বৃহস্পতিবার, ২৯ আগস্ট, ২০১৩

একি দেশ! রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ নেই?

১০ অগাস্ট ২০১৩, সন্ধ্যা ৭ টা বাজে। ট্যাক্সি ক্যাবে করে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরুতেই অবাক হতে হল! ঈদের পর দিন পুরো রাস্তা ফাঁকা! তবে কি ঈদের প্রভাব? রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই? গাড়িগুলো সব লেন মেনে চলছে। কোনো গাড়ি তার লেন বদলাচ্ছে না! কোনো গাড়ি অভারটেক করছে না! নেই কোনো হর্ণের শব্দ! সকল ধরনের গাড়িগুলোই হর্ন ছাড়া চলাচল করছে আপন গতিতে! গাড়ির গতিবেগ ৮০- ১০০ কি.মি। অবাক করার মতো গতি। যে গতি বুকে কম্পন ধরিয়ে দিতে সময় লাগেনা !

 অনেকটা পথ এগুতেই একটি ট্রাফিক সিগন্যালে এসে ক্যাবটি নিজে থেকেই থেমে গেলো! কোনো ট্রাফিক পুলিশ গাড়িটিকে আটকায়নি! রাস্তায় সার্জেন্ট নামক কোন সুপুরুষদের উপস্থিতিও শুণ্য! চারপাশে কোন ট্রাফিক পুলিশের অস্তিত্ব লক্ষ্য করা গেলো না। নিয়ম মেনে সবুজ, হলুদ, লাল বাতির আইনে গাড়িগুলো এগুচ্ছে। দারুন অনুভূতি! প্রশ্ন জাগল – ট্রাফিক পুলিশ কি ছুটিতে নাকি কাজে ফাঁকি মারছে? আর পথ এগুতেই আরও একটি ট্রাফিক সিগন্যাল। এখানেও কোন ট্রাফিক পুলিশ হাত উচিয়ে একটি আলপিন নিয়ে দাঁড়িয়ে নেই !

কিছু কিছু ট্রাফিক সিগন্যালে ঘড়িও দেখা গেলো! সবুজ বাতি কত সেকেন্ড পর বন্ধ হবে কিংবা লাল বাতি কত সেকেন্ড পরে নিভে যাবে সেই সময়টা দেখাতে থাকে।

ফাঁকা রাস্তা উপভোগ করলাম দারুন গতিতে দক্ষ চালকের সাথে ভ্রমন! কিছুক্ষণ পর টের পেলাম  চালক আমার গন্তব্যে আমাকে পৌঁছিয়ে দিতে বার বার চেষ্টা করে পথ হারিয়ে ফেলছে! চালককে প্রশ্ন করা  হল – Taxi do not have the Benefit of GPRS ( General Pocket Radio Service)? উত্তরে –YES MAM I HAVE ! বলেই GPRS অন করলেন এবং গন্তব্য বলে দিতেই একজন মহিলার মিষ্টি কণ্ঠে বার বার নির্দেশ আসতে লাগলো ১০০ মিটার লেফট/ ২০০ মিটার রাইট ইত্যাদি! সহজেই চালক গন্তব্য খুঁজে পেলো। তবে এর আগে কেন চালক GPRS চালু করেনি সেটা জানা হয়নি!

এমনটি আমার সোনার বাংলায় হবার নয় এখনো! হয়েছে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দর থেকে
কুয়ালালামপুর যাওয়ার পথে! বিদেশের মাটিতে প্রথম পা রাখার অদ্ভুত অনুভূতি আমার পুরো পরিবারকেই আনন্দিত করলো! অনুভব করা শুরু হল উন্নত দেশের মিষ্টি বাতাস আর আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খল জীবন যাত্রা! যেদিকে চোখ যায়, কি সুন্দর! কি সুন্দর! কি পরিকল্পিত দেশ! ট্রাফিক পুলিশ ছাড়া গাড়ি চলাচল করছে প্রথম হতবাক হতে হল!

চালকদের মধ্যে নেই প্রতিযোগিতা, নেই তাড়াহুড়া! ট্যাক্সি চালকরা মিটার কিংবা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকায় যাতায়াত করে যে কোনো যায়গায়! যেতে মানা নেই! নির্দিষ্ট অঙ্কের বেলায় যাত্রীর টাকার অঙ্ক পছন্দ না হলেই ঐ ট্যাক্সিতে চড়া হয় না!

