক সুবিধাগুলো নিয়ে নানা রকম প্রচারে ব্যস্ত। অনেক কোম্পানি বেশ কিছু জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ও তৈরি করছে। তারা কি এমন কোন বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারেন, যাতে সিম কিনতে গেলে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র লাগবে ? এতে দেশে দুর্নীতির দুষ্ট কৌশল কিছুটা হলেও কমে যাবে বলে আমি মনে করি !!
মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকেই বলছি অবৈধ সিম বিক্রি করছেন বলে অতিরিক্ত ব্যবসা হচ্ছে ! শুধু সাথে যদি কাগজ পত্রগুলো রেখে দেন তাহলে সাধারন মানুষ কিছুটা হলেও নিরাপদবোধ করবে। দুর্নীতি করা লোকদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিবেন না দয়া করে। এক এক করে সবাই সচেতন হলে, নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ আমরাও গড়তে পারব একদিন ইনশাল্লাহ !
এতকিছু বলার পিছনের গল্প হল আমি একজন ভুক্তভোগী ! আমার মত এমন লক্ষ কোটি জনগনও আছেন আমার মত । সম্প্রতি আমি এরকম একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত নানা নাম্বার থেকে আমাকে ফোন দিচ্ছে এবং ভয় ভীতি দেখাচ্ছ। অবাক ব্যাপার হলও একটি সিম থেকে একবার ফোন দিয়ে ঐ সিমটি বন্ধ করে দেয় ! আমি দুটি অপারেটর থেকে ফোন গুলো পাচ্ছি ! পুলিশ-এর এক এএসপি’কে জানালাম উনি ডি বি পুলিশ সেকশনে আছেন ! বললেন, থানায় জি ডি করতে হবে তারপর জি ডি কপি দিলে ব্যবস্থা নিবে ! কাল যাব জি ডি করতে ! দেখা যাক থানাতে আমাকে কতক্ষণ বসে থাকতে হয়? একাজের জন্য আমি ঘুষ দিবনা !! সবগুলো ঘুষখোড়কে আমি শিক্ষা দিয়ে আসব। এটা আপাতত পরিকল্পনা !