বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

রাস্তায় ‘সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত’ নোটিশ কতদিন/ কত সময়/ কত মাস এবং কত বছরের জন্য?

রাস্তা খনন এটা তো নতুন কোন কাজ নয় অন্তত ঢাকা শহরে। বছরে একটা রাস্তা কতবার খনন করা হয় তার একটি উদাহরণ দিচ্ছি, যেটা দিয়ে আমি গত ৪ বছর যাবত প্রতিদিন যাতায়াত করছি। ্এই রাস্তাটা ২০১২ সালের মার্চ থেকে অক্টোবর ২০১২ পর্যন্ত খনন কাজ চলছিলো পয়নিস্কাশন পাইপ বসানোর জন্য ! যেখানে প্রায় ৭-৮ ফুট ব্যাসার্ধের বড় বড় পাইপ বসানো হয়েছে। সেই রাস্তাটাই আবার চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আবার কাটা হয়েছে। “ জরুরী ওয়াসা উন্নয়ন কাজ চলছে “ তাই আপনাদের “ সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত “ ! খুব অবাক হলাম। এক রাস্তা বছরের এর পর বছর কাটা পরে থাকবে? আর একটা নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়া হবে। যেখানে কাজ শুরু এবং শেষ সময় টুকু উল্লেখ না করে একটা অনিশ্চিত সময়ের কথা উল্লেখ করে দেয়া হয়। যেদিকে কেউ কখন নজর দেয়েছে বলে মনে হয় না।
একটি রাস্তা যখন কাটা হয় তখন পানি, বিদ্যুৎ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ যদি একসাথে হয়ে পরিকল্পনা করে উন্নয়ন কাজ করত তাহলে সব দিক দিয়েই ভালো হতো। উন্নয়ন খরচ কমতো এবং সাধারন মানুষের ভোগান্তি সাময়িক হতো। যেটা এখন নিত্য দিনের সঙ্গী !
আমার এক পরিচিতজন আছেন যিনি প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। যার জীবনযাত্রা দেখলে মনে হয়, কি করেছি পড়াশুনা করে! উনি তো লেখাপড়া না করেই ভালো আছেন। কোটি টাকার এপার্টমেন্ট, কোটি টাকার অন্দর সজ্জা, লাখ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি। বউ, ছেলেমেয়ে নিয়ে খুবই সুখি ধনী জীবনযাপন। যার সামনে গেলে নিজেকে শিক্ষিত অপদার্থ গরিব বলে মনে হয়। তবে কি ঠিকাদারি কাজে এতো বেশী মুনাফা অর্জন করা যায় সম্ভব? একটাই কারন, ঐ যে “ সাময়িক অসুবিধার জন্য “ যেটা দিয়ে মাসের পর মাস টাকা খাটায়ে কাজের পরিধি বাড়ায়ে বিলটাও বেড়ে যায়।
শুধু যে রাস্তা খনন সেটাও না। একটার পর একটা বড় বড় ভবন গড়ে উঠছে ! যেখানে অনেক তথ্য লিখা থাকলেও কাজের সমাপ্তি কালটা সব ভবনে উল্লেখ থাকেনা এবং তারা দখল করে রাখে রাস্তার একটা বিশাল জায়গা বছরের পর বছর।
সোজা কথাটা সহজ করে বললেই তো আমাদের জন্য ভালো হয়। সব কথাতেই সব কাজেই কেন এতো ঝাপসা আর কালোবাজারি? “ সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত “ না লিখে তারিখ উল্লেখ করে দিলে ভোগান্তি কমে আমরা যারা পথচারী এবং ভুক্তভোগী।
এভাবে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা, যানজট, বাড়ছে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও। এই অভিজ্ঞতা যারা প্রতিদিন বের হন বাসা থেকে তারা অবশ্যই মুখোমুখি হন। বাসা থেকে বের হয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না যে কোন রাস্তাটি হুট করে উন্নয়ন কাজের জন্য বন্ধ হয়ে একটা লিখা ঝুলে গেছে “সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত”। কেউ জানেনা। ব্যাস শুরু হয়ে গেল যানজট। প্রতি বছর যদি এক রাস্তা কেটে নানা রকম উন্নয়ন কাজে রাস্তাটি বন্ধ করে রাখা হয় তবে কি সকলে উপকৃত হয় হচ্ছে? একটি বিশেষ মহল তাদের ব্যাংক ব্যাল্যান্স বাড়ানো ছাড়া !
” সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত “ উল্লেখ না করে আমাদেরকে জানানো হোক কবে কোন রাস্তাটি কাটা হবে। বন্ধ হবে কতদিনের জন্য, আর কবে খুলে দেয়া হবে !

কেন এমন হয়? উল্টোটা হয় না কেন?