চালকদের পড়নে ধবধবে সাদা শার্ট। ট্যাক্সিগুলো পরিছন্ন একদম পরিপাটি! চালক শিক্ষিত মনে হল। শুদ্ধ উচ্চারণে গুছিয়ে ইংলিশে কথা বলছিল অনবরত! টুরিস্ট শুনে সন্মান বাড়িয়ে দিল দেশের অতিথিকে বরণ করতে! ট্যাক্সি চালক শুধু নিজের নাম পরিচয়-ই দিলেন না সাথে নিজের আইডি কার্ডও দেখালেন। খুব হাসিখুশি পুরো রাস্তা আমাদের দেখাতে দেখাতে নিয়ে গেলেন। ভ্রমনে যাওয়ার আগে অনেকেই বলেছিল – ঐ দেশের চালকেরা যখন টুরিস্টদের পায় তখন মিটারে টাকার অঙ্ক বাড়াতে রাস্তা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়! সেই আতঙ্কে আগে থেকে জেনে নিয়েছিলাম আমার গন্তব্যে পৌঁছাতে ফিক্সড অঙ্ক হলে কত টাকা নিবে কিংবা মিটারে গেলে কতো টাকা আসবে? দুইটা তথ্যই সঠিক ছিল। বাড়তি আয়ের জন্য আমাদের সাথে প্রতারণা করেনি! বাহ হোটেলে যেতে যেতে পুরো এক ঘণ্টার অধিক সময়ে অনেক কিছু দেখা হয়ে গেলো চালকের বন্ধুত্ব আচরনের সুবাদে!

* আমাদের ঢাকা আমাদের বাংলাদেশ কবে এমন পরিকল্পিত হবে! আমার সন্তান আমি কি দেখে যেতে পারবো? আমাদের দেশে কি কোন মাহাথির মোহাম্মদ কোনো দিন আসবে? যিনি নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে দেশকে গরিব থেকে উন্নত দেশে পরিনত করবে। আমাদের দেশে সম্পদ অভাব নেই। অভাব আমাদের জন্য একজন মাহাথির মোহাম্মদ! পুরু এক ঘণ্টার পথে বসে বসে এটাই ভাবতে হল আর হতাশা জাপটে ধরছে!
জানি না জানি না কেন এমন হয় ….

ঈদ সালামী বুমেরাং হয়ে যেতে পারে!

মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে ধর্মোৎসব হল ঈদ উল ফিতর এবং ঈদ উল আযহা। সকলেই মিলে মহা ধুমধামে ঈদ উৎযাপনে মগ্ন হয়ে যায়। ঈদের দিনের সকালের বিশেষ আকর্ষণটির  অপেক্ষা করে মুলত বাচ্চারা! সেটাই হল ঈদ! ঈদই সব সময় নগদ টাকায় দেয়া হয়ে থাকে। নতুন চকচকে টাকার নোট সে যত কম অঙ্কেরই হোক বাচ্চাদের কাছে সবচেয়ে বেশী কদর পায়! হাতে পেলে খুশীতে মেতে উঠে তারা।

অনেক পরিবারেই এক সময় ঈদে দেয়া নেয়ার প্রচলন ছিল না। কিন্তু এখন এই প্রচলিত স্রোতে নিজেদের বিলিয়ে দিচ্ছেন বাবা মা সন্তানের চাহিদা এবং বন্ধুদের সাথে গল্প করতে নিজের স্ট্যাটাস রক্ষা করতেই বলা যায়।

আমার সন্তান হাসিনের বয়স ৮ + বছর। এবারের ঈদে সেলামী পেয়েছে মামার কাছ থেকে চকচকে ১০০ টাকার একটি নোট! সেই টাকা পাওয়ার পর থেকেই তার হাবভাব বলদে গেছে! আমার এখন ১০০ টাকা আছে! ১০০ টাকা দিয়ে একেকবার একেটা খেলনা, হাবিজাবি কিনে ফেলছে! খুব যত্ন করে নিজেই টাকাটি লুকিয়ে রেখেছে! বাসার কাজের সহযোগী মেয়েটি চুরি করে নিয়ে যেতে পারে ভয়ে সে সব সময় সচেতন। প্রতিদিন টাকাটি জায়গা মতো আছে কিনে চেক করতেও ভুলে না।

রবিবার ঈদ-উল-ফিতরের পর প্রথম স্কুল খুলেব্ছে। ভালো ফুর্তিতে আছে! এক রাতে মা’কে এসে বলছে, “টাকাটা কাল স্কুলে নিয়ে যাবো! একটা ড্রয়িং খাতা লাগবে কিনে আনবো” ! মায়ের তো চোখ ছানাবড়া! তোমার খাতা লাগবে আমি এনে দিবো! তুমি আমি একসাথে গিয়ে কিনবো? বাবা আম্মুকে টাকাটা দিয়ে দাও! সে দিবে না! উত্তরে বলছে – বাহ রে টাকাটা যখন আমার আছেই তখন খরচ করবো না কেন? টাকা তো খরচ করার জন্যই! 

বুঝানো হল – বাবা টাকায় অনেক জীবাণু থাকে! কত মানুষ এই টাকা হাতে নেয়! মানল না মায়ের আদরের কথা! পরের দিন ভোর  বেলায় স্কুলে যাওয়ার সময় মা লক্ষ্য করলেন আদরের ছেলে কি জেন প্যান্ট এর পকেটে নিলো একটা জিজ্ঞাসা করাতেই বলল না। হাত বের করে দেখালও টাকাটা! সেই চকচকে ১০০ টাকার নোট! সুন্দর করে বুঝিয়ে নিয়ে হল! বাবা আম্মু কি বলেছি তুমি আমি গিয়ে খাতা কিনবো ঘুরবো! হাল্কা মন খারাপ হলেও বাধ্য ছেলের মতোই কিছুই বলল না টাকাটা মায়ের হাতে দিয়ে স্কুলে চলে গেলো!

ঈদ উপলক্ষে বাচ্চাদের হাতে নগদ টাকা দেয়ার প্রচলনটা বন্ধ করা দরকার! এই যুগের বাচ্চাদের হাতে টাকা আসলেই এরা বিপথে চলে যেতে সময় লাগে না! কালক্ষেপণ করে না নিজেকে মাদকের রাজ্যে বিলিয়ে দিতে! হাসিন খুব ছোট তাই ঈদ দিয়ে কখনো খেলনা / খাতা / কিংবা এটি হট ডগ কিনতে চেয়েছে!

হাসিনের এহেন কাজ হয়তো মারাত্মক কিছুই না তবে সুদুর প্রসারীভাবে ভাবলে এমন অনেক কিছুই বের হয়ে আসে। বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত ঐশী কেইসটাই চলে আসে!  অভিভাবকের অসচেতনতা, হাতে অনবরত টাকা আসাই সঙ্গ দোষে ঐশীকে আজ সমাজের অপ্রাপ্ত বয়স্ক খুনি গড়ে তুলেছে! যার প্রভাবে অনেক বাচ্চাই এখন জানতে পারছে অনেক ভিতরের তথ্য! পত্রিকাগুলু খুব ফলাও করে প্রকাশ করছে ঐশী কিভাবে কি করেছে! কিশোর বয়সের ছেলে মেয়েদের মধ্যে অজান্তে ছড়িয়ে পড়ছে কালো জগতের ঠিকানা তথ্য।

ছোট ঐশীর  বিচার, শাস্তি ও বাচ্চাদের উপরে প্রভাব ফেলবে। আমাদের দেশের ইতিহাসে এমন ঘটনা আসলেই নজিরবিহীন! বাবা মা’কে খুন করেছে ক্রোধের বশে! নেশার টাকা পায়নি এই অভিযোগে নয়! নেশার জগত থেকে আটকে দিয়েছে বলে একা একা লোহমর্ষক বেদনাবিধুর ঘটনাটি।

আমাদের সকলের সন্তানদের নিয়ে ভাবতে হবে। ঐশী একটি বিচ্ছিন্ন গল্প একটি নতুন অধ্যায়। ইয়াবা, মদ, গাজা, হেরোইন ইত্যাদি নতুন কিছুই নয়! তাই আমাদের অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে সন্তানের সঙ্গে তালা চাবিহিন বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে হবে ! চাওয়া পাওয়ার গুরুত্ব দিতে হবে। ভুল হলে সুন্দর করে বোঝাতে হবে!

দুধ কি পদার্থ ?

