বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

রাস্তায় শত শত ছাইরঙ প্রাইভেট সিএনজি অটোরিক্সার রহস্য

আমরা কি কেউ জানি এই রহস্যের কারন? কেন কিভাবে বেড়ে গেল এত ব্যক্তিগত অটো রিক্সা ?

বাসা থেকে বের হলেই সবুজ থেকেও বেশি দেখা যায় ছাই রঙের প্রাইভেট সিএনজি অটোরিক্সা ! শুরুতে ভেবেছিলাম হয়ত মালিকপক্ষই নিজের প্রয়োজনের ফাঁকে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে অথবা গাড়ির মালিককে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে চালক বোনাস ভাড়া উপার্জনে যত্রতত্র যাত্রী তুলছে! কিন্তু গতকাল জানলাম আসল তথ্য ! যা অটোরিক্সা চালকরা মিটার ব্যবহার থেকে পুরাপুরি রেহাই পেতে, বাড়তি ভাড়া আদায় করে নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে সবুজ অটো সিএনজি গুলোকে ছাই রঙ-এ পরিনত করে সাধারন যাত্রীদের ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে একটা মহল দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । যেটা দেখার কেউ নাই । ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এগুলো ঝাকেঁ ঝাকেঁ চলছে! ওদের কাছে নিশ্চয়ই হিসাব আছে কোনগুলি বানিজ্যিক ট্রন্সপোর্ট আর কোনগুলি প্রইভেট?

আমরা সাধারন যাত্রীরাও গন্তব্যে পৌঁছাতে ঐসব অসৎ চালকদের সাহায্য করছি মিটার চুক্তিতে না চলেও বলছি আমরা মিটার এ যাচ্ছি। নইলে যে সোনার হরিন সিএনজি আমি পাবনা । পারবোনা পৌঁছাতে আমি আমার গন্তব্যে !
আজ যেদিকে তাকাই শুধু দুর্নীতি আর নিত্যনতুন সব কৌশল আবিস্কার! নতুনরূপে দুর্নীতির নানাপথ বের করার চাতুর্য। কিন্তু বিষবাষ্প থেকে মুক্তির পথ কি কারো জানা আছে? আমরা কেউ কি ভাবছি? এগিয়ে আসছি? একটি বৃহত্তর জোট হয়ে …?

নারী দিবস ও নারী অধিকার

৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস । এই দিবস উপলক্ষে সারা দেশে চলবে নানা সভা সেমিনার র‌্যালী সিম্পোজিয়াম… । কত বাণী কত উক্তি কত পরিকল্পনা কত স্বপ্ন জয়ের আকাঙ্খা । কিন্তু দিনটি পার হয়ে গেলেই সব হয়ে যায় আগের মতই ফ্যাকাসে, মলিন ও করুণ !

৮ মার্চ কি নারী নির্যাতন হবেনা ? এই দিনেও নির্যাতনমুক্ত নয় নারী! আগামী কালের সংবাদপত্র খুললেই তার প্রমাণ মিলবে!

নারী দিবস উপলক্ষে আমাদের দেশের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি নিয়েছে একটি অদ্ভুত পদক্ষেপ !!! এই দিনটিতে ঐ জায়গায় কর্মরত সকল পুরুষ কর্মীরা নারী কর্মীদের জন্যে বাসা থেকে খাবার তৈরি করে নিয়ে আসবে। এবং পুরুষ কর্মীদের বাসার সকল রান্না গুলোও করতে হবে !! পদক্ষেপ’টি আমার ভাল লেগেছে । মনে হয়েছে একটু হলেও তো আলাদা একটা কার্যকর এবং ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ । আমি একজন নারী কর্মী হিসেবে এটা পেতে ইচ্ছে করছে !!! কিন্তু হবে না । কারন আমার সাথে কাজ করা পুরুষ সহকর্মীদের মানসিকতা এত উন্নত না যেটা আমি বিগত দিন গুলো থেকে দেখেছি, পেয়েছি এবং জেনেছি !!! তবু আশা করি এক দিন হয়ত হবে…।।

মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪ মাস থেকে ৬ মাসে উন্নিত করা হয়েছে । এটাকে নারী স্বাধীনতা , নারীর একান্ত নিজের সুবিধা মানতে আমি নারাজ। কারন এই আগত সন্তানটি পুরুষ নারী দুজনেরই ।

একটা মেয়ে আজও রাস্তায় নির্ভয়ে হাঁটতে পারেনা ! আমাদের সমাজে একজন নারীর সঙ্গে ”ইভ টিজিং” শব্দটা জড়িয়ে আছে, ছিলো এবং আর কতদিন থাকবে ? রাতের বেলায় চলাচল’তো আজও মারাত্মক ভয়ের !
যৌতুকপ্রথা বন্ধ হয়নি আজও । কন্যা সন্তান হলেই বাবাকে আজ বলা হয় কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা !!!
গৃহ কর্মী নির্যাতিত, নারী এসিড দগ্ধ, প্রতিদিন যৌন নির্যাতনের স্বীকারও নারীকেই হতে হচ্ছে ! কোথায় নিরাপদ একজন নারী ??

