বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

ছোটবেলার খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে! দিন গুলো কেমন যেন বদলে গেছে ………

আমার ছেলেবেলা কেটেছে গ্রামে। খুবই দস্যিপনা করে ছেলেবেলাটা পার করেছি !!!! নারিকেল গাছে চড়া থেকে শুরু করে খাল বিলে মাছ ধরাও বাদ দেই নাই। আমি ঠিক এই জিনিস টাই মনে করতে পারছিনা যে ছেলেবেলায় কি করা হয়নাই আমার! সব ধরনের দুষ্টামিতে আমি ছিলাম এক নাম্বার । আমার জ্বালায় সবাই ছিল তটস্থ । সেই আমি আজ চুপসে গেছি ।
যে কোন ধরনের খেলায় আমি সর্বদা চ্যাম্পিয়ন ছিলাম । কাবাডি খেলতাম এক পক্ষ ছেলে অন্য পক্ষ মেয়েরা । গোল্লাছুট , দারিয়াবান্ধা, বউচি, কানামাছি, কুতকুত,পাঁচগুতি, ডাঙগুলি, ইচিং বিচিং, পুতুল খেলা, লুডু , দড়ি লাফ, চরুই ভাতি সব … সব খেলেছি । খুব মনে পড়ছে ফেলে আসা সেই অনাবিল মধুর দিনগুলোর কথা ।
সেই খেলা গুলো এখন প্রায় সবই হারিয়ে যেতে বসেছে । আমি মাঝে মাঝে গ্রামে যাই ।

সেই খেলা কেউ আর খেলেনা …আমার শখের পুতুল গুলো আজ আমার মায়ের ঘরে বাক্স বন্দি । আমার দুরন্তপনা, শৈশব মধুরতা, মায়াময় সুখস্মৃতি সবই যেন ঐ বাক্সে বন্দি হয়ে আছে। আমার মায়ের গভীর ভালোবাসা আমার শৈশবকে বাচিয়েঁ রেখেছে। কিন্তু গ্রামে এখন দ্রুত পরিবর্তন দেখছি… এখনকার গ্রামের বাচ্চারাও শহরের বাচ্চাদের মত টিভি দেখা আর পরাশুনা নিয়ে দিন কাটায় পরীক্ষায় একটা ভাল ফলাফলের আশায় !

আমি এখন নগরবাসির(!) জীবন জাপন করছি !ঢাকা এখন পৃথিবীর অন্যতম মহানগরের একটি। আমি ভাবতে পারিনা সেই দস্যি মেয়েটির যার একজন ছেলে সন্তান আছে আজ ! এই নগর সংস্কৃতির জীবনচর্চায় আমার ছেলেটা গ্রামীণখেলা গুলোর একটা নাম জানেনা । তার বায়না একটা গাড়ি, ভিডিও গেমস ইত্যাদি … ।।

বেশ কিছু দিন হয়ে গেল আমার ছেলের চোখে চশমা । ডাক্তার কারন বললো দুরের জিনিস সে দেখতে পায়না, পায়না সবুজ দেখতে ।। মাঝে মাঝে আমার ছেলেটা কেঁদে উঠে আমাকে জিজ্ঞাস করে “ আম্মু আমার চোখ কখনও আর ভাল হবেনা?? আমি কি চশমা ছাড়া আর কোনদিন দেখতে পাবনা??” আমি মিথ্যে সান্তনায় বলি। হাঁ বাবা তুমি বড় হয়ে গেলে চশমা ছাড়া দেখতে পাবে। আমার ছেলেটা ঘুম থেকে উঠে খুঁজে বেড়ায় চশমাটা কোথায় আছে? আর আমি এই বয়সে চশমা ছাড়া সব দেখতে পাই। নিভৃতে একা একা কাঁদি,কষ্ট পাই ।হায়রে নগর জীবন কোথায় আমার ছেলেটা পাবে একটা আধুনিকতার ছোঁয়া, একটা অবারিত সবুজ খেলার মাঠ । উল্টা সে তার নানুর চেয়েও বেশি পাওয়ার-এর চশমা পরে জীবন পার করছে এবং সারা জীবন করতে হবে ……