ক্লাসে শিক্ষক এসে ছোট ছোট বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করলেন! বলতো – দুধ কি পদার্থ? ওমনি ক্লাসের সকল ছেলেমেয়ে একযোগে বলে উঠলো - স্যার দুধ হলো কুড়কুড়ে পদার্থ! স্যার চমকে গেলেন! একজন ছাত্র স্যারের হাতে একটি প্যাকেট এগিয়ে দিলো! হম এবার স্যার বললেন – সঠিক বলেছ – দুধ আসলেই কুড়কুড়ে পদার্থ!
রোমানিয়া বিস্কুটের একটি বিজ্ঞাপন ! শিক্ষক চরিত্রে আছেন আমাদের দেশের অতিপ্রিয় মুখ ড. ইনামুল হক আর একদল ছোট ছোট ছেলেমেয়ে। বিজ্ঞাপনটি থেকে কিছুই শিখার নেই উল্টো বাচ্চাদের বিভ্রান্তি দেয়ার মতো শক্ত পক্ত একটি ম্যাসেজ দেয়া হয়েছে।


দুধ তরল পদার্থ। একটি আদর্শ খাবার।

দুধ খাওয়ার পরিবর্তে দুধের তৈরি বিস্কুট খেলে যদি সত্যি দুধের চাহিদা মিটে যেতো তাহলে ডাক্তার, পুষ্টিবিদ থেকে কেউই বাচ্চাদের কষ্ট করে দুধ খাওয়াতে পরামর্শ দিতেন না! বাচ্চাদের জন্য এক গ্লাস দুধ আর ওদের মুখে তুলে দিয়ে গ্লাসের দুধ শেষ করানো অনেক কষ্টসাধ্য কাজ বেশীরভাগ বাচ্চাদের বেলায়।

মন্ত্রিসভায় ‘মাতৃদুগ্ধ-বিকল্প শিশুখাদ্য আইন ২০১৩’ চুড়ান্ত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে এ ব্যাপারে নিষেধজ্ঞা দেওয় হয়েছে।

শিশু খাদ্য হিসাবে মায়ের দুধের বিকল্প হিসাবে গুঁড়া দুধকে পূঁজি করে সাধারণ মানুষের সামনে বিজ্ঞাপন দেয়া যাবেনা! একই সঙ্গে বিকল্প শিশুখাদ্য বিক্রির ব্যাপারে উত্সাহিত করতে কাউকে উপহার, মূল্যছাড়, সভা-সেমিনার আয়োজন, শিশুদের জন্য প্রতিযোগিতা বা অনুষ্ঠানের আয়োজন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে শিশুখাদ্যের মোড়কে শিশু বা মায়ের ছবির ব্যবহার।

এ-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ আইনের আওতায় বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালত আইন ২০০৯ অনুযায়ী বিচার করার বিধান রাখা হয়েছে।


মায়ের দুধের বিকল্প কোন খাবারই শিশুর জন্য হতে পারে না। এ নিয়ে বহুবছর যাবত নানা রকম প্রচারনা চলছে। শিশু জন্মের পর শাল দুধ খেতে দেয়া হতো না এক সময়! দেয়া হতো শিশুর মুখে মধু কিংবা খাঁটি সরিষার তেল! গ্রাম বাংলায় এখনো এই ধারা প্রচলিত আছে। যতই বলা হচ্ছে শিশু জন্মের পর দুই বছর মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে এবং প্রথম ছয় মাস শুধুই মায়ের বুকের দুধ খেতে দিতে হবে। কার্যত সেটির প্রচলন একেবারেই নেই বললেই চলে। নানা অজুহাতে মা এবং পরিবারের সকলের ঐক্য মতের ভিত্তিতে নবজাতকের মুখে তুলে দেয়া হয় কেনা খাবার যা শিশুর দৈহিক ও  মানসিক বিকাশে বাধাগ্রস্থ হয়।
মিডিয়ার চটকদার বিজ্ঞাপনের দ্বারা অনেক বেশি প্রভাবিত হয় একটি বিশেষ মহল কিংবা শ্রেণী। যারা বিশ্বাস করেন চটকদার বিজ্ঞাপনের কথাগুলু! ফলে ছোট সোনামণির হাতে তুলে দিতে দ্বিধা করেন না একটা মিল্ক ক্যান্ডি! একটি টেঁটরা প্যাঁক দুধ কিংবা চকলেট দুধ সাথে একটি স্ট্র! স্কুলের টিফিনেও দেখা যায় অনেকে দিয়ে দেন এক প্যাকেট চকলেট দুধ! আদর্শ খাবার বলে তালিকাটায় বিরাট একটি স্থান দখল করে রেখেছে বছরের পর বছর।
সকল মিডিয়াতেই দুধ নিয়ে ভ্রান্ত ও প্রলুব্ধকরণ আইন ও শাস্তির বিধান হলেও বন্ধ হয়নি এই সব বিজ্ঞাপন। দুধ খেলে শিশু ২/৩ ইঞ্চি লম্বা হয়! মেধা বিকাশ হয়, শক্তি হয়, পরীক্ষায় ভাল ফলাফল, খেলাধুলায় চ্যাম্পিয়ন হওয়া যায়! দেশের বাজার ছেয়ে গেছে খ্যাত ও অখ্যাত নানা ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ! নিয়ন্ত্রনহীনভাবে সাধারন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে এইসব অস্বাস্থ্যকর দুধ!

এক সময় গুঁড়া দুধে মেলামাইনের অস্তিত্ব প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিল। সেই দিকটি সম্পূর্ণ ধামা চাপা পরে গেছে! অনুমদনহীনভাবে শিশু খাদ্য বাজারজাতকরণ হচ্ছে । এইসব কোম্পানিগুলু অন্যায় ভাবে/ মানুষকে ঠকিয়ে শিশু স্বাস্থ্য থেকে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যখাতের প্রতি কাচকলা দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা!

চিনে এরকম অনেক শিশু দুধে মেলামাইনের বিষে মৃত্যুবরণ করেছে ! 

দেশের আপামর জনসাধারনের স্বাস্থ্য রক্ষা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব হওয়া সত্ত্বেও – এই সব বিজ্ঞাপন, কোম্পানিগুলুর নিয়ন্ত্রণের সরকার কিছু করছে না কিংবা নিয়ন্ত্রণে নেই! উল্টো জিম্মি হয়ে আছে এই সকল প্রতারক খুনি চক্রের কাছে!

মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৩

এতো তফাৎ কেন?

বড় বাপের পোলায় খায়, শাহী জিলাপি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনী, আলুর চপ, শাহী কাবাব, স্বামী কাবাব, শিক কাবাব, ঘুগনি, হালিম, রেশ্মি জিলাপি, দই বড়া, পাকুরা, রায়তা, দই চিড়া, দই বুন্দিয়া, ভেলপুরি, লাচ্ছি, ফলের চাট, চিকেন টিক্কা, শাসলিক, ফিশ ফিঙ্গার, লাবাং, পরোটা কাবাব রোল, হরেক রকম শরবত, খেজুর, নানা রকম ফল ইত্যাদি আমাদের অনেকের দৈনিক ইফতারের তালিকায় থাকে। ইফতারের আয়োজন অনেকটা ফুর্তি একটি আনন্দঘন পরিবেশে খাওয়া দাওয়া সারাদিনের রোজা শেষে! আমাদের দেশে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিন্মবিত্তরাও এরকমই করে
থাকেন। কেবল বাদ পরেন তারা যাদের বলা হয় দরিদ্র!
এরা কি করে?
আমাগো আবার ইফতার! গরিবের  লাইগা এগুলা না। আমরা গরীবরা ত সারা বছরই রোজা থাকি! আমরা কি আপ্নেগ বড় লকেগ মতো ডেইলি খাইতে পারি? পারিনা ! ইয়ার লাইজ্ঞা রোজা আমাগো লাইগা নতুন কিছু না, কষ্টের কিছু না, আনন্দের কিছু না। আমাগো ১২ মাস এক রকমই যায়। তয় হে রোজার মাস আইলে আপনেরা বড় লোকেরা দান খয়রাত দেন আমাগো লাইগা মোডা কাপড় আর কেউ কেউ ১/২ দিন ইস্তারি (ইফতার) খাওয়ায়। তাও যেই ধাক্কা মারামারি কইরা যাইতে হয় হেইডা শুইনা বুঝবেন না। তারপরও যহন জানতে চাইলেন শুনেন – আমরা ইস্তারে (ইফতারে) পানি খাই, পাইলে একটু বুট মুড়ি খাই যদি কেউ দেয় পাই নাইলে টেহা হাতে আইলে কিনি কিছু। ঘরের সকলে মিল্লা সব এক লগে ভাইংগা চুইরা মিলাইয়া ভাগ করে খাই!
পলিথিনের প্যাকেটে ছোলা, মুড়ি, একটি করে বেগুনি, জিলাপি এবং খেজুর। সব মিলিয়ে দাম ১০ টাকা। মাখানো এই ইফতারি অনেকেই কিনছেন। অনেকের এটারও সামর্থ্য নেই। ফুটপাতের ইফতারের দোকান থেকে ৫-১০ টাকার ইফতারি কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রাজধানীর হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে। কেউ কেউ বাড়ির দরজায় ঘুরে ঘুরে কিছু ইফতার সংগ্রহ করে আবার পথ শিশুরা দোকানের সামনে হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকে ক্রেতা এবং বিক্রেতার পানে!
কিছু কিছু বিক্রেতা ওদের হাতে মাঝে মাঝে খাবার তুলে দিলেও কখনোই কোন ক্রেতাকে দেখা যায়নি ঐ দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির  হাতে একটু খাবার তুলে দিতে! ছোট ছোট বাচ্চাগুলু দাঁড়িয়ে থাকে পেটের তাড়নায়। ধাক্কা মেরে ফেলে দিতেও তোয়াক্কা করে না। ক্রেতাদের একটা কথা খুব কমন-কাজ করে খেতে পারিস না? চল কাজ করবি বাসায়! ভিক্ষা করে খাওয়া তদের অভ্যাস হয়ে গেছে! থাপ্পড় মেরে/ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়াটাও নৈমিত্তিক দৃশ্য!
তবে দেশের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ফ্রি খেজুর ও পানি সরবরাহ করছেন সেই সব মানুষগুলুর জন্য যারা যানজট কিংবা কোন কারনে রাস্তায়/বাইরে রয়ে গেছেন! সেটির পরিমানও খুব নগণ্য! এছাড়া রোজায় রাজধানীর হাজার হাজার মানুষের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রতিদিন ইফতারের আয়োজন করছে। এই আয়োজন সকলের জন্যই।
দেশের বড় বড় নেতারাও একদিন এতিম কিংবা পথ শিশুদের নিয়ে ইফতার পার্টির আয়োজন করে থাকেন। সেখানেও থাকে কিছু সীমাবদ্দতা! গণমাধ্যমগুলুও তুলে ধরে কোথায় কি কি নামী দামি বিশেষ বিশেষ খাবার মিলে এবং দরদাম কতো! ইফতারে কি কি বানাতে হবে, কি করে বানাতে হবে এই নিয়ে সকল টিভি চ্যানেলেই চলে ইফতার তৈরির আয়োজন অনুষ্ঠান!
যেখানে দেশের এক শ্রেণীর মানুষ প্রতিদিন ইফতার করছেন নানা মুখরোচক খাবার দিয়ে সেখানে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য একটি দিন কেন আমাদের দেশপ্রেমিকরা বরাদ্দ করেন? প্রতিদিন নয় কেন? এই মানুষগুলুকেই হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে কারো অন্তরে লাগে না!
(!) কাজের সময় কাজী, কাজ ফুরালেই পাজী! / জোর যার মল্লুক তার!

জমজমাট ১ টাকার ব্যবসা (!)

মিডনাইট সান চাইনিজের প্রমোশন অফারের কুপন বিক্রি করতে এসেছেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের একজন কর্মী। কুপন কিনলে পুরু বছর এর সুবিধা হল একটি ডিশ কিনলে সমমূল্যের আরেকটি ডিশ ফ্রি! একদিনে একজন গ্রাহক ২ টি কুপন ব্যবহার করতে পারবেন! মন্দ নয় ভালই দেখা গেল অফারটার সকল নিয়ম কানুন! যেহেতু বাইরে খাওয়া দাওয়ার একটি অভ্যাস/বদঅভ্যাস আছে ! তাই নিতে দ্বিধা নেই। কিন্তু কত টাকা দাম? বেশী না ৯৯৯/- টাকা! ১০০০/- টাকা দেয়া হল ঠিকই কিন্তু কুপন বিক্রেতার হাসি ১ টাকা ত খুচরা নেই! হি হি হি …আচ্ছা ঠিক আছে দিতে হবে না ১ টাকা।
- সকাল বেলায় বিআরটিসি বাসের টিকেট কাটার জন্য দেয়া হল ২০ টাকা ! টিকেটের মূল্য ১৫ টাকা! ৪ টাকা ফেরত দিয়ে ওই একই কথা: ১ টাকা খুচরা নেই!
- ফার্মেসীতে ঔষধ কিনতে গিয়ে ১ টাকার বদলে একটি চকলেট দিয়ে দিল! শুধু ঔষধ নয় নানা রকমের দোকানের এটা একটা ১ টাকা বাণিজ্য। বাজারে ১ টাকার কয়েনের অভাব নেই! তারপরও এরা এমন করে যাচ্ছে!
- বনানীতে একটি খাবার দোকানে খেয়ে বিল দিতে গিয়ে একটি দৃশ্য। ১ টাকা কম দেয়া হল গ্রাহককে! ক্ষিপ্ত গ্রাহক বলেই দিলেন আপনি ১ টাকা কম রেখে আমাকে ১ টাকা বেশী দিন! মজা করেন ১ টাকা নাই বলে ব্যবসা শুরু করেছেন?
- দোকানের নানা রকম পণ্যের মূল্য দেয়া হয় অদ্ভুত সব মজার অঙ্কে! গ্রাহকের নজর কাড়ার কৌশল। ৯৯৯, ৫৯৯৯, ৬৯৯, সব কিছুর শেষেই ওই এক ৯৯ এঁটে দেয়া হয়! মন্দ নয়, ধোঁকাবাজিও নয়! এটা একটা বিপনন নীতি। তবে এর আইনগত বৈধতা নিয়ে জানা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক কি ভাবে সেটাও জানার উপায় নেই।
- একটি সময় নানা দৈনিক পত্রিকায় দেখা যেতো কোটিপতি হতে চান? তাহলে জিপিও বক্স এর নম্বরে ১ টাকা পাঠিয়ে দিন! ব্যাস এমন করে কোটি জনতা থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে বিজ্ঞাপন দাতা নিজেই কোটিপতি বনে যেতেন! আর যারা ১ টাকা দিয়ে ভুক্তভুগি তারাও অতো কঠিন করে ভাবতেন না কারণ মাত্র ১ টাকা! এমন চক্র পুলিশের কাছে গ্রেফতারের খবরও ছেপেছিল পত্রিকায়!

বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

MANONIO JOGAJOG MONTRONALOY & CAR PARKING At Motijheel

DHAKA CITY janjot komanor jonne onek podokkheper golpo sune astesi bohudin jabot…TRANSPORTATION & TRAFFIC ENGR. biseshoggo ra gobeshona korchen hoyto…kintu bortoman amon onek kichui ache jar biruddhe ayeen anug bebostha nile jan jot onek kombe….

01. Car Parking Restriction ta only motijheel area te noy pura dhaka city tei jotro totro bondho korte hobe…amon kono rasta nai jekhane gari sue bose daraye thake na!!!
02. residential Area theke School, college, office, Shopping soriye neya
03. Zone Selection ONUJAYEE sob sthapona gore uthbe
04. Unfite gari purapuri bondho kore crush kore dite hobe
05. onoviggo,  license bihin chalok k gari chalate na deya
06. traffic police er majhe sotota r monovab toiri kora
07. Private gari sonkha komiye public gari barate hobe
08. protita commercial, residential building must Car parking thakte hobe
09. Car parking jotro totro korle jorimana koraaa
10. Traffic ayeen puropuri mene chola

aai type er aro nana podokkhep ache ja FLY OVER, PATAL RAIL typer expensive project haate na niya o amra korte pari..ja amader motoo unnoyon shil deshe khubi gurutto purno…
ami MANONIO JOGAJOG MONTRONALOY k onurodh korbo apnar doya kore aai dhorone pdokkhep niin abong beey biihn aay korun abong Dhaka city k janjot mukto korun abong sadharon jonogoner jibon jatra nischit korun…..

hindi cartoon channel bondho kora hobe ki??

amader bacchara hindi cartoon channel dekhte dekhte ora hindi bhasa etoi ropto korese ja bola bahullo…oii TV channe gulu bondho kore amader TV channel gulu nejera sundor sundor onusthan toiri abong bedesi famous cartoon o nana dhoroner sishutosh onusthan gulu bangla dabing kore procharaye agiya asle amader notun generation kichu ta holeo oposongskriti ropto kora theke rokkha peto…..