বাস’এ মেয়েদের জন্য ৯ টি সিট বরাদ্দ আছে। আসলে ওখানে লিখা আছে “নারী শিশু ও প্রতিবন্ধী ” …তাহলে ৩ ভাগ করলে মেয়ে আসন পাবে ৩ টি । মেয়েরা সমঅধিকার চায়, আলাদা বসার আসন চাওয়া যাবেনা এটা হল বাস এ চলাচলকারি আমাদের সন্মানিত পুরুষ ভাইদের বক্তব্য । যদি সমঅধিকার দেয়া হয় তাহলে’তো ৪০টি সীটের মধ্যে ২০টি পাওয়ার কথা? চলন্ত পরিবহণে এই ধরনের গলাবাজি করে নিজেদের ছোট মনে পরিচয় দান করেন । ছেলেরা যেদিন নিজদের হাত ও শরীর সংযত করে চলাচল করতে পারবে সেদিন এই ধরনের গলাবাজি করাটাও ঠিক হবেনা কারন মহান আল্লাহ পাক নিজেই মেয়েদের ছেলেদের থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল করে তৈরি করে পাঠিয়েছেন। বিশেষ করে শারীরিক শক্তি’টা ।

কাল রাত ৯ টায় বাস উঠলাম আর দেখলাম ৬০ জোড়া চোখ আমাকে দেখছে ! ওঁদের হয়ত জিজ্ঞাসা আমি নারী এত রাতে বাইরে কেন !!! মনে মনে ভাবলাম আর অবাক হলাম হায়রে আমাদের দেশ, হায়রে আমাদের চরিত্র মানসিকতা কত নিচু !! পাশে বসা কয়জন’তো রীতিমত আমার নিঃশ্বাস পরাটাও গুনে যাচ্ছে মনে হচ্ছিল ! তবে আমাকে যে আপাদমস্তক একটু পর পর অনুসরণ করছিল এটা ভালভাবেই টের পাচ্ছিলাম !

আমার স্বামী একটু পর পর আমাকে ফোন করে খোঁজ নিচ্ছে আমি কোথায়? কত দূর…? নিজেকে মনে হল চিড়িয়াখানায় বন্দি করে রাখা একটা চিড়িয়া । যেটাকে দেখছে উৎসুক জনতা!

নারী দিবসে আমার পক্ষ থেকে সকল নারীর প্রতি রইল অনেক ভালোবাসা, শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা । আর ছেলেদের প্রতি রইল হাজার লক্ষ কোটি সালাম !!

আসুন আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর দেশ গরে তুলি লিঙ্গ ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে শুধু নিজেদেরকে সভ্য মানুষ জাতি বানিয়ে তুলি ।
বদলে যাও
বদলে দাও
আমি বদলাব কথা দিলাম
বদলে দিব সব কথা দিলাম
সবাই এই অঙ্গিকার করি । পারবই আমরা । যে জাতি মায়ের মুখের ভাষার জন্য, দেশের স্বাধিকারের জন্য লড়েছি আজ আমরা কেন নিজদের মাঝে ইভ টিজিং , নির্যাতন, শোষণ, অপমান, লাঞ্ছনা ধরনের শব্দ গুলো নিয়ে মাতা মাতি করব? আমাদের অভিধান থেকে আমরা এই শব্দ গুলো চিরতরে মুছে দিতে চাই।

যানজট নিরসনে পদক্ষেপ হল মিশুক চলাচল বন্ধ !

অটোরিক্সা মিসুক বন্ধের এই হাস্যকর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমি । এই পরিবহনটি সাধারন গরিব মানুষের বাহন। আমরা যদি একটু ভেবে দেখি একটা মিশুক রাস্তায় কতটুকু জায়গা দখল করে আর একটা প্রাইভেট কার কতটুকু জায়গা দখল করে? রাস্তায় পয়সাওয়ালা লোকেরা রাজার হালে চলাচল করবে আর আমাদের মত সাধারন মানুষের উপর চাপিয়ে দিবে যানজট নিরসনের সকল দায়ভার ??