মাঝে মাঝে ওকে গ্রামে বেড়াতে নিয়ে যাই। সবুজ দেখতে পার্কে নিয়ে যাই । কিন্তু কি লাভ?? গ্রামের বাচচাদেরকেও আকড়ে ধরেছে শহুরে যান্ত্রিক জীবনে ।। কারও সময় নেই বিকেল হলেই মাঠে ছুটেঁ যেতে । আমি বুঝে উঠতে পারিনা এইসব পরিবর্তন আসলে আমাদের কতটুকু ভালোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে !!!

রাস্তায় শত শত ছাইরঙ প্রাইভেট সিএনজি অটোরিক্সার রহস্য

আমরা কি কেউ জানি এই রহস্যের কারন? কেন কিভাবে বেড়ে গেল এত ব্যক্তিগত অটো রিক্সা ?

বাসা থেকে বের হলেই সবুজ থেকেও বেশি দেখা যায় ছাই রঙের প্রাইভেট সিএনজি অটোরিক্সা ! শুরুতে ভেবেছিলাম হয়ত মালিকপক্ষই নিজের প্রয়োজনের ফাঁকে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে অথবা গাড়ির মালিককে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে চালক বোনাস ভাড়া উপার্জনে যত্রতত্র যাত্রী তুলছে! কিন্তু গতকাল জানলাম আসল তথ্য ! যা অটোরিক্সা চালকরা মিটার ব্যবহার থেকে পুরাপুরি রেহাই পেতে, বাড়তি ভাড়া আদায় করে নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে সবুজ অটো সিএনজি গুলোকে ছাই রঙ-এ পরিনত করে সাধারন যাত্রীদের ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে একটা মহল দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । যেটা দেখার কেউ নাই । ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এগুলো ঝাকেঁ ঝাকেঁ চলছে! ওদের কাছে নিশ্চয়ই হিসাব আছে কোনগুলি বানিজ্যিক ট্রন্সপোর্ট আর কোনগুলি প্রইভেট?

আমরা সাধারন যাত্রীরাও গন্তব্যে পৌঁছাতে ঐসব অসৎ চালকদের সাহায্য করছি মিটার চুক্তিতে না চলেও বলছি আমরা মিটার এ যাচ্ছি। নইলে যে সোনার হরিন সিএনজি আমি পাবনা । পারবোনা পৌঁছাতে আমি আমার গন্তব্যে !
আজ যেদিকে তাকাই শুধু দুর্নীতি আর নিত্যনতুন সব কৌশল আবিস্কার! নতুনরূপে দুর্নীতির নানাপথ বের করার চাতুর্য। কিন্তু বিষবাষ্প থেকে মুক্তির পথ কি কারো জানা আছে? আমরা কেউ কি ভাবছি? এগিয়ে আসছি? একটি বৃহত্তর জোট হয়ে …?

কর্মজীবী পিতামাতার সন্তানকে নিয়ে আর কত দুর্ভোগ ?

আমি এই ব্যস্ত শহরের একজন কর্মজীবী মা । আমার স্বামী সরকারী চাকরিজীবী যার সুবাদে ওর কর্মস্থল ঢাকার বাইরে। বাসায় আমি আর আমাদের ছেলে, সাথে আছে একজন ভাল সাহায্যকারী মেয়ে লিমা (আমরা যাদেরকে কাজের মেয়ে বলে চিনি জানি, কিন্তু আমি বলতে চাইনা)… কিন্তু মেয়েটি লেখাপড়া জানেনা ।

ভোর বেলায় উঠে বাচ্চাকে রেডি করি নিজে রেডি হই তারপর বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে নিজে অফিস যাই । আমার ছেলেকে স্কুল থেকে আনে লিমা তারপর থেকে পুরোটা দিন কাটায় ঐ লিমা’র সাথেই। হুট করে একদিন লিমা চলে যাবে তারপর আমার কি হবে?? সব সময় তো লিমাদের পাওয়া যায়না । (লিমা খুব ভাল মেয়ে) কিন্তু বড় তাই ওর বাবা-মা ওকে বিয়ে দিবে এটাও স্বাভাবিক !! তারপর ও কি কিছু শিখতে পারছে লিমার কাছ থেকে ?

