সুস্থু
নবজাতক হোক সকলেরই কাম্য ! প্রতি বছর ১৭ নভেম্বর পৃথিবীর অন্যান্য দেশের
মতো বাংলাদেশে ও পালিত হয় “ বিশ্ব প্রিম্যাচিউরিটি “ দিবস ! ৩৭ সপ্তাহ বা
২৫৯ দিন পুরন হবার আগেই জন্ম গ্রহন করা শিশুকে বলা হয়
প্রিম্যাচিউর বা অপরিপক্ক নবজাতক ! একজন নবজাতক সাধারনত ৮০ সপ্তাহ অথবা
২৮০ দিন মায়ের গর্ভে থাকার পর জন্ম গ্রহন করে ! এ সময় পৃথিবীতে শিশু জন্ম
নিলে বেঁচে থাকার মতো পরিপক্ক ও শক্তি অর্জন করে পৃথিবীর আলো দেখে !
সারা বিশ্বে প্রতিবছর এক কোটি ৫০ লাখ নবজাতক ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে জন্ম লাভ করে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে একটি প্রিম্যাচিউর। তাদের মধ্যে অনেকেই থাকে স্বল্প ওজনের বা দুই হাজার ৫০০ গ্রামের কম।
দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের মতো বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার, বিশেষ করে নবজাতকের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। আমাদের দেশে নবজাতকের মৃত্যুর প্রধান কারণ প্রিম্যাচিউরিটি বা সময়ের আগে জন্ম নেওয়া। পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া এবং দ্বিতীয় কারণ প্রিম্যাচিউরিটি। যেসব শিশু বেঁচে থাকে, তারাও সারা জীবন শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে বেঁচে থাকে।
গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হার এবং অপরিপক্ব শিশু জন্মানোর হার শুন্য কোটায় আনতে সরকার এর পাশা পাশি আমাদের দেশে কাজ করে যাচ্ছে দেশি বিদেশী নানা সংস্থা , সংগঠন , এন জি ও ! এদের মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হল আই সি ডি ডি আর বি ( "International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh" ) ! এদের সঙ্গে WHO . UNICEF ও কাজ করছে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে! জাদের বিশেষজ্ঞ দল গ্রামের আনাচে কানাচে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকেন !
গর্ভাবস্থা কোনো অসুস্থতা নয়, এটি একটি অতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। গর্ভধারণ নারী জীবনকে পূর্ণতায় ও প্রাপ্তিতে পরিপূর্ণ এবং মহিমান্বিত করে। এটি সৃষ্টির সেরা মানবকুলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক অর্পিত পবিত্রতম দায়িত্বের অন্যতম। ! মাতৃত্বের মাধ্যমে একজন নারীর জীবনে পরিপূর্ণতা আসে। একজন মা গর্ভবতী হবেন এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। হবু মায়েদের যত্ন টা তাই ঠিক ঠাক মতো করতে হবে ! গর্ভের শিশুর শারীরিক ও মানসিক পরিপূর্ণ বিকাশের পূর্বশর্ত হচ্ছে মায়ের সুস্থতা সুনিশ্চিতকরণ। এ জন্য একজন নারীকে নিজেই যেমন হতে হয় স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন, তেমিন গর্ভবতী মায়েদের প্রতি যত্নশীল হতে হয় পরিবারের সবার। গর্ভবতী মায়ের পরিচর্যা 'গর্ভস্থ সন্তান ও মা' উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৮০০০ মহিলা গর্ভসঞ্চারজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পাশাপাশি নবজাতক মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৮৩ জন। মা ও শিশুর এ অকাল মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু এ প্রতিরোধ আমাদের দেশে সম্ভব হয়ে উঠছে না মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে। তাই গর্ভবতী মা-এর যত্ন সম্বন্ধে নিজেকে জানতে হবে ও অনেক জানতে সাহায্য করতে হবে !