রিক্সা বন্ধ , মিশুক বন্ধ, হলুদ ট্যাক্সিক্যাবতো নাই বললেই চলে । আছে ভাঙ্গাচুড়া জরাজীর্ণ কালো ট্যাক্সি আর সবুজ রং এর সিএনজি অটোরিক্সা! রাস্তায় সিএনজি’তো এখন সোনার হরিণ আর গগনচুম্বি টাকা আব্দার ! তাহলে সাধারন মানুষের জন্য বাকি রইল একমাত্র লোকাল বাস বা মুড়ির টিন! কারন সুবিধামত উঠতে নামতে হলে তো লোকাল বাস এর বিকল্প নাই !! কিন্তু আই বাস গুলোতে আদৌ কি চড়া যায়? সবাই কি চড়তে পারে??

ভি আই পি’রা যাবে তাই হঠাৎ করেই রাস্তা বন্ধ । আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের আটকে রেখে নিজে পার হয়ে যান যানযট মুক্ত একটা রাস্তা দিয়ে ! কিন্তু তার জন্য যে সময়টুকু সবগুলো যানবাহন অটকে থাকে তার পরে ছেড়ে দেবার পর সারাদিনের জন্য ঐ রাস্তায় কঠিন জ্যাম লেগে থাকে।

মাননীয় জনগনের প্রতিনিধিবৃন্দ আপনাদের নিরাপত্তা দরকার আছে বুঝলাম আর আমাদের মত সাধারন মানুষদের কি জীবনের কোন মূল্যই নাই আপনাদের কাছে ?

যানজট নিরসন মানে সাধারন জনণের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে একটা কঠিন দূভোগপূর্ণ জীবন !!!
বেশি বলে কি হবে ?? কে শুনবে আমাদের কথা !!! ৫০ হাজার পারিবার আজ বেকার কারন মিশুক চালকদের বিকল্প কাজের বন্দবস্ত না করেই এই ধরনের পদক্ষেপ কতটাযৌক্তিক ?? কত টা কার্যকর, কতটা মানবিক এটা কি কেউ ভেবে দেখেছে??!!!

বর্ষার আগমন ! হৈ হৈ রৈ রৈ যত্রতত্র রাস্তা খোড়াখুড়ি শুরু !!

এটা ঢাকা শহরের নিত্য বছরের চিত্র। অনেক কিছু বদলে গেছে গত এক দশকে। কিন্তু এই দৃশ্যটা বদলায়না! এটাই এই দেশের নিয়ম! বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই যেভাবে রাস্তা খোড়াখুড়ি শুরু হয়ে গেছে তা জনজীবনে ফেলেছে বিরাট দুর্ভোগ ! প্রতি বছর রাস্তা খোড়া হচ্ছে ! কিন্তু কেন ?

রাস্তা খোড়ার আগেই বিরাট আকারের পাইপে ছেয়ে গেছে রাস্তা !!! বন্ধ করে দিচ্ছে যখন তখন যেকোনো চলমান রাস্তা !!! কেন এই অনিয়ম ?? আমাদের দেশের বর্ষা প্রেমিক রাস্তা খোড়াখুড়ি বিশেষজ্ঞদের কি এই খনন কাজ আজীবন চালিয়ে জীবিকা নিরবাহ করার এই পন্থা? কি মধু আছে এইখানে যা শুধু বর্ষাকালে বেরিয়ে আসে? তাদের এই মধু খাওয়ার জন্য আমাদের মত সাধারন নাগরিকরা ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে আটকে থাকি। সরকারের বিশেষজ্ঞরা কি বোঝেন কি যাতনা, কত দুর্ভোগ আমাদেরকে সইতে হয়? এই নাটক আপনারা কবে বন্ধ করবেন ??

ছবি সংযুক্ত করার সুবিধা রাখা যায় কি ??

মাঝে মাঝে কিছু তথ্য পাই এবং দিয়ে থাকি আমরা । কিন্তু সাথে যদি ছবি সংযুক্ত করার সুবিধাটা একটু হলেও থাকতো তবে আমার মনে হয় সবার জন্য ভাল হতো এবং এটা সচিত্র প্রতিবেদন এখানে প্রকাশ পেয়ে যেত । এবং খুব অল্পতেই যে কোনো ব্যাপার সহজেই তুলে ধরা যেত ।

আমি আশা করবো এই প্রস্তাবটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখবেন এবং আমাদের সকল ব্লগ ইউজার উপক্রিত হবে ।

গ্রামগুলো আর আগের মত নাই !!!!!!!