আমাদের দেশে প্রতিটা কর্মস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে ডে কেয়ার সেন্টার (crèche) থাকা দরকার। কারন শুধু বাচ্চার নিরাপত্তার কথা ভেবে কার কাছে থাকবে রাখব ভেবে প্রতিমাসেই চাকরি ছাড়ছে আমার একাধিক সহকর্মী মেয়ে। হাতে গনা যে কয়টা ডে কেয়ার সেন্টার আছে হয় এগুলো খুব নিন্মমানের অথবা সাধারনের ক্ষমতার বাইরে! সার্ভিস চার্জের টাকার অংকটা এত বেশি এ হয় যে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো এর সুবিধাটা ভোগ করতে পারে না।।

বাচ্চার পড়াশুনা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে আমিও ভাবছি চাকরিটা হয়ত ছেড়ে দিব। কিন্তু তারপর! কেউ জানে না আমিও জানি না কি হবে? …

মাতৃত্বকালিন ছুটি ৬ মাস করাটাই শুধু একজন মায়ের কর্মজীবন টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আসল ভুমিকা পালন করেনা বলে আমি করি। কারন সন্তান জন্মাবার পর থেকে প্রতিটি দিনই খুব গুরুত্বপূর্ণ । আর সেই ক্ষেত্রে মা’কেই ছাড়তে হয় চাকরি ।

একজন মা , একজন কর্মজীবী নারী হিসেবে আমার চাওয়াটাও যে খুব বেশি তা নয়। আমি কাজ করতে চাই। এটা রাষ্ট্রের কাছে আমার অধিকারও। আমি আমার সন্তানকে একটা সুন্দর জীবনের পথ দেখাতে চাই যেখানে মায়ের আদর থাকবে সাথে থাকবেনা আর্থিক টানাপোড়নের ভয়ংকর হিসেবের খেলা! আমরা কি আদৌ কোনদিন পাব ? বা পেতে পারি মা ও শিশুর এইটুকু মানবিক সুবিধা ?? যেখানে থাকবেনা দুঃচিন্তায় ভরা একটা জীবন। আমাদের সরকারগুলি কবে এইসব জরুরি মানবিক বিষয়গুলির দিকে নজর দিবে?

বছর বছর টাকার ধরন বদলানো কি চলতেই থাকবে ??

গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের টাকার ধরন বদলেছে ৪৩ বার । তার মানে হল প্রতি বছরে এক বারেরও বেশি । প্রতিনিয়ত এইভাবে টাকার ধরন বদলের জন্য নানামুখি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে । প্রথমত একই টাকার নোট নানা রং এর হওয়াতে টাকা প্রাপককে দিতে ভুল হচ্ছে কখনো চিনতে পারছিনা । সাইজেও রয়েছে একই মানের নানা নোট। যাদের অক্ষরজ্ঞান নাই তারা নোটের রঙ এবং সাইজ দেখে লেনদেন করে। তাদের জন্যও একটা বড় সমস্যা । বেশি কম এর খেলায় সর্বদা দুলছি ।

টাকা কখনো পয়সা হচ্ছে ! বর্তমানে ৫ টাকার কাগজের নোট আছে দুই ধরনের এবং কয়েনও আছে । এক টাকার নোট মাঝে মধ্যে দেখা যায় , তবে কয়েন আছে দুই ধরনের একটা বড় এটা ছোট ব্যাসের । দুই টাকার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। নোট কয়েন দুটোই চলছে। এর কয়েনও দুই ধরনের।
বাজারে প্রচলিত প্রায় প্রতিটি মুদ্রারই বিভিন্ন সাইজ , রঙ, নক্সায় পাওয়া যায় । এতে দৈনন্দিন লেনদেনে একটা ঝক্কি পোহাতে হয়।