তেল মাথায় তেল ঢালা বন্ধ করা কি যায় না! প্রতিদিন টি ভি খুললেই প্রতিটি বাংলা চ্যানেল এই একটি/দুটি করে এমন কোন অনুষ্ঠান দেখা যায়, যেখানে ট্যালেন্ট খুঁজে নেয় এবং বড় বড় কোম্পানিগুলো এর অর্থ যোগান দিয়ে থাকে। এমন কয়েকটা অনুষ্ঠানের নাম যা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে। যেমন,
কনিয়া চ্যানেল অ্যাই সেরা কণ্ঠ
ম্যাঙ্গলি নাচো বাংলা নাচো
ক্লোজ আপ ওয়ান
ইমামি যদি পুরুষ হও তবে ফেইস করো
লাক্স তারকা
ভিট সুন্দরী
রাঁধুনি মশলা সেরা রাঁধুনি
ডিপ্লোমা হাড়ির লড়াই
পাওয়ার ভয়েস
এ ধরনের অনেক রিয়্যালিটি শো প্রতিনিয়ত বেসরকারি টি ভি চ্যানেলগুলোতে হচ্ছে! যেখান থেকে সুন্দরী নারী, পুরুষ, সঙ্গীত শিল্পী, নৃত্য শিল্পী বের হয়ে আসছে এবং এই অনুষ্ঠানগগুলোর আর্থিক যোগান দিচ্ছে আমাদের দেশের সব নামকরা কোম্পানিগুলো। যার আড়ালে লুকিয়ে আছে থাকে অনেক নোংরামি, কারসাজি!
আবার এটাও হয়েছে যে :
সিঙ্গার সাহসী মানুষ
হুইল সাদা মনের মানুষ
শিরোনামেও অনুষ্ঠান আছে, ছিল, কিন্তু
এই সব অনুষ্ঠান গুলু নিয়ম ঠিক রেখে আমরা কি দেশের সেবা হয়, উন্নতি হয় এমন উদ্যেগ নিতে পারিনা? যেমন সাদা মনের মানুষ খুঁজে তাদেরকেই বের করছে যারা নিজস্ব উদ্যোগে কিছু একটা করে সফল। সাহসী মানুষ বের করছে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিপদের মোকাবেলা করেছে।

উল্টোটা করলে কেমন হতো!
কারা সাদা মনের মানুষ চান ?
কারা সাহসিকতার পরিচয় দিতে চান?
কারা দেশের সেবা করতে চান?
কে সত্যিকারের সমাজ সেবক?
কোথায় কে কেমন আছে কত ভাল/ মন্দ অবস্থায় আছে
তাকে নানা রকমের পর্বের পরীক্ষার মাধ্যমে খুঁজে বের করার মত কিছু কি করা যায় না? এবং তাদের দিয়া করান। পত্রিকায় ছাপা হয় একজন ধনী লোকের সম্পদের কির্তি নামে। পৃথিবীর সব চেয়ে ধনী বাক্তি কে? ধনী দেশ কোনটি? কিন্তু সবচেয়ে গরিব অসহায় মানুষটি কে, তিনি কোথায় আছেন কেউ জানে না। জানা হয় না।
কিছুদিন আগে দেখতে পেলাম একটি বেসরকারি টি ভি চ্যানেল কিছু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছেলে মেয়েদের নিয়ে চাষাবাদ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন। অযথাই, হাস্যকর মনে হল। বরং যদি কিছু সত্যিকারের কৃষকদের নিয়ে এমন আয়োজন করা হতো তবে সে সব কৃষকরা কৃষি কাজের আধুনিকায়ন দিকটি জানত পাশাপাশি অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হতো।
তেল মাথায় তেল না ঢেলে, যেই মাথায় তেল নাই সেখানে দেয়াটা খুব জরুরি । জরুরি কাজটা না করে ছুঁটছে সবাই বিলাসিতার পেছনে। আগে তো অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা সকলের জন্য নিশ্চিত করি। তারপর বহুতল ভবন, একটা সুন্দর গাড়ি, একটা বিলাসী বাড়ির কথা চিন্তা করবো।
ভারতীয় একটি অনুষ্ঠানের আদলে আমাদের দেশে একটা টিভি রিয়ালিটি অনুষ্ঠান একবারই হয়েছে। “কে হতে চায় কোটিপতি “…সেই অনুষ্ঠান ছিল উচ্চশিক্ষিত, মেধাবীদের জন্য। দরিদ্র মানুষগুলোকে নিয়ে কেউ ভাবে না! আমাদের গ্রাম প্রধান দেশের কয়জন কৃষক আমাদের কাছে আজ মহানায়ক? কেউ না, একজনও না! বছরে একবার একটা পুরস্কার দেয়া হয়। সেরা নারী উদ্যোক্তা, সফল কৃষক, ইত্যাদি। কিন্তু সারা বছর ধরে যদি কৃষকদের কাজে উৎসাহমূলক কিছু অনুষ্ঠান তৈরি করা হতো তাহলে কি বেশি ভাল হতোনা?
পরিবর্তন দরকার। সেটা সব দিক দিয়ে। শুধু যে মুখে বড় বড় কথা দিয়ে এখন আর চলবে না সেটা সকলেই বুঝে। কাজ দিয়ে জয় করতে হবে। এমন কাজ যেটা কৃষিপ্রধান ও গ্রামপ্রধান দেশ কেন্দ্রিক হবে। দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রতিচ্ছবি আমরা ঘরে ঘরে দেখতে চাই, সকলের মুখে হাসি ফুটায়ে!
আমাদের এখন একদিকে বা একচক্ষু হয়ে তাকানো উচিত না! প্রয়োজন চারদিকে তাকিয়ে চলা। দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য চোখজোড়া প্রকৃত অনুসন্ধিষ্ণু করে তোলা।

দেশ প্রেমিকদের কাণ্ড কীর্তি!

১ এপ্রিল ২০১৩ আজ থেকে এইস এস সি পরীক্ষা শুরু রাজশাহী থেকে আমার এক ছোট ভাই পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করবে। কাল জানতে পারলাম সে পরীক্ষার প্রবেশ পত্র হাতে পায়নাই। কারন আমাদের দেশ প্রেমিকরা সকল প্রবেশ পত্র পুরিয়ে দিয়েছে। যাও কিছু আছে সেটা সম্পূর্ণ না । সব পুড়ে ছাই। অবশেষে বাধ্য হয়ে শিক্ষা বোর্ড থেকে কপি করে এনেছে প্রবেশ পত্র।
পরীক্ষার সময় হরতাল অবরোধ তো একটা আনন্দ উৎসব পালন করার মত হয়ে গেছে। দেশ প্রেমিকরা কি জানেন না আজকে যাদের জীবন পিছায়ে দিচ্ছেন তারাই আমাদের দেশ গড়ার কাজে আসবে। তারাই দেশের ভবিষ্যৎ। জীবন থেকে একটি বছর ঝড়ে যাওয়া যে কতো ভয়ঙ্কর সেটা যদি দেশ প্রেমিকরা না বুঝেন তাহলে কি তাদে কে আমরা দেশ প্রেমিক বলবো?
এসএসসি পরীক্ষা কি শেষ হয়েছে ? এই প্রশ্ন অনেকের মুখেই ছিল দীর্ঘ দিন। গত বছর আমার এক ভাই এইসএসসি পরীক্ষা দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে গেছিল। বলে আপু জানি না কবে শেষ হবে। হবে হয়ত একদিন। শেষ হয়েছিল ২০১২ তে। আজ ২০১৩ তে আবার শুরু হল। দেখা যাক কবে শেষ হয় !
এমন দেশ প্রেমিকদের কি আমাদের সমর্থন আর কখনো দেয়া ঠিক হবে? দেশকে এই নমুনায় ভালবাসতে? যারা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দাবিয়ে তাদের ফায়দা লুটে ! সচেতন নাগরিক সমাজ আশা করি আর এই ভুল করবনা। এমন দেশ প্রেমিক চাইবনা না যারা হরতাল অবরোধ, গাড়ী ভাংচুর আর জ্বালাও পোড়াও নীতি আদর্শে ঘেরা পরিপক্ক।

মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্য পুস্তকের মহাপরিবর্তন- হতবাক করা তথ্য!

বছরের শুরুতে আমার এক সহকর্মী আমাকে একদিন কথার ছলে বলেছিল আপা আপনি কি জানেন ক্লাস সিক্স থেকে টেন পর্যন্ত বইয়ে পরিবর্তন হয়েছে। আমি বললাম এটা তো প্রতি বছরই হয়। সরকার পরিবর্তন মানেই তো ইতিহাস পাল্টে যায়। উনি আমাকে বললেন আপা এগুলু না। কিছু প্রাপ্ত বয়স্কদের কথা ঢুকানো হয়েছে বলে উনি থেমে গিয়েছিলান। এর কারন সেদিন আমি বুঝিনা নাই। আর খুব একটা মাথায়ও রাখি নাই।
আজ আমি একটি দৈনিক পত্রিকায় দেখতে পেলাম বিশদ বিবরণ। কি কি পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। কোন শ্রেণীতে কোন বিষয়গুলুকে কত নোংরাভাবে তুলে ধরা হয়েছে কোমল মতি ছেলে মেয়ে গুলুর সামনে।
অষ্টম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ের ৮৬ পৃষ্ঠার শেষের প্যারাতে জা যেভাবে লিখা হয়েছে সেটা আমি এখানে তুলে ধরতে চাচ্ছিনা !
৮৬ নং পৃষ্ঠায় মদ , জুয়া খেলে, গাঁজা খায় নোংরা ছবি ।
৮৪ নং পৃষ্ঠায় তুলে ধরা হয়েছে কিশোর অপরাধের নানা দিক।
৮৫ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে কিভাবে বাচ্চারা ছেলে মেয়ে গুলু অল্প বয়সে বাজে পথে গিয়ে অর্থ উপার্জন করে।
৮২ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে হারাম সম্পর্কে। সেখানে ৭ নং বলা হয়েছে হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, আফিম সেবন করা।

ষষ্ঠ শ্রেণীর শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয় বইটিতে - ছেলে মেয়েদের বয়ঃসন্ধি কালের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে ! বইটির ৪র্থ অধ্যায়টি হল “ আমাদের জীবনে বয়ঃসন্ধি কাল “ এখানে বয়ঃসন্ধি কালে পরিবর্তন ও করনীয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে !
৩৯ নং পৃষ্ঠায় ছেলে মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তনগুলু আলাদা আলাদা করে পয়েন্ট দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে একবারে খোলা মেলা ভাবে।
৪০ নং পৃষ্ঠায় মানসিক পরিবর্তন শারীরিক চাহিদার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৪১ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে ছেলেদের, মেয়েদের  শরীরের বিশেষ পরিবর্তনের কথা।
৪২ নং পৃষ্ঠায় কাজ-১ বলা হয়েছে  ছাত্র ছাত্রীরা তাদের সমস্যাগুলু এক গ্রুপ করে বোর্ড লিখতে হবে। এরপর অন্য দল আলোচনা করবে।
কাজ-২ তে বলা হয়েছে বয়ঃসন্ধি কালের সুবিধা, অসুবিধা, জানা অজানাগুলু পোষ্টার লিখতে।
৪৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে ছেলেরা কিভাবে রেজার দিয়ে দারি গোঁফ কামাবে, আফটার সেভ ব্যবহার করবে ইত্যাদি বিষয়গুলু অভিভাবক থেকে জেনে নিতে।
৪৭ নং পৃষ্ঠায়  বয়ঃসন্ধি কালের ঝুঁকি শিরোনামে যেসব  ২ নং পয়েন্ট বলা হয়েছে কৌতূহলের বশে কিভাবে অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পরে। ৩ নং পয়েন্ট এ বলা হয়েছে  প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয় জ্ঞান থাকা না থাকার কারনে কিভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
৪৮ নং পৃষ্ঠায় বঃসন্ধি কালে ঝুঁকির নিরাপত্তার জন্য অভিভাবকদের উদ্দেশে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। তারা কিভাবে তাদের সন্তানদের খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখবেন !

( একটি দৈনিক পত্রিকা থেকে নেয়া আংশিক তথ্য )
পুরো লিখাটা পড়ে আমি হতভম্ব হয়ে গেছি। এ কোন দেশে বসবাস করছি! যেখানে মাধ্যমিক স্তরের বই ইয়ের ভিতর পুরো পর্ণ তথ্যে ভরপুর। যেখান থেকে ছেলে মেয়েরা আর জানবে আগ্রহী হয়ে উঠবে। পাঠ্য পুস্তকের নামের সাথেই বা কতটুকু সামঞ্জস্যতা আছে বইয়ের ভিতরের তথ্যের। আদৌ কি জানে কে দিল। কে মুদ্রণ করলো বইগুলু। কার মাথায় ঢুকল এত নোংরা চিন্তা? আমার সন্তানটি এই বই পরতে হবে স্কুল এ গিয়ে? বেতন দিয়ে?
পাঠ্য পুস্তকে যেই ভাষায় ব্যাপারগুলু তুলে ধরা হয়েছে, সেটার কোন প্রয়োজন ছিলনা। কিংবা এত সব বিষয়ের সাথে এইসব কোমলমতি বাচ্চাগুলুকে পরিচয় না করালেও কোন সমস্যা ছিলনা। পর্ণগ্রাফি, ব্লু ফ্লিম শব্দগুলু ব্যবহার করা কতোটা প্রয়োজনীয় এই যুগে? কিছূ শারীরিক পরিবর্তনের কথা লিখা যেত। আগেও আমরা জিববিদ্যা বিষয়ে পড়াশুনা করে এসেছি।
শিক্ষা মন্ত্রনায়লের মাননীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত সকলের জ্ঞাতার্থে আমি একজন অভিভাবক আবেদন জানাচ্ছি, পাঠ্য পুস্তকে এমন করে কোন শিক্ষাদান পদ্ধতি রাখা দরকার নাই। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে করছি এতে আমাদের সন্তানদের ক্ষতি হবে। আমার সন্তান বাংলা মাধ্যমে পড়াশুনা করে। কিছুদিন পর তাকেও এই বইটি পড়তে হবে। দয়া করে সিলাবাস থেকে বদলানো হোক।

বিনোদন কেন্দ্র কোথায়?

সাপ্তাহিক ছুটি কিংবা যে কোন ছুটিতেই সকলে চায় ব্যস্ত নাগরিক জীবনের কোলাহল থেকে দূরে কোথাও কিংবা আশেপাশে কোথাও পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে যেতে। কিছুটা সময় আলাদা করে কাটিয়ে আসতে। কিন্তু দমবন্ধ হয়ে পড়া নাগরিকরা যাবে কোথায়?
পার্ক?
ওরে বাবা সেটা কি সম্ভব ছেলে মেয়েকে সাথে করে নিয়া যাওয়া? পার্ক তো দখলে নানা জন দের!
কেউ পার্কে বসে এমন করে চুটায়ে প্রেম করছে দেখলেই বাচ্চাকে নিয়া দৌঁড়ে পালাতে হয়। কিংবা একদল ছেলে একত্র হয়ে সিগারেট বা গাঁজার ধোঁয়ায় ফুর্তি করছে। মাদকাসক্তদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা এই পার্ক। সেখানে কি সম্ভব পরিবার নিয়ে যাওয়া? তারপর খাবার দোকান, ছিনতাইকারি, হকারদের যন্ত্রণা তো কিলবিল করছে। নিরাপত্তা নাই বললেই চলে।
খাবার দোকান?
খেতে যাবো কোথায়? কিছুদিন আগে একটি নামকরা ফাস্টফুড দোকানে গিয়েছিলাম খেতে। এর আগেও অনেক বার ওই দোকানে খেয়েছি। একটা লম্বা বিরতির পর সেদিন গিয়ে নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলাম, কোথায় এসেছি? অন্ধকার, ভিতরে চেয়ার টেবিল নাই! নিচে আসন পাতা! ছেলেমেয়েগুলো জড়াজড়ি করে বসে হুক্কা টানছে! খাবার দোকানে সবার সামনেই বিক্রি হচ্ছে সীসা কিংবা বিয়ার, মদ নামক পানীয়গুলো! ফিরে এলাম।
অন্য আরেকটি দোকানে ঢুকলাম। হ্যাঁ দেশী খাবার, বিদেশী খাবার তবে হুক্কা বা সীসা ধরনের নয়। কিন্তু বাধ সাধল আমার ছেলে। সে মাঝে বসবেনা। ওই যে চিপায় যেই টেবিলটা আছে ওটায় বসবে। ওখানে দুইজন ছেলেমেয়ে রীতিমতো বেডরুম বানিয়ে প্রেম করছে। আমি লজ্জায় শেষ! কিন্তু আমার ছেলেও নাছোড় বান্দা আমি অই চিপায় বসবো! আঙ্কল আনটি তো খাচ্ছেনা। ওরা চলে যাক। এই তোমরা কি করো ? উঠো! আমি আমার বাবা মা কে নিয়া বসবো । ছেলেমেয়ে দুটি মাথা নত করে লজ্জায় একটি হাসি দিয়ে উঠে গেল । বলল বাবু বস ।
কোন বিনোদন কেন্দ্র?
বিনোদন কেন্দ্রগুলো তো একটা ব্যবসাকেন্দ্রে পরিনত হয়েছে। ছোট একটি জায়গায় ঠাঁসা ঠাসি করে কিছু রাইড দিয়ে গড়ে উঠছে বিনোদন পার্ক। যারা কনসার্ট করে, নানা রকমারি অফার করে। কিন্তু আড়ালে কি হচ্ছে? কিছুই নাই। বাধ্য করে খেতে। কিংবা রাইড চড়তে। কখনো কখনো আবার রাইড ছিঁড়ে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তা নাই।
প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গা?
সোনারগাঁ , আহসান মঞ্জিল , লালবাগ কেল্লা , কুমিল্লা কোটবাড়ি, ময়নামতি, শালবন বিহার এই সব জায়গাগুলো ঢাকার খুব নিকটে । কিছু কিছু আবার ঢাকা শহরের ভিতরেই। জায়গাগুলোতে যারা অতি সম্প্রতি গিয়েছেন তারা দেখেছেন কি বেহাল অবস্থা । নিরাপত্তা ব্যবস্থা তো খুবই নাজুক । নাই বললেই চলে । উপরন্ত পরিস্কার পরিছন্নও না । পাশাপাশি বেড়াতে গেলে ভাল মানের খাওয়ার ব্যবস্থা নাই, নাই বিশ্রাম নেয়ার একটি সুন্দর জায়গা ।
উল্টো জায়গাগুলোর ভিতরে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যারা যেই এলাকার তারা সেই এলেকারে ঐতিহ্যবাহী কোন একটা ব্যবসা গেঁড়ে বসেছে।
ঘরে বসে টি ভি দেখা?
ওরে বাবা ! টি ভি খুললে কি দেখা যায় ? টক শো, মেগা ধারাবাহিক, কিংবা কোন রিয়ালিটি শো। সবচেয়ে বাজে লাগে নাটক গুলো। মাতৃভাষার অপব্যবহার, উচ্চারণে পরিবর্তন তো আছেই পাশাপাশি নাটকের গল্প, অভিনেতা অভিনেত্রীর পোষাকেও নেই শালীনতা। নেই সামঞ্জস্যতা। বস্তাপচা কাহিনী টেনে হেঁচড়ে লম্বা করার প্রবনতা। আর যে চলচিত্রগুলো দেখানো হয় সেখানে এত বাজে গালি গালাজ শুনা যায় তা বর্ণনার মত না । গল্পের নির্মাণের দুর্বলতা সবার চোখে পড়ে। প্রতিটা বিনোদন চ্যানেল খবর প্রচারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ! একই খবর ২০টা চ্যানেলে। পাশাপাশি অনুষ্ঠানের সৌজন্যে আনলিমিটেড বিজ্ঞাপন মহা বিরক্তিকর। অনুষ্ঠান প্রচারে নাই কোন নীতিমালা। নাই সময় জ্ঞান।
রাস্তায় হাঁটতে যাবেন?
বিকেলে উন্মুক্ত রাস্তায় একটু হেঁটে বেড়াবো ? এখানে কে নিরাপত্তা দিবে? চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা চোখের সামনেই হতে দেখি। পুলিশ দেখেও দেখে না। পত্রিকায় পড়ি ওদের সাথে পুলিশের গোপন সমঝোতা আছে। সড়ক দুর্ঘটনা যে কেবল রাস্তায় গাড়ী চলাচলেই ঘটে সেটা তো বলা ঠিক হবে না। মার্কেটে ছুটে যাবো? ফুটপাতে হাঁটলেও নির্মাণাধীন ভবনের নির্মাণ সামগ্রী উপর থেকে পরে পথচারি নিহত হয়েছে একথা অনেকেই জানে।
দেশে নিরাপত্তা নেই তাই যেতে হবে বিদেশে ঘুরতে আনন্দ পেতে । ছুটি কাঁটাতে। এটাতো দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করার সামিল মনে হয়। যদি একটা পাহাড় দেখতে ভারত, গুছানো মালয়েশিয়া, সমুদ্র সৈকত দেখতে থাইল্যান্ড, নাকি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেখতে নেপাল? কেন এটা ভাবতে হবে? আমাদের দেশে কি নেই? সুন্দরবন থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কিংবা সোনারগাঁ থেকে মহাস্থান গড় ! পুণ্ড্র নগর থেকে শের ই বাংলা নগর। সবই তো আছে।
সবাই আমাদের দ্বারা অর্থ উপার্জন করবে ধনী দেশ হবে আর আমাদের সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমরা গরীব দেশ থেকে যাবো। আমাদের দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক জায়গাগুলোর প্রতি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে পারলে আমরা যারা দেশের ভিতর স্বল্প আয়ের লোকজন আছি তারা বেড়ানোর জায়গা পেলাম, পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি কি হবে না? এ কথা সরকার কি বোঝে না? অবশ্যই বোঝে, কিন্তু কিছু করে না। আমাদের জন্য পর্যটন ব্যবস্থা একটি ট্র্যাজেডি মাত্র।
২৮-০৩-২০১৩