আবাদি জমিগুলো ছেঁয়ে গেছে সবুজ ফসলে। বর্ষা শুকায়ে যাবে আর সবুজ ধান গাছগুলো পেকে আস্তে আস্তে হলুদ হয়ে মাটিতে নুয়ে পড়বে । এই স্বাভাবিক দৃশ্যটা যে কতদিন হয়ে গেল দেখিনা !!!…

জমিতে চাষি চাষ করেনা লাঙ্গল দিয়া !!! পোকা আর আগাছা নিধন করে বিষাক্ত ওষুধ দিয়ে। মাটির উর্বরতা হারাচ্ছে দিন দিন।

বর্ষার পানি কমে যাবে আর মাছ ধরার হিড়িক পড়বে এটাও ছিল একটা নিত্য নৈমিত্তিক দৃশ্য।
ঝাঁকে ঝাঁকে পুটি, কই, বোয়াল, শোল, খলসে, ভেটকি ইত্যাদি মাছে ভরে যেত ! সবই আজ স্মৃতি ! কারন আজ আর সেই মাছের ঝাঁক নেই! হারিয়ে গেছে। পুকুরে নেই জিয়ল মাছ । এর পরিবর্তে চাষ করা হচ্ছে হাইব্রিড পাঙ্গাস,তেলাপিয়া, সিলভার কাপ, গ্লাসকাপ। দেশীয় মাছ রক্ষায় নেই কোন পদক্ষেপ নাই। মৎস মন্ত্রণালয়ের কাজ দেখি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে আর বছরে একবার মৎসপক্ষ পালন করতে ।

রাস্তার পাশে নাই সারি সারি গাছ । গড়ে উঠেছে সারি সারি বাড়ি । আবাদি জমি গুলো ও ঢেকে যাচ্ছে নতুন নতুন বাড়িতে । সবাই ব্যস্ত নগর পরিকল্পনা নিয়ে! কিন্তু যেভাবে দ্রুত আবাদি জমি কমে যাচ্ছে একের পর বাড়ি তুলে সেদিকে কারও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই ।

গ্রামের বাতাসও ছেঁয়ে গেছে দুষিত কালো ধোঁয়ায় । কিভাবে বাতাস রক্ষা হবে?? কোথায় গেলে একটা সস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবো আমরা? এই মহাবিবর্তন নিয়ে কি কেউ ভাবে?? আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ কি? তারা কোন পরিবেশ রক্ষা করে? কই আমি তো আমার গ্রামের বাতাশ, জমি রক্ষা করার সাহায্যে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখি নাই। আশা করছি আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটা গ্রামেরই এরকম বেহাল দশা !!!

পাল্কিতে চড়ে এখন আর বউ শশুর বাড়ি যায়না । কারন গ্রামের মানুষের গায়ে লেগেছে আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ছোঁয়া ।

বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়নাই আজও । পারিবারিক কলহ বেড়েই চলেছে। আমার ছেলেবেলার সাথী সালমা ছিল! যাকে তার স্বামী ও জা মিলে মেরে ফেলেছে । পলি আরেক বান্ধবি যার সাথে দেখা হয়না ৬/৭ বছর। এমন আর অনেক গ্রামের বান্ধবী আছে যাদের নেই কোন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যেখান থেকে তাদের খুঁজে নিব। হয়ত কোন একদিন দেখা হলেও হতে পারে! মাঝে মাঝে এইসব কারন গুলোর মাঝে খুঁজে পাই গ্রামকে।

ছোঁয়া লেগেছে মোবাইল ফোনের , ডিশ এন্টেনার । পশ্চিমা সংস্কৃতির জোয়ার লেগেছে শহর গ্রাম সবখানে। হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্ব দেশীয় ঐতিহ্য ।

যেই গ্রামে কাটিয়েছি জিবনের অর্ধেকটা সময়। আমার গ্রামের স্কুলের ভবনটি আজ আগের মত দাঁড়িয়ে আছে। যেই বিদ্যালয়টি থেকে আমি ও আমার বাল্য বন্ধুটি এক সাথে পড়াশুনা করেছি সেটি আজ কালের সাক্ষী আমাদের দুজনের কাছে। কারন আমার সেই বাল্য বন্ধুটি’ই আজ আমার জীবন সঙ্গী। তার সঙ্গেও কেটে যাচ্ছে আমার জীবনের দশটি বছর!!! শশুর বাড়ি, বাবার বাড়ি পাশাপাশি হওয়াতে আমাকে অনেক বেশি গ্রামে যেতে হয় এবং আমি যেতে ভালোবাসি। আমাদের গ্রামে এখন আর আমাদের পরিবারের কেউ থাকেনা। তবুও আমি যাই। হেঁটে চলে আসি। দূর থেকে সালাম করে আসি আমার দুই বাবা’র (নিজের বাবা, শশুর বাবা) কবর।