গত এক বছরে প্রায় ৩৫ কোটি পিস মুদ্রা ছেপেছে বাংলাদেশ ব্যাংক !
আর ০৭ মার্চ এলো আরও ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার নতুন মুদ্রা !!!
বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষকে কেন্দ্র করে তো নতুন মুদ্রা আসছেই ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সকল সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে ছেঁড়া ও নষ্ট টাকা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ধংস করে দিচ্ছে ! কিন্তু ছেঁড়া টাকার পরিমান কোথায় কমছে?? আমি তো প্রতিনিয়তই ছেঁড়া টাকা পেতে পেতে রীতিমত ছেঁড়া টাকার সংগ্রাহক হয়ে যাচ্ছি । আমার কাছে ছেঁড়া টাকা আসে কিন্তু কেউ আর আমার কাছ থেকে সেটা নেয়না।
আর যে হারে নকল টাকায় পুরো দেশ সয়লাব হয়ে যাচ্ছে সেটাকে কি নিয়ন্ত্রণ করার কেউ আছে ?? বাংলাদেশ ব্যাংক-এর স্ট্রং রূম থেকেও নকল টাকা ধরা পড়ে! তবে নকল ধরতে করা যাবে? কবে হবে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ দুর্নীতি মুক্ত ??!!

দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রাপ্তি!!!!!

বিডিআর বিদ্রোহে নিহত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত পরিবার বর্গকে জানাই আমার সালাম শ্রদ্ধা ভালবাসা । যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে গেল তারা কি পেলো ? তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি পেল??
বি ডি আর বিদ্রোহে নিহতদের পরিবার কে সকারের পক্ষ থেকে অনেক সুবিধাই দেয়া হয়েছে । কিন্তু তাদের সন্তান কিংবা পরিবারের অন্য সব সদসসদের যদি কর্ম ক্ষেত্র, ভর্তি পরীক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে একটা আলাদা কোটা দেয়া হলে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপকৃত হত এবং একটা আলাদা সন্মানে ভূষিত হতো । এককালীন টাকা , একটা বাড়ি/ফ্ল্যাট দিয়ে তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ বলে আমি মনে করিনা ।
আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মগ্রহন করিনি, কিন্তু বিডিআর বিদ্রোহের সময় প্রাপ্ত বয়স্ক একজন নাগরিক। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কান্না ও চাপাকষ্ট আমি প্রতিটি মূহুর্ত দেখছি বলা যায় । যার প্রিয়জন হারিয়ে গেছে সেই কেবল জানে প্রিয়জন হারানোর বেদনা কত তীক্ষ্ণ কত বর্ণহীন । আমরা অনেকেই নিহতদের প্রিয়জনদের কান্না দেখে কেঁদেছি, কষ্ট পেয়েছি কিন্তু পরক্ষণে ভুলেও গেছি কারন আমিতো আমার পরিবার থেকে কাউকে হারাইনি । আমার পরিবারতো আমার সাথে আছেই । আমরা এখন প্রতি বছর “ বিডিআর বিদ্রোহ” দিবস পালন করি । আর মাঝে মাঝে শুনে থাকি বিচার কাজ চলছে! কবে শেষ হবে এই প্রক্রিয়া!! কবে সেই খুনিদেরকে শাস্তি দেয়া হবে তিলে তিলে ! ফাঁসি কিংবা যাবত জীবন কারাদন্দের থেকেও ভয়ঙ্কর শাস্তি এই খুনিদের প্রাপ্য ।
আমরা কোন সভ্য দেশের নাগরিক ? দেশ রক্ষার কাজে নিয়জিতরাই একজন আরেক জনকে হত্যা করছে! আমরা তাহলে কাদের হাতে তুলে দিলাম দেশের দায়িত্ব? আমরা’তো নিজেরাই নিজেদের ভাল চাইনা! একে অপরের শত্রু আমরা! পোশাক আর নাম বদলালেই কি আমাদের চরিত্র বদলে যাবে? আমরা কি পারবো সভ্য হতে! তবে কি রঙ আর কাপড় সবাইকে পরিবর্তন করে দিতে পারবে? কোন দিন পারে?
দেশের জন্য জারা জীবন দিল তাদের প্রতি আমাদের যথার্থ সন্মান আমরা কি দিতে পেরেছি আজও ? মুক্তিযোদ্ধার সন্তাদের জন্য কোটা আছে ঠিকই কিন্তু দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা কি পাচ্ছে সেই সুযোগ কিংবা সন্মানটুকু? আমি তো দেখছি পাচ্ছে না । কারন আমার বোনের ছেলে পায়নি। আমার দুলাভাই একজন মুক্তিযোদ্ধা । লড়াই হয় সন্তানে সন্তানে । কারন কোটা থেকে নাকি সন্তানের সংখ্যা বেশি? আর যে পরিমান মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দেয়া হয় এটা কি আদৌ কার্যকর এই দ্রব্য মুল্যের উর্ধগতির বাজারে? এটা খুবই অমানবিক, অসম্মানজনক অংক।
মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তাদের মাঝেই যদি লড়াই করে জিততে হয় পেতে হয় সোনার হরিন নামক চাকরি কিংবা পদ তাহলে তাদের জন্য কোথায় রইল আর আলাদা কোটা ?
যুদ্ধাপরাধীদেরর বিচার যেমন খুব জরুরিভাবে দরকার ঠিক তেমনি মুক্তি যোদ্ধাদেরকেও তাদের প্রাপ্য সন্মান, অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ঠিক না। কিন্তু দেশের অনেক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারই রাষ্ট্রীয় সুবিধা বঞ্চিত ।
আমরা কত ত্যাগস্বীকার করে স্বাধীন হলাম ! আমরা এবার আমাদের নিজেরা নিজদের হত্যা করলাম এই হলাম আমরা স্বাধীন দেশের সুস্থ নাগরিক! এই আমাদের দেশ প্রেম! আর স্বধীনতার অর্জিত জ্ঞান …?

আমার মামা আছে বলে আমি বেঁচে গেলাম ! যাদের মামা নেই তাদের উপায় কি?

আমি একজন কর্মজীবী নারী,মা,স্ত্রী মেয়ে, মামি, কাকি, চাচি, নানু, দাদি। সব মিলিয়ে আমি একজন পুর্ণাঙ্গ মানুষ । সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত ।আমি নিজেকে সর্বক্ষেত্রে সফল মনে করি ।
কিভাবে শুরু করব বুঝতে পারছিলাম না তাই শুরুটা পড়ে হয়ত অনেকেই বিরক্ত হবেন, হাসবেন। আমি লেখালেখিতে পটু নই। কেবল চেষ্টা করি কিছু প্রকাশ করতে চারপাশে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা কিংবা অভিজ্ঞতা গুলো।
মূল কথায় আসি এইবার
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে হয়ে যাই পাক্কা গৃহিণী তারপর বাচ্চাকে তৈরি করে স্কুল দিয়ে আসি নিজেই। তারপর যাত্রা শুরু করি কর্মস্থলে । আমি একটি বেসরকারি কম্পানিতে কাজ করছি ২০০২ সাল থেকে। শুরু থেকেই আমি আমার ডিপার্টমেন্টে একা মেয়ে কর্মী। মাঝে একজন জয়েন করেছিল, কিন্তু ২ বছর কাজ করে দেশের বাইরে চলে গেছে। কর্মক্ষেত্রে আমাকে কখনো বাজে অবস্থায় পরতে হইনি বিশেষ করে আমার পাশে বসে যারা কাজ করেন।
অফিস শেষে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে রাতের বেলায় একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়তে যাই । অদ্ভুত ব্যাপার হল সেখানেও ৩০টা ছেলের মাঝে আমি একজন নারী। আরও অদ্ভুত হল ছেলেগুলো সবাই আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট এবং খুবই ভদ্র ।
রাতের বেলায় যখন বাসায় যাত্রা শুরু করি তখন আমি বাস বাহনটাকেই নিরাপদ মনে করি। তাই বাসেই চড়ি। শুরুতে রাস্তায় স্টপেজে এত রাতে দাঁড়ায়ে বাস এর জন্য অপেক্ষা করাটা একটু বিপদ আর আতঙ্কের মনে হত। তাই বাসের জন্য অপেক্ষা করার জায়গাটা বেছে নিলাম পুলিশ বক্স এর সামনে । কিন্তু আমি দেখলাম যাদের আমি নিরাপদ ভাবছি তারাই বেশি নোংরা এবং ভয়ের! শিকার হতে হয় নির্বাক ইভ টিজিং এর ! তাহলে রাতের বেলায় একজন পথচারী কোথায় সবচেয়ে নিরাপদ? সে যদি হয় একজন নারী পথচারী !!!
বাস উঠলেই আমি নিরাপদ এবং দেখি আমার মত অনেক অনেক মেয়েরাই রাতের বেলায় বাইরে থেকে ঘরে ফিরে যায়।