ব্লগার কে এবং কারা?

বদলে যাও বদলে দাও মিছিল কি একটা ব্লগ সাইট? এখানে যা কিছু লিখা হয় এগুলোই কি ব্লগ লেখা? যারা লিখেন তারাই কি ব্লগার? তবে তুমিও তো ব্লগার! তুমি লিখা লিখি ছেড়ে দাও। দরকার নাই অযথা এসব লিখে খাল কেটে কুমীর আনার। এমন সব কিছু প্রশ্ন এবং অবস্থার মুখোমুখি হয়েছি হচ্ছি বেশ কিছুদিন যাবত। আমি নিজেও যে আতঙ্কিত ছিলাম না এবং এখনও যে নই তা কিন্তু নয়!
আমি আসলেই জানতে চাই, বুঝতে চাই ব্লগার কারা? এবং কাদেরকে নিয়ে এত মাতামাতি? তারা এমন কি সব লিখে? আমি বদলে যাও বলদে দাও সাইট ছাড়া কোথাও লিখালিখি করি না। কোন ব্লগ সাইট পড়িও না।  আগ্রহ সময় কোনটাই নাই। তবে সম্প্রতি ” ব্লগার “ কথাটা এত বেশি শুনছি যে কাদেরকে নাস্তিক ব্লগার বলা হচ্ছে জানার আগ্রহ হচ্ছে।
আমি লেখকদের মত লিখালিখি পারি না। বুঝিও না। শুধু স্বাধীন চিন্তায় চেষ্টা করি কিছু লিখতে ও পড়তে! নিজের ভিতরে আশে পাশের কিছু অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে বা জানাতে আমি এখানে লিখি এবং বদলে যাও বদলে দাও ব্লগ আমার আনাড়ি লিখাগুলো প্রকাশ করেন বলে প্রতিদিন টুকটাক লিখা লিখি করার দুঃসাহস করি শত ব্যস্ততা ও নানা ঝামেলায় থাকি আমি। অনেক ধন্যবাদ আমার পক্ষ থেকে বদলে যাও বদলে দাও মিছিলকে। একদিন আমি হয়তো থাকব না। থেকে যাবে বদলে যাও বদলে দাও আর্কাইভ আমার লিখাগুলো।উত্তর প্রজন্ম পড়বে আমার কথা এ চিন্তাগুলো।
একদিন সুধা হারিয়ে যাবে সকলের মাঝ থেকে হারাবে না কেবল বদলে যাও বদলে দাও আর্কাইভ থেকে।
০৭-০৪-২০১৩
রবিবার

ডিজিটাল প্রযুক্তির বিড়ম্বনার আংশিক

তরুণ প্রজন্ম, বর্তমান প্রজন্ম, আমাদের প্রজন্ম, সকল প্রজন্মই এখন ডিজিটাল জীবনের স্পর্শে উৎফুল্লিত। কথায় আছে বেশি বাড়লে ঝড়ে পরে! তেমন কিছু বিড়ম্বনার আংশিক কিছু কিছু দৃশ্যে সকলেই বিরক্ত, বিব্রত। প্রযুক্তি ব্যবহারে সুফল কুফল দুই দিক এ আছে। স্মার্ট মোবাইল আর ইন্টারনেট। দুইটি আলাদা প্রযুক্তি হলেও বেশ ক বছর হল দুইটির সমন্বয়ে একটা প্রযুক্তিগত আমুল পরিবর্তন এসেছে।
মোবাইল সমাচার
- গতকাল ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। একটি ছেলেকে যতই EXCUE ME EXCUSE MEকরতেছি কোন ভ্রুক্ষেপ নেই! বিরক্ত হয়ে একটা ধাক্কা দিয়ে ছেলেটাকে পাশ কাটালাম। সামনে গিয়া ঘাড় ফিরে দেখলাম নিরব পথচারীর মুখ খানা। উনি মনের সুখে হেড ফোন লাগায়ে গান শুনতে শুনতে লাফাতে লাফাতে যাচ্ছে আর ঝাল মুড়ি খাচ্ছে। বয়সও খুব বেশি না। শুরুতে রাগলেও পরে হাসলাম। বেচারা একটু ফুর্তি-ই তো করছে!
-  আমার বাসার আমার কাজের সহযোগী মেয়েটির খুব শখ মোবাইল ফোনে রেডিও শুনবে! তার মনের আশা আমি পূর্ণ করলাম। ব্যাস এখন আর টি ভি দেখেনা। সব সময় কানে বীচি! আমি মজা করে হেড ফোনকে বীচি বলি! ফলাফল যা হল মেয়েটা সব সময় কানে হেড ফোন লাগায়ে কাজ করে। একদিন আমি ডাকছি শুনতে পায় না তো পায়-ই না। পরে কাছে গিয়ে দেখি কানে বীচি। হাসলাম। বললাম এটা কি সারাদিন শুনতে হয়? এর কিছুদিন পর মেয়েটার খুব মাথা ব্যথা। রীতিমতো বমিও করে! আমার স্বামী পেশায় চিকিৎসক তাই উনি চেক করে দেখলেন বড় কোন সমস্যা নয়।
তবে কেন এত ব্যথা এত বমি! পরবর্তীতে আবিস্কার হল আমার সহযোগী রাত ২/৩ টা পর্যন্ত রেডিও শুনে। ঘুমায় না। এটি সারাদিন কানে হেড ফোন লাগিয়ে রাখার প্রভাব। গত কয়েক দিন যাবত রেডিও শুনে না মেয়েটা সুস্থ আছে! তবে তাকে ঔষধ খেতে হচ্ছে। কারন রোগ বাঁধায়ে ফেলছে। আমি অকে নির্দেশ দিয়েছি রেডিও শুনবি লাউড স্পিকার দিয়ে।
-  বাসে যখন চলাচল করি চালক সাহেবের মোবাইল ফোনটা বেজে উঠলেই বুক কাঁপতে থাকে! কিন্তু তখন উনি আমার অধীনে না। অগণিত যাত্রীর ভিড়ে আমি একজন মহিলা আসনের যাত্রী কিংবা দাঁড়িয়ে যাওয়া যাত্রী মাত্র। ভীষণ ভয় পাই। গাড়ি চলন্ত অবস্থায় কানে ফোন লাগায়ে দিব্যি কথা বলে যাওয়ার দৃশ্য দেখে। কিছু দিন আগে এ বিষয়ে দেশে আইন হয়েছিল। চালক গাড়ী চালানোর সময় ফোন এ কথা বলতে পারবেনা ! কিন্তু বাস্তবায়ন শূন্যের কোঠায়!
-  যখন সিএনজি চালিত অটো রিক্সায় উঠি তখন চালক আমার অধীনেই বলা যায়। তাকে বলে দেই ভাইয়া মোবাইল বেজে উঠলেও আমাকে নামায়ে দেয়ার আগে ফোন রিসিভ করতে পারেবন না এতে আমি যেমন দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচব তেমনি চালকের পরিকল্পিত ছিনতাই থেকেও মুক্তি পাবো।
ফেসবুক সমাচার !
সব চেয়ে বহুল আলোচিত বিতর্কিত একটি ডিজিটাল সাইট ! ব্লগ এবং ফেসবুক ! যেই দুটির ব্যবহার এখন সম্পূর্ণ ঋণাত্মক অবস্থায় করছে!
- ফেসবুকের কারনে দেশে ডিভোর্সের হার বেরে গেছে।
- বেড়ে গেছে অনৈতিক সম্পর্ক।
- অপরিচিত মানুষগুলো বন্ধু বেশে ঢুকে পড়ছে অহরহ।
- বাবা মাকে সময় না দিয়ে দরজা বন্ধ করে বন্ধু বান্ধব নিয়া চ্যাট করতেই বেশী আনন্দ পায় তরুণ প্রজন্ম!
- নানা রকম পেজ শেয়ার দিয়ে তো ঘটে গেল রামুতে ভয়াবহ কাণ্ড!
- ব্লগ নিয়া তো লিখার প্রয়োজনই নাই!
 ইন্টারনেট সমাচার !
কিছু ওয়েব সাইট আছে যেগুলুর কিছু চ্যাট সাইট, কিছু ছবি শেয়ার দেয়া ভিডিও শেয়ার দেয়ার সাইট। যেগুলুর নাম অনেকের-ই জানা আছে। তাই আমি এখানে লিখে অজানাদের জানলাম না।  যার মাধ্যমে খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে সাইবার জগতে একটা ব্ল্যাক মেইল গল্প। চ্যাট থেকে বন্ধুত্ব। সেখান থেকে প্রেম অথবা অনৈতিক সম্পর্ক! নোংরা ছবি তোলা, ভিডিও করা এবং পরবর্তীতে এগুলু ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে ব্ল্যাক মেইল করা হুমকি নানা রকম ফায়দা লুটে নেয়া। অতঃপর ছবি ভিডিও ইন্টারনেটে আপলোড করে দিয়ে নানা জনকে বিব্রত করা। এটা নতুন কিছু না। অনেক পুরানো। কিন্তু শুরু থেকে আজ চলছে।
এইসবে নেই কোন নিয়ন্ত্রণ ! যার ইচ্ছা হল যা সে সেটাই করল । আবার নিজেরা আজকাল নানা রকম সফটওয়্যার দিয়া কপি পেস্ট করে কত কিছু বদলায়ে ফেলে। এমন একটি ঘটনার জন্য কিছুদিন আগে আমার একজন সহকর্মীর চাকরি চলে গেছে।
আমাদের রুচিবোধ, মানসিকতা দিন দিন এত নিন্মগামি হচ্ছে সেটা বলা বাহুল্য। প্রযুক্তি ব্যবহারে সকলের রুচিবোধ মার্জিত করা উচিত পাশাপাশি জনসচেতনটা জরুরি এবং ছোটদের প্রযুক্তি ব্যবহারে ভালো দিকগুলু সুন্দর করে তুলে ধরতে হবে। আর যারা প্রাপ্তবয়স্ক তারা নিজ দায়িত্বে নিজেদের শুধরে নেয়া দরকার!