ফিরে যেতে ইচ্ছা করে মাঝে মাঝে। কিন্তু পারিনা যেতে কারন নিজেকে বুঁনে নিয়েছি এই নগর জীবনের সাথে। মাঝে মাঝে ভাবি হয়ত একদিন ফিরে যাব । আদৌ কি যাব ?? যেতে পারব?? জানিনা। সবই অজানা। তবুও ভেবে নিজেকে দেই পলাতক শান্তনা ।

আমি আমার গ্রামদেশকে খুব ভালবাসি। আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি । কারন আমার গ্রামের বাড়ি আছে, ছিল এবং ইনশাল্লাহ থাকবে। আমি গ্রামের মেয়ে এইটা বলতে আমার লজ্জা লাগেনা! উল্টো গর্বে বুক ভরে যায়! কারন আমি মাটির ছোঁয়া পেয়েছি ।

শহরের বসবাসকারি অনেকেরই গ্রামের বাড়ি নাই। না থাকাটা কোন অপরাধ না। কিন্তু অবাক হই, করুনাও হয়, তাদের যখন দেখি খুব দম্ভ দিয়া বলে…আমি কখন গ্রামে যাইনি । আমাদের গ্রামের বাড়ি নাই। যারা এই দম্ভ নিয়ে কথা বলেন তারা হয়ত জানেনই না যে তাদের কি নেই?? আমি বুঝি কিছুই নেই!

আসুন আমরা আমাদের দেশকে, গ্রামকে রক্ষা করি নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সোচ্চার হই………

চাকরির দরখাস্তে ব্যাংকড্রাফ্‌ট বানিজ্য বন্ধ করতে অন্দোলন করুন

একটি চাকরি কবে পাবো আদৌ জানি না! কিন্তু একের পর এক বাবার কাছ থেকে চেয়ে নিতে হচ্ছে ব্যাংকড্রাফ্‌টের টাকা …।। কত হাজার টাকা যে ব্যাংকড্রাফ্‌ট এর পেছনে খরচ করতে হয় একজন বেকারকে এটা কেবল সেই বেকার আর তার পরিবারই জানে। তারপরও কি মিলে চাকরি নামের সেই সোনার হরিন ?? সরকারি বেসরকারি সকল চাকরিতে ব্যাংকড্রাফ্‌ট এর নির্দেশনা আবশ্যিক…… ৫০০/৩০০ চলছেই চলছে……।।

ডিজিটাল বাংলাদেশে শুধু চাকরির দরখাস্ত করতে গিয়ে একজন বেকারকে তার বাবার কাছে থেকে দিনের পর দিন হাত পাততে হয় তবে কিভাবে কি করবে আমাদের বেকার সমাজ? ডিজিটাল পদ্ধতিতে দরখাস্ত জমা দিতে হয় তাই কত আর সাইবার ক্যাফেতে যাবে ?? সেখানেও সময় ভিত্তিক বিল, সার্ভিস চার্জ। তাই নিজ বাসায় লাগবে এটা কমপিউটার সাথে লাগবে ব্রডব্যান্ড নেট কানেকশন। বাহ্ এখানেও খরচের বাহার , তারপর দৌড় ঝাপ শুরু অমুক ব্যাংক অমুক শাখা খুঁজতে। কারন বিজ্ঞাপন দাতার নির্দেশে ওখান থেকেই করতে হবে সেই কাঙ্খিত ব্যাংকড্রাফ্‌ট টি………।

কবে বন্ধ হবে এই ব্যাংকড্রাফ্‌ট বানিজ্য ?? যা চাকরি দাতা সংস্থা গুলোর মানুষের রক্ত চোষা মনোভাবকে বলদে দিতে সাহায্য করবে? ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে তরুণদের কি লাভ হলো? সরকারের একটি নির্দেশই বেকারদের এই ভয়াবহ অর্থ যোগান যন্ত্রণা থেকে রেহাই দিতে পারে। কিন্তু আমরা বুঝে গেছি কোন সরকারই এই কাজটি করবে না। এটা হলে তাদের সুবিধাভোগী অনেকের বাড়তি আয় বন্ধ হয়ে যাবে।