আমরা কি পারিনা আমাদের চরিত্র বদলাতে? একজন পুলিশ সদস্যই যদি ইভ টিজিং করে তাহলে কি দাঁড়ালো? আইনের লোক নিজের হাতে আইন তুলে নিল অনৈতিক স্বভাবের কারনে । তাহলে আমি যদি রাস্তায় বিপদে পড়ি নিরাপত্তার ছাউনিটা কোথায় আমার কিংবা আমাদের?
কিছুদিন আগে আমি সৈনিক ক্লাবের ভিতর দিয়ে কচুখেত বাজার এ যাচ্ছিলাম । কোন যান বাহন না পেয়ে ভাবলাম হেঁটে চলে যাই । যেহেতু সেনা এলাকা তাই পুরো নিরাপদ । আমি হেঁটে অনেকটা পথ পাড়ি দেয়ার পর একজন নিরাপত্তা দায়িত্ব নিয়োজিত একজন নিরাপত্তা কর্মী আমার হাটার গতি রোধ করে অযথা এক গাদা প্রশ্ন করল। তারপর আমি আমি আইডি কার্ড দেখাতে চাইলে সে আমার অফিস এর ভিজিটিং কার্ড চেয়ে নিল এবং বেশ কয়েকটা আপত্তিকর কথা বলল। তারপর আমি যা করলাম । একটা দুরত্ব অতিক্রম করে আমার মামাকে ফোন দিলাম । মামা বিমান বাহিনীতে আছেন কমান্ডার হিসেবে। মামা তাৎক্ষনিক সব জেনে ঐ নিরাপত্তা কর্মীর নাম জেনে নিয়ে আমার ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করলেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলেন।
আমার মামা আছে বলে আমি ঐ যাত্রা রক্ষা পেলাম । আমার মামা আছেন বলে আমি সাহস নিয়া অদের সাথে তর্কও করেছি !
যাদের মামা খালু কেউই নাই তারা কি করতেন কি করবে? আমরা কি তবে নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের কাছেই জিম্মি? যারা দুষ্ট লোকদের শায়েস্তা করবে তারাই যদি দুষ্ট হয় তাহলে সাধারন দুষ্টদের কে সাজা দিবে?
আমাদের নিরাপত্তা কে দিবে ? আমরা কাদের কাছে সাহায্য চাইব ? এরাতো আমাদের জন্য কাজ করছে না। অথচ আমাদের ট্যাক্সের পয়সায় বেতন নিচ্ছে !

ভোট দিব কোথা থেকে ?!! কিভাবে ?!!

সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন । কিভাবে ভোট দিব বুঝতে পারছিনা ! কারন আমাদের যখন ভোটার তালিকায় নামে ওঠে তখন আমরা ছিলাম মিরপুর এলাকায়। সম্প্রতি মিরপুর ছেড়ে আমি ও আমার পুরো পরিবার এখন মোহাম্মদপুর বাসিন্দা । আমার পরিবারে ভোটার আছে ৪ জন । কিন্তু আমি কি পারব মোহাম্মদপুর থেকে ভোট দিতে আমার পছন্দের প্রার্থীকে?