কথায় আছে সন্তানের হাসিতে মায়ের খুসি। আর এই হাসি দেখতে হলে গর্ভকাল থেকেই মাকে থাকতে হবে হাসিখুসি দুশ্চিন্তামুক্ত। শিশুর স্বাস্থ্য স¤পূর্ণ রূপে মা-বাবার স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে। সুস্থ শিশুলাভের জন্য গর্ভবতী মাকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং পর্যাপ্ত পরিমান পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন। প্রেগন্যান্সি অবস্থায় মাকে নিয়মিত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে। তাই পরিবারের সবাইকে এ ব্যাপারে গর্ভবতী মাকে সাহায্য করা উচিত।
গর্ভাবস্থা মা যা আহার গ্রহণ করে, তা শিশুর বিকাশে সহায়ক হয়। তাই গর্ভবতী মায়ের নিজের প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর জন্য বাড়তি খাদ্যের প্রয়োজন। মায়ের অপুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ শুধু তার নিজের জন্যই ক্ষতিকর নয় নবজাতক শিশুর জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর। গর্ভাবস্থায় মা পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ না করার কারণে শিশু ও গর্ভবতী মা উভয়ই অপুষ্টিতে ভোগেন। তাই গর্ভবতী মা ও তার অনাগত শিশুর সুস্থ জীবনের জন্য গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মা যদি গর্ভাবস্থায় অপুষ্টিতে ভোগেন তাহলে যে শিশু জন্মগ্রহণ তার জন্ম-ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হবে, শিশু জন্মগতভাবেই অপুষ্টি নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। এ ধরনের শিশুর মৃত্যু ঝুঁকিও বেশি থাকে পক্ষান্তরে গর্ভকালীন সময়ে মা যদি পুষ্টিকর খাদ্য না খান, তাহলে মায়ের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়বে। এ ধরনের মায়েদের মৃতশিশু প্রসব এবং প্রসবকালীন মৃত্যুও ঝুকিও বেশি থাকে।
গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রতিদিন ভাত , মলা , ঢেলা মাছ এবং সম্ভব হলে মাংস , দুধ এবং ঘন ডাল , সিমের বীচি ইত্যাদি খেতে দিতে হবে ! এ ছাড়া সবুজ ও হলুদ রঙের শাকসবজি ও তাজা ফলফুল বিশেষ করে পাকা আম , পেপে । কাঁঠাল । পেয়ারা , আনারস , কচুশাক , পুইশাক , ডাটা শাক , লালশাক , গাজর , টমেটো , মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে দিতে হবে ! ভিটামিন এ শরীরে আয়রন উৎপাদনে সাহায্য করে ! একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য আয়রন খুব জরুরী !
আমলকী , কামরাঙ্গা , কুল , পাতি লেবু ইত্যাদি ফল খেলে সহজেই ভিটামিন সি এর অভাব পুরন হয় ! শরিরের আয়রন শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সি জরুরী !
গর্ভবতী মায়েদের জন্য ক্যালসিয়াম ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ! ক্যালসিয়ামের অভাবে উচ্চ রক্তচাপ , প্রি এক্লামসিয়া হবার সম্ভাবনা থাকে ! দুধ , ঘি , মাখন , দিমের কুসুম , ছোট মাছ , কলিজা , ডাল , মাছ ,মাংস এবং সবুজ শাক সবজি ও ফলমূল ইত্যাদি খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূর্ণ হবে ! যদি কেউ এই ধরনের সব খাবার যোগার করতে অক্ষম হয় তাহলে এক্তু বেশি ভাত , বেশি পরিমান ঘন ডাল , তরকারী এবং ফলমূল খেলেই প্রয়জন অনেকটা মিতে যাবে !
গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় আয়োডিন যুক্ত লবন এবং সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক মাছের তেল থাকা প্রয়োজন !
চির-অম্লান প্রদীপ জ্বালিয়ে বংশের ধারা রক্ষা করা সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক এবং স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরও মেনে চলতে হবে নিয়ম-কানুন, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।
- নিয়মিত একজন ধাত্রীবিশেষজ্ঞের অধীনে চেকাআপ থাকা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো ( টিটেনাস ইনজেকশন গ্রহন)
- ভারী কাজ , লম্বা ভ্রমন ও দুশ্চিন্তা পরিহার করা
- পরিমিত বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ সেবন ও এক্সরে করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা
- উচ্চ রক্তচাপ , হৃদরোগ , এজমা , ডায়াবেটিস ধরনের রোগ থাকলে আগেই ডাক্তার এর পরামর্শ নেয়া
মায়ের অপুষ্টির পরিণতি গর্ভকালীন, ডেলিভারির প্রসবোত্তর জটিলতা বেড়ে যায় এবং অনেক সময় মৃত্যুর শিকারও হতে হয় মাকে। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৮০০০ মহিলা গর্ভসঞ্চারজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পাশাপাশি নবজাতক মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৮৩ জন। মা ও শিশুর এ অকাল মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু এ প্রতিরোধ আমাদের দেশে সম্ভব হয়ে উঠছে না মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে।
শিশুটির অপুষ্টির পরিণতি - গর্ভাবস্থায়, ডেলিভারির সময়ে অথবা নবজাতক অবস্থায় মারা যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, স্বল্প ওজন, অপুষ্ট এবং অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেয়। জন্মগত ত্রুটি, হাবাগোবা হতে পারে, নানা প্রকার ইনফেকশন বা প্রদাহ, মস্তিষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেহেতু পুষ্টির চাহিদা বেড়ে যায় সেহেতু গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের ও গর্ভস্থ শিশুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য সব ধরনের খাদ্য বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
গর্ভকালীন মায়ের ওজন বৃদ্ধি
গর্ভকালীন মায়ের ওজন ১০-১২ কেজি বাড়া উচিত ? যেসব মহিলার ওজন কম তাদের বেশি ওজন এবং স্থূলকায় ওজনের মহিলাদের কম ওজন বৃদ্ধি হওয়া উচিত (৬-৯ কেজি) ? বাংলাদেশে একজন গর্ভবতী মহিলার গড়ে ৪-৬ কেজি ওজন বৃদ্ধি হয়। যে কারণে কম ওজনের শিশু জন্মের হার অনেক বেশি (প্রায় ৩০ ভাগ)।
গর্ভাবস্থায় একবারে বেশি খেতে না পারলে বারবার অল্প অল্প করে খেতে হবে। বিভিন্ন খাবারের পরিমাণ প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাড়াতে হবে, যাতে চাহিদা পূরণ হয়। আমাদের দেশে অনেক গর্ভবতী মায়ের খাদ্য সম্পর্কে কুসংস্কার আছে। গর্ভবতীতে এসব কুসংস্কার ও ভুল ধারণা অবশ্যই পরিত্যাগ করে বেশি পরিমাণে সুষম খাবার খেতে হবে।
প্রায় ৫০% মহিলার খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় বমির ভাব বা বমি হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর টোস্ট বা বিস্কুট খাবে এবং তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। ৩ বেলা ভারি খাবারের পরিবর্তে অল্প অল্প করে বার বার খাবে। যদি সাধারণ ব্যবস্থা কার্যকর না হয় তবে বমি নিবারক ওষুধ খেতে পারে।
ক্লান্তি গর্ভাবস্থার শুরুর দিকের লক্ষণ। শেষের দিকে রক্তশূন্যতার জন্যও এই লক্ষণটি দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ভারী কাজ না করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিযুক্ত খাবার এসব সমস্যার সমাধান দিতে পারে। গর্ভবতী মাকে হাসিখুশি রাখা ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়ের সব কাজে সহায়তা দিতে হবে।
ফ্যাকাসে ও অপুষ্টি : গর্ভাবস্থায় প্রথম মাস থেকে ট্যাবলেট ফলিক এসিড এবং ৩ মাস পর থেকে আয়রন ও ফলিক এসিড শুরু করতে হবে।
একজন গর্ভবতী মায়ের গড়ে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে । রাতে ৮ ঘণ্টা এবং দিনে ২ ঘণ্টা ঘুমাবে। ঘুমানোর সময় বিশেষ করে গর্ভধারণের শেষ মাসগুলোতে কাত হয়ে শোবেন। এতে করে জরায়ুতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
গর্ভবতী মা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় হাটা ও হালকা ব্যায়াম ও অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করতে হবে । এতে করে সহজ নরমাল ডেলিভারি হবে। তবে গর্ভাবস্থায় ভারী এবং কষ্টসাধ্য ব্যায়াম নিষেধ। গর্ভাবস্থায় ধূমপান, অ্যালকোহল এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া নিষেধ।
গর্ভাবস্থায় বিপদজনক চিহ্নগুলো জেনে রাখা ও খুব দরকার । এগুলো গর্ভকালীন বিপদহতে রক্ষা করবে।
- চোখে ঝাপসা দেখা,
- হাঁটুর নিচে পায়ের পেছনের মাংসপেশি লাল হয়ে যাওয়া, ব্যথাযুক্ত ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া,
- শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রির উপরে হওয়া, তলপেটে প্রচ- ব্যথা হওয়া, রক্তস্রাব দেখা দেয়া,
- প্রচন্দ মাথাব্যথা ও দৃষ্টির সমস্যা হওয়া, বাচ্চার নড়াচড়া টের না পাওয়া, পানি অথবা পানির মতো স্রাব যাওয়া। এর যে কোনো একটি উপসর্গ দেখা গেলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
গর্ভবস্থার প্রথম দিকে যদি তলপেটে প্রচ- ব্যথাসহ ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালে চলে যেতে হবে , এটি জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ একটি অবস্থা হতে পারে। সাধারণত আলট্রাসনোগ্রাফি গর্ভাবস্থায় প্রথমে একবার, মাঝে একবার এবং শেষের দিকে আরো একবার করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করাসহ ভ্রুনের অবস্থান, সংখ্যা, জন্মগত ত্রুটি, বৃদ্ধি, প্লাসেন্টা বা জরায়ুর অবস্থান, জরায়ুতে বাচ্চার অবস্থান, ডেলিভারির তারিখ ইত্যাদির নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায়। এই পরীক্ষায় কোনো ক্ষতিকর প্রমাণ এখনো মেলেনি এবং এটি বাচ্চার উপরও কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।
নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই যদি আপনার প্রসব বেদনা শুরু হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের নিকটস্থ হতে হবে । এ অবস্থায় আপনার যা কিছু করণীয়, তিনিই করবেন। যদি ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হয় এবং অপরিণত সন্তান পৃথিবীতে আসেই, তবে এর জন্য শিশু বিশেষজ্ঞ আছেন, যিনি আপনার সন্তানের সুস্থতায় এগিয়ে আসবেন।
যেসব কারণে গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেগুলো হলো :
- বয়স ১৮ বছরের কম হলে
- বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে।
- প্রথম গর্ভধারণ ৩০ বছর বয়সের উর্ধ্বে হলে।
- পূর্ববর্তী প্রসব হতে পরবর্তী গর্ভধারণ ২ বছরের কম হলে।
- ওজন ৩৮ কেজির কম হলে এবং মারাত্মক রক্তশূন্যতা থাকলে।
- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, অ্যাজমা, এইডস ইত্যাদি থাকলে।
- পূর্ববর্তী ডেলিভারি সিজারের মাধ্যমে হলে।
- পূর্বে বাচ্চা হয়ে অল্প দিনের মধ্যে মারা গেলে।
- মরা বাচ্চা প্রসব হয়ে থাকলে।
খ্রিস্টের জন্মেরও বহু আগে প্রাচীন রোমের অধীশ্বর জুলিয়াস সিজারকে মা আউরেলিয়ার পেট কেটে বের করা হয়েছিলো। আর সে জন্যই স্বাভাবিক প্রসবের ব্যতিক্রম এই পদ্ধতিকে বলা হয় 'সিজারিয়ান', সেই সঙ্গে এ পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের বলা হয় 'সিজারিয়ান বেবি'।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপযুক্ত নির্দেশনা এবং পর্যবেক্ষণের অভাবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদান ক্রমেই বাড়ছে। এ দিকে নজর দিতে সরকারের প্রতি পরামর্শ রেখেছেন তারা।
সবশেষে বলা যায়, পরিবার পরিকল্পনা, নারীর ক্ষমতায়ন, গর্ভকালীন পরিচর্যা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এবং আমাদের সবার সার্বিক প্রচেষ্টায় সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের মৃত্যুকে প্রতিরোধ করতে পারি, বাঁচাতে পারি লাখো নবজাতকের প্রাণ।
— with Nazneen Abeda and 7 others. সারা বিশ্বে প্রতিবছর এক কোটি ৫০ লাখ নবজাতক ৩৭ সপ্তাহ পূর্ণ হওয়ার আগে জন্ম লাভ করে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শিশুর মধ্যে একটি প্রিম্যাচিউর। তাদের মধ্যে অনেকেই থাকে স্বল্প ওজনের বা দুই হাজার ৫০০ গ্রামের কম।
দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকটি দেশের মতো বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর হার, বিশেষ করে নবজাতকের মৃত্যুর হার অনেক বেশি। আমাদের দেশে নবজাতকের মৃত্যুর প্রধান কারণ প্রিম্যাচিউরিটি বা সময়ের আগে জন্ম নেওয়া। পাঁচ বছরের নিচে শিশুদের মৃত্যুর প্রধান কারণ নিউমোনিয়া এবং দ্বিতীয় কারণ প্রিম্যাচিউরিটি। যেসব শিশু বেঁচে থাকে, তারাও সারা জীবন শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে বেঁচে থাকে।
গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হার এবং অপরিপক্ব শিশু জন্মানোর হার শুন্য কোটায় আনতে সরকার এর পাশা পাশি আমাদের দেশে কাজ করে যাচ্ছে দেশি বিদেশী নানা সংস্থা , সংগঠন , এন জি ও ! এদের মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হল আই সি ডি ডি আর বি ( "International Centre for Diarrhoeal Disease Research, Bangladesh" ) ! এদের সঙ্গে WHO . UNICEF ও কাজ করছে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে! জাদের বিশেষজ্ঞ দল গ্রামের আনাচে কানাচে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকেন !
গর্ভাবস্থা কোনো অসুস্থতা নয়, এটি একটি অতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। গর্ভধারণ নারী জীবনকে পূর্ণতায় ও প্রাপ্তিতে পরিপূর্ণ এবং মহিমান্বিত করে। এটি সৃষ্টির সেরা মানবকুলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক অর্পিত পবিত্রতম দায়িত্বের অন্যতম। ! মাতৃত্বের মাধ্যমে একজন নারীর জীবনে পরিপূর্ণতা আসে। একজন মা গর্ভবতী হবেন এটিই স্বাভাবিক নিয়ম। হবু মায়েদের যত্ন টা তাই ঠিক ঠাক মতো করতে হবে ! গর্ভের শিশুর শারীরিক ও মানসিক পরিপূর্ণ বিকাশের পূর্বশর্ত হচ্ছে মায়ের সুস্থতা সুনিশ্চিতকরণ। এ জন্য একজন নারীকে নিজেই যেমন হতে হয় স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন, তেমিন গর্ভবতী মায়েদের প্রতি যত্নশীল হতে হয় পরিবারের সবার। গর্ভবতী মায়ের পরিচর্যা 'গর্ভস্থ সন্তান ও মা' উভয়ের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৮০০০ মহিলা গর্ভসঞ্চারজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পাশাপাশি নবজাতক মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৮৩ জন। মা ও শিশুর এ অকাল মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু এ প্রতিরোধ আমাদের দেশে সম্ভব হয়ে উঠছে না মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে। তাই গর্ভবতী মা-এর যত্ন সম্বন্ধে নিজেকে জানতে হবে ও অনেক জানতে সাহায্য করতে হবে !
কথায় আছে সন্তানের হাসিতে মায়ের খুসি। আর এই হাসি দেখতে হলে গর্ভকাল থেকেই মাকে থাকতে হবে হাসিখুসি দুশ্চিন্তামুক্ত। শিশুর স্বাস্থ্য স¤পূর্ণ রূপে মা-বাবার স্বাস্থ্যের উপর নির্ভর করে। সুস্থ শিশুলাভের জন্য গর্ভবতী মাকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরিচর্যা এবং পর্যাপ্ত পরিমান পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন। প্রেগন্যান্সি অবস্থায় মাকে নিয়মিত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে। তাই পরিবারের সবাইকে এ ব্যাপারে গর্ভবতী মাকে সাহায্য করা উচিত।
গর্ভাবস্থা মা যা আহার গ্রহণ করে, তা শিশুর বিকাশে সহায়ক হয়। তাই গর্ভবতী মায়ের নিজের প্রয়োজনীয় খাবার খাওয়ার পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর জন্য বাড়তি খাদ্যের প্রয়োজন। মায়ের অপুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ শুধু তার নিজের জন্যই ক্ষতিকর নয় নবজাতক শিশুর জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর। গর্ভাবস্থায় মা পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ না করার কারণে শিশু ও গর্ভবতী মা উভয়ই অপুষ্টিতে ভোগেন। তাই গর্ভবতী মা ও তার অনাগত শিশুর সুস্থ জীবনের জন্য গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করা প্রয়োজন।
মা যদি গর্ভাবস্থায় অপুষ্টিতে ভোগেন তাহলে যে শিশু জন্মগ্রহণ তার জন্ম-ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হবে, শিশু জন্মগতভাবেই অপুষ্টি নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। এ ধরনের শিশুর মৃত্যু ঝুঁকিও বেশি থাকে পক্ষান্তরে গর্ভকালীন সময়ে মা যদি পুষ্টিকর খাদ্য না খান, তাহলে মায়ের স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়বে। এ ধরনের মায়েদের মৃতশিশু প্রসব এবং প্রসবকালীন মৃত্যুও ঝুকিও বেশি থাকে।
গর্ভবতী মায়ের জন্য প্রতিদিন ভাত , মলা , ঢেলা মাছ এবং সম্ভব হলে মাংস , দুধ এবং ঘন ডাল , সিমের বীচি ইত্যাদি খেতে দিতে হবে ! এ ছাড়া সবুজ ও হলুদ রঙের শাকসবজি ও তাজা ফলফুল বিশেষ করে পাকা আম , পেপে । কাঁঠাল । পেয়ারা , আনারস , কচুশাক , পুইশাক , ডাটা শাক , লালশাক , গাজর , টমেটো , মিষ্টি কুমড়া ইত্যাদি ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খেতে দিতে হবে ! ভিটামিন এ শরীরে আয়রন উৎপাদনে সাহায্য করে ! একজন গর্ভবতী মায়ের জন্য আয়রন খুব জরুরী !
আমলকী , কামরাঙ্গা , কুল , পাতি লেবু ইত্যাদি ফল খেলে সহজেই ভিটামিন সি এর অভাব পুরন হয় ! শরিরের আয়রন শোষিত হওয়ার জন্য ভিটামিন সি জরুরী !
গর্ভবতী মায়েদের জন্য ক্যালসিয়াম ও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ! ক্যালসিয়ামের অভাবে উচ্চ রক্তচাপ , প্রি এক্লামসিয়া হবার সম্ভাবনা থাকে ! দুধ , ঘি , মাখন , দিমের কুসুম , ছোট মাছ , কলিজা , ডাল , মাছ ,মাংস এবং সবুজ শাক সবজি ও ফলমূল ইত্যাদি খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূর্ণ হবে ! যদি কেউ এই ধরনের সব খাবার যোগার করতে অক্ষম হয় তাহলে এক্তু বেশি ভাত , বেশি পরিমান ঘন ডাল , তরকারী এবং ফলমূল খেলেই প্রয়জন অনেকটা মিতে যাবে !
গর্ভবতী মায়ের খাদ্য তালিকায় আয়োডিন যুক্ত লবন এবং সামুদ্রিক মাছ ও সামুদ্রিক মাছের তেল থাকা প্রয়োজন !
চির-অম্লান প্রদীপ জ্বালিয়ে বংশের ধারা রক্ষা করা সম্পূর্ণই প্রাকৃতিক এবং স্বাভাবিক। কিন্তু তারপরও মেনে চলতে হবে নিয়ম-কানুন, যা মা ও শিশু উভয়ের জন্যই কল্যাণকর।
- নিয়মিত একজন ধাত্রীবিশেষজ্ঞের অধীনে চেকাআপ থাকা
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সকল প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করানো ( টিটেনাস ইনজেকশন গ্রহন)
- ভারী কাজ , লম্বা ভ্রমন ও দুশ্চিন্তা পরিহার করা
- পরিমিত বিশ্রাম ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখা
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ঔষধ সেবন ও এক্সরে করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা
- উচ্চ রক্তচাপ , হৃদরোগ , এজমা , ডায়াবেটিস ধরনের রোগ থাকলে আগেই ডাক্তার এর পরামর্শ নেয়া
মায়ের অপুষ্টির পরিণতি গর্ভকালীন, ডেলিভারির প্রসবোত্তর জটিলতা বেড়ে যায় এবং অনেক সময় মৃত্যুর শিকারও হতে হয় মাকে। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বছরে প্রায় ২৮০০০ মহিলা গর্ভসঞ্চারজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। পাশাপাশি নবজাতক মৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ৮৩ জন। মা ও শিশুর এ অকাল মৃত্যুর অধিকাংশই প্রতিরোধযোগ্য। কিন্তু এ প্রতিরোধ আমাদের দেশে সম্ভব হয়ে উঠছে না মূলত স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবে।
শিশুটির অপুষ্টির পরিণতি - গর্ভাবস্থায়, ডেলিভারির সময়ে অথবা নবজাতক অবস্থায় মারা যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়, স্বল্প ওজন, অপুষ্ট এবং অপরিপক্ব অবস্থায় জন্ম নেয়। জন্মগত ত্রুটি, হাবাগোবা হতে পারে, নানা প্রকার ইনফেকশন বা প্রদাহ, মস্তিষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেহেতু পুষ্টির চাহিদা বেড়ে যায় সেহেতু গর্ভবতী অবস্থায় মায়ের ও গর্ভস্থ শিশুর প্রয়োজন মেটানোর জন্য সব ধরনের খাদ্য বেশি পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।
গর্ভকালীন মায়ের ওজন বৃদ্ধি
গর্ভকালীন মায়ের ওজন ১০-১২ কেজি বাড়া উচিত ? যেসব মহিলার ওজন কম তাদের বেশি ওজন এবং স্থূলকায় ওজনের মহিলাদের কম ওজন বৃদ্ধি হওয়া উচিত (৬-৯ কেজি) ? বাংলাদেশে একজন গর্ভবতী মহিলার গড়ে ৪-৬ কেজি ওজন বৃদ্ধি হয়। যে কারণে কম ওজনের শিশু জন্মের হার অনেক বেশি (প্রায় ৩০ ভাগ)।
গর্ভাবস্থায় একবারে বেশি খেতে না পারলে বারবার অল্প অল্প করে খেতে হবে। বিভিন্ন খাবারের পরিমাণ প্রতিদিন অল্প অল্প করে বাড়াতে হবে, যাতে চাহিদা পূরণ হয়। আমাদের দেশে অনেক গর্ভবতী মায়ের খাদ্য সম্পর্কে কুসংস্কার আছে। গর্ভবতীতে এসব কুসংস্কার ও ভুল ধারণা অবশ্যই পরিত্যাগ করে বেশি পরিমাণে সুষম খাবার খেতে হবে।
প্রায় ৫০% মহিলার খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় বমির ভাব বা বমি হতে পারে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর টোস্ট বা বিস্কুট খাবে এবং তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকবে। ৩ বেলা ভারি খাবারের পরিবর্তে অল্প অল্প করে বার বার খাবে। যদি সাধারণ ব্যবস্থা কার্যকর না হয় তবে বমি নিবারক ওষুধ খেতে পারে।
ক্লান্তি গর্ভাবস্থার শুরুর দিকের লক্ষণ। শেষের দিকে রক্তশূন্যতার জন্যও এই লক্ষণটি দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, ভারী কাজ না করা এবং স্বাস্থ্যসম্মত ও পুষ্টিযুক্ত খাবার এসব সমস্যার সমাধান দিতে পারে। গর্ভবতী মাকে হাসিখুশি রাখা ও পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে গর্ভবতী মায়ের সব কাজে সহায়তা দিতে হবে।
ফ্যাকাসে ও অপুষ্টি : গর্ভাবস্থায় প্রথম মাস থেকে ট্যাবলেট ফলিক এসিড এবং ৩ মাস পর থেকে আয়রন ও ফলিক এসিড শুরু করতে হবে।
একজন গর্ভবতী মায়ের গড়ে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে । রাতে ৮ ঘণ্টা এবং দিনে ২ ঘণ্টা ঘুমাবে। ঘুমানোর সময় বিশেষ করে গর্ভধারণের শেষ মাসগুলোতে কাত হয়ে শোবেন। এতে করে জরায়ুতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়।
গর্ভবতী মা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় হাটা ও হালকা ব্যায়াম ও অ্যারোবিক এক্সারসাইজ করতে হবে । এতে করে সহজ নরমাল ডেলিভারি হবে। তবে গর্ভাবস্থায় ভারী এবং কষ্টসাধ্য ব্যায়াম নিষেধ। গর্ভাবস্থায় ধূমপান, অ্যালকোহল এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাওয়া নিষেধ।
গর্ভাবস্থায় বিপদজনক চিহ্নগুলো জেনে রাখা ও খুব দরকার । এগুলো গর্ভকালীন বিপদহতে রক্ষা করবে।
- চোখে ঝাপসা দেখা,
- হাঁটুর নিচে পায়ের পেছনের মাংসপেশি লাল হয়ে যাওয়া, ব্যথাযুক্ত ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া,
- শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রির উপরে হওয়া, তলপেটে প্রচ- ব্যথা হওয়া, রক্তস্রাব দেখা দেয়া,
- প্রচন্দ মাথাব্যথা ও দৃষ্টির সমস্যা হওয়া, বাচ্চার নড়াচড়া টের না পাওয়া, পানি অথবা পানির মতো স্রাব যাওয়া। এর যে কোনো একটি উপসর্গ দেখা গেলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
গর্ভবস্থার প্রথম দিকে যদি তলপেটে প্রচ- ব্যথাসহ ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে যায়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ হাসপাতালে চলে যেতে হবে , এটি জীবনের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ একটি অবস্থা হতে পারে। সাধারণত আলট্রাসনোগ্রাফি গর্ভাবস্থায় প্রথমে একবার, মাঝে একবার এবং শেষের দিকে আরো একবার করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে গর্ভাবস্থা নিশ্চিত করাসহ ভ্রুনের অবস্থান, সংখ্যা, জন্মগত ত্রুটি, বৃদ্ধি, প্লাসেন্টা বা জরায়ুর অবস্থান, জরায়ুতে বাচ্চার অবস্থান, ডেলিভারির তারিখ ইত্যাদির নির্ভুল তথ্য পাওয়া যায়। এই পরীক্ষায় কোনো ক্ষতিকর প্রমাণ এখনো মেলেনি এবং এটি বাচ্চার উপরও কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না।
নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই যদি আপনার প্রসব বেদনা শুরু হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের নিকটস্থ হতে হবে । এ অবস্থায় আপনার যা কিছু করণীয়, তিনিই করবেন। যদি ভাগ্য সুপ্রসন্ন না হয় এবং অপরিণত সন্তান পৃথিবীতে আসেই, তবে এর জন্য শিশু বিশেষজ্ঞ আছেন, যিনি আপনার সন্তানের সুস্থতায় এগিয়ে আসবেন।
যেসব কারণে গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেগুলো হলো :
- বয়স ১৮ বছরের কম হলে
- বয়স ৩৫ বছরের বেশি হলে।
- প্রথম গর্ভধারণ ৩০ বছর বয়সের উর্ধ্বে হলে।
- পূর্ববর্তী প্রসব হতে পরবর্তী গর্ভধারণ ২ বছরের কম হলে।
- ওজন ৩৮ কেজির কম হলে এবং মারাত্মক রক্তশূন্যতা থাকলে।
- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিকস, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, অ্যাজমা, এইডস ইত্যাদি থাকলে।
- পূর্ববর্তী ডেলিভারি সিজারের মাধ্যমে হলে।
- পূর্বে বাচ্চা হয়ে অল্প দিনের মধ্যে মারা গেলে।
- মরা বাচ্চা প্রসব হয়ে থাকলে।
খ্রিস্টের জন্মেরও বহু আগে প্রাচীন রোমের অধীশ্বর জুলিয়াস সিজারকে মা আউরেলিয়ার পেট কেটে বের করা হয়েছিলো। আর সে জন্যই স্বাভাবিক প্রসবের ব্যতিক্রম এই পদ্ধতিকে বলা হয় 'সিজারিয়ান', সেই সঙ্গে এ পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুদের বলা হয় 'সিজারিয়ান বেবি'।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপযুক্ত নির্দেশনা এবং পর্যবেক্ষণের অভাবে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদান ক্রমেই বাড়ছে। এ দিকে নজর দিতে সরকারের প্রতি পরামর্শ রেখেছেন তারা।
সবশেষে বলা যায়, পরিবার পরিকল্পনা, নারীর ক্ষমতায়ন, গর্ভকালীন পরিচর্যা ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে এবং আমাদের সবার সার্বিক প্রচেষ্টায় সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের মৃত্যুকে প্রতিরোধ করতে পারি, বাঁচাতে পারি লাখো নবজাতকের প্রাণ।



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন