বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

পরিবেশ দূষণরোধে 3R এর ব্যবহার জরুরি

আমাদের দ্রুততম ছুটে চলা নাগরিক জীবনে পরিবেশ দূষণ নিয়ে চিন্তা ভাবনা করে কাজ করা হয়ে ওঠে না কখনোই। ফলে দুষিত হয়ে পড়ছে পরিবেশ।  আমাদের দেশে এর প্রয়োগ আছে কি কোথাও? কোথায় আছে? কোথায় নেই? কেনই বা নেই? কয়েকটি সহজ জীবনশৈলী  এবং রাসায়নিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করে পরিবেশ রক্ষায় সাহায্য করতে পারে !  পরিবেশ দূষণ থেকে রক্ষা পেতে, অর্থনৈতিক সাফল্য আনতে একটি বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে  পরিবেশরক্ষাকারী  তিনটি ইংরেজি অক্ষর! আর তা হল  3R কি? **  3R হল – REDUCE, REUSE, RECYCLE
3R এর প্রচলন বাংলাদেশের এখন তেমনভাবে শুরু হয়নি।  3R সামগ্রীগুলো খুব সহজেই আলাদা করে জমানো কিংবা ময়লা হিসাবে ফেলে দেয়া সম্ভব। এর জন্য প্রতিটি বাড়ির সামনে তিনটি ডাস্টবিন থাকবে। যার তিনটি রঙ হবে, যেমন হলুদ, লাল, নীল এবং গায়ে লেখা থাকবে – ক্যান, প্ল্যাস্টিক সামগ্রী, পেপার কিংবা অন্যান্য পচন বর্জ্য। তবে ঢাকা শহরে অধুনা কিছু কিছু এলাকায় ডাস্টবিনের ব্যবহার এমন আকার ধারণ করেছে ! তবে চোখে পড়েছে কেবল দুইটি। একটি কালো রঙের অন্যটি সবুজ রঙের ! বাড়িতে বসবাসরত মানুষরা নিজে থেকে এসেই ফেলে যাচ্ছেন বর্জ্যগুলো! যার থেকে খুব সহজেই সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য সংগ্রাহকরা আলাদা করেই তুলে নিতে পারছেন। তবে এর ব্যবহার এবং প্রয়োগ যথাযথভাবে হলে পরিবেশবান্ধব একটি উদ্যোগ হতো যার থেকে শুধু পরিবেশ দূষণ-ই রক্ষা পেতো না সাথে সাথে থ্রি- আরের মাধ্যমে ভাল একটি মুনাফাও আসতো!
এটা যদিও পরিবেশ বিজ্ঞানীদের ভাষা ! তথাপিও যদি সচেতন নাগরিক সমাজের কাছে খুব সহজ ভাষায় তুলে ধরা যায় তবে সহজেই পরিবেশবিদদের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে সহজেই।
প্রতি বছর শুধু , আমেরিকানরা দূরে ৫০ বিলিয়ন খাদ্য ও পানীয় ক্যান,  ২৭  বিলিয়ন কাচের বোতল এবং বয়াম, এবং ৬৫  মিলিয়ন প্লাস্টিক এবং ধাতু বয়াম ফেলা হয় ! বর্জ্য অধিক ৩০% প্যাকেজিং উপকরণ। আমাদের দেশে এ হার প্রায় একই রকম।
প্রতিদিন যে পরিমাণ বর্জ্য উত্পাদন হচ্ছে এবং হ্রাস পাচ্ছে পরিবেশের বিশুদ্ধতা সেটা থেকে রক্ষায় সাহায্য করার সবচেয়ে ভালো উপায় হল 3R। এই কাজ করার উপায় প্রচুর আছে। তার একটি সংক্ষেপ উদাহরণ:
REDUCE (কমানো)
-  প্যাকেটজাত কিছু পণ্য আছে যা কিনতে গেলে পণ্যটি মোড়ক করার প্রয়োজন নেই তারপর ও পন্যের মূল্য এবং আকর্ষণীয় করতে প্লাস্টিক কিংবা কাগজের মোড়ক ব্যবহার করা হয়! যা পন্যের শক্তি বা সম্পদ কোন কিছুতেই প্রয়োজন হয় না!  এটি বন্ধ করে দিতে হবে।
-  একটি সার বিন শুরু. কিছু লোক তারা নির্দিষ্ট খাদ্য ও উদ্ভিদ উপকরণ মীমাংসা করতে পারেন যেখানে তাদের গজ একটি স্থান সেট একপাশে. সময়ের সাথে সাথে, উপকরণ পচানি নামক একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভাঙ্গিয়া হবে. সার আপনার গজ মাটি জন্য ভাল এবং কম আবর্জনা ল্যান্ডফিল যেতে হবে.
-  একটি কম্পিউটার ব্যবহার করে বর্জ্য কমানো যেতে পারে। অনেক সংবাদপত্র ও পত্রিকা এখন অনলাইন আছে। পরিবর্তে কাগজ সংস্করণ কেনা,  ইন্টারনেট উপর তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়াও  শুধুমাত্র প্রয়োজনে প্রিন্ট আউট করা যেতে পারে। যদি সত্যিই প্রয়োজন হয় না যে মুদ্রণ সবকিছু কাগজ নষ্ট করা থেকে বিরত থাকা।
অয়ান টাইম ইউজ এই ধরনের দ্রব্য ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকা এবং এর উৎপাদনও বন্ধ করে দেয়া ! উদাহরন স্বরূপ বলা যেতে পারে – অয়ান টাইম ইউজ প্লেট/ গ্লাস/ বাটি/ বল ইত্যাদি! এবং প্ল্যাস্টিক জাতীয় পণ্য ব্যবহারে নিজেকে সংযত রাখা। উদাহরণস্বরূপ কিছু ব্যবহার দেখান যেতে পারে। যা থেকে অনেকের মধ্যেই একটি ধারণা জন্ম নিবে !
REUSE (পুনঃ ব্যাবহার)
-   বাজার করতে যাওয়ার জন্য একটি কাপড় কিংবা পাটের ব্যাগ সাথে নিয়ে গেলে দোকান থেকে প্লাস্টিক/ কাগজের ব্যবহার কমে যাবে। এই বস্তা বা ব্যাগ বার বার ব্যবহারযোগ্য। ফলে গাছ সংরক্ষণ হবে !
-  কফি ক্যান, জুতার বক্স, এবং পাত্রে মানুষের অন্য ধরনের জিনিস সঞ্চয় বা মজা চারু ও কারুশিল্প প্রকল্প হতে
-  জামাকাপড়, খেলনা, আসবাবপত্র, এবং আপনি আর করতে চাই না এমন সব দ্রব্য ফেলে না দিয়ে নিকট কোন আত্মীয়কে দেয়া যেতে পারে, বিক্রি করা যেতে পারে, অনেকে অনুদান হিসাবেও দেয়া যেতে পারে !
- একটি কাগজ ব্যবহারের ক্ষেত্রে উভয়পার্শ্ব ব্যবহার করলে কাগজ সাশ্রয় হবে।
-  কোন উপহার সামগ্রী মোড়কের জন্য চকচকে কাগজ না কিনে বাসার পূরানো বইয়ের পাতা / ক্যালেন্ডার/পত্রিকা ইত্যাদি দিয়ে মোড়ক করলে নতুনত্ব আসবে পাশাপাশি অর্থ সাশ্রয় হবে !
-  প্লাস্টিক প্লেট, চামচ, থালার পরিবর্তে এলুমিনিয়ামের পাত্র ব্যাবহার করা!
-  পলিথিন কাগজে খাবার সংরক্ষণ না করে প্ল্যাস্টিক পাত্রে খাদ্য সঞ্চয় করা !
আমার সন্তানের কাপড় আমার আত্মীয় পরিধান করবে (!) কখনোই না। কেন পুরানো কাপড় তারা নিবে? উনারা উল্টো মন খারাপ করে বসবে! আমার বেলায়-ই একই জিনিস ! আমরা এভাবেই সাবলীল হয়ে গেছি যা মোটেও ঠিক নয়।
আমরা কখনোই নতুনত্ব আনতে পারদর্শী কিংবা আগ্রহি না। নইলে ঘরের পূরানো কাপড় দিয়ে খুব সুহজেই একটা সুন্দর মোরা/ সোফ/ চেয়ার তৈরি করা সম্ভব! কিংবা সেভেন আপ খেয়ে বোতলের তলার অংশটি কেটে সুন্দর একটি ফুলের টব তৈরি করা যেতে পারে!
RECYCLE (পুনঃ ব্যাবহারের জন্য নতুন করে তৈরি করা)
- দৈনিক অনেক জিনিসই ব্যবহার করা হয়, যেমন কাগজের ব্যাগ, কোক ক্যান, দুধের বাক্সের মতো এমন আর অনেক জিনিস যা প্রতিদিন ব্যবহার থেকে পুনর্ব্যবহৃত হতে পারে যে উপকরণ তৈরি করা হয়। যা দিয়ে হয় একই প্রোডাক্ট কিংবা পূরানো পণ্য থেকে নতুন কোন পণ্য তৈরি করা একটি সঠিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
-  নতুন কোনো পণ্য কিনতে গেলে পুনঃ ব্যবহার করা যায় এবং যার থেকে নিজেই কিছু তৈরি করে ফেলা যায়। যেমন, কাগজ গামছা, গার্বেজ ব্যাগ, গ্রিটিংস কার্ড ইত্যাদি সহজেই নিজেই তৈরি করা যায় !
গলে যাওয়া মোম গুলুকে এক করা গলিয়ে সুন্দর সুন্দর পুতুল/ খেলনা/ শো পিস তৈরি করা সম্ভব। কিংবা চাইলে নিজেই আবার মোমবাতি তৈরি করা সম্ভব। এর জন্য একটু পরাশুনা কিংবা প্রশিক্ষণ নিলেই হল ! তবে একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক বাতির ভিতরে মোম ঢুকিয়ে সহজেই একটি পেপার ওয়েট তৈরি করা যায়। টুকরা কাগজগুলোকে সিদ্ধ করে মণ্ড তৈরি করেও পেপার ওয়েট থেকে কার্ডের জন্য কাগজ বানানো যায় ঘরে বসেই কোন যন্ত্র কিংবা বাড়তি ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই !
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পরিবেশগত সুবিধা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রোগ্রামের একটি প্রধান অঙ্গ হয়ে গেছে ! শিল্পে এটি গুরুতর পুনর্ব্যবহারযোগ্য যার মাধ্যমে উত্পাদন এবং উপকরণ খরচ কমানো ছাড়াও, যেমন প্রোগ্রাম পরিবেশগত লঙ্ঘনের জন্য দায় থেকে কোম্পানি ইনস্যুলেট্ করতে পারে।
পৃথিবীতে শুধু পানি যা সবসময় পুনর্ব্যবহৃত হয়। পানি ক্রমাগত বাষ্পীভবন, ঘনীভবন, এবং বৃষ্টিপাত চক্রের মাধ্যমে চলে আসে ! কিন্তু এমন করে প্রায় সব জিনিস এই পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলা সম্ভব। যার জন্য দরকার পরিবেশের প্রতি সচেতনতা এবং নিজের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়া !
REDUCE , REUSE , RECYCLE Everything in your life & go green you’re the Best !
SAVE THE  EARTH – REDUCE , REUSE , RECYCLE

২টি মন্তব্য: