বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

বেসরকারি ও সরকারি ব্যাংকের সেবা সমাচার!

রতিদিন একটি করে প্রাইভেট ব্যাংকের দুর্নীতি প্রকাশ পাচ্ছে। এতে করে গ্রাহকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হচ্ছে কোন ব্যাংকে নিজের উপার্জিত অর্থ জমা রাখবেন! কোথায় কষ্টে অর্জিত টাকা নিরাপদে থাকবে!
এদিকে আরও একাধিক নতুন ব্যাংকের যাত্রা হতে যাচ্ছে! অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, এগুলো নাকি রাজনৈতিক বিবেচনায় লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে! দেশের জনগণের চাহিদা এবং অর্থনৈতিক খাতে কতোটা প্রয়োজন আছে নতুন নতুন ব্যাংকের যেখানে পুরাতন ব্যাংকগুলোই নিজেদেরকে টিকিয়ে রাখতে কিংবা মুনাফা অর্জনের জন্য দুর্নীতি করে বেড়াচ্ছে। দুর্নীতি শুধু যে প্রাইভেট ব্যাংকেই সীমাবদ্ধ আছে তাও নয়! সোনালি ব্যাংক থেকে আরও অনেক ব্যাংকেই দুর্নীতির মহা উৎসব চলছে। গণমাধ্যমের খবরে আমরা সে খবর নিত্যই পাচ্ছি।
কয়েক বছর আগে একাধিক ব্যাংক বন্ধ হয়েছে এবং কেউ কেউ নাম বদলে, লোগো বদলে, শ্লোগান বদলে নিয়ে নিজেদের নতুন রূপে আবির্ভাব করেছে। এর সাথে সাথে অনেক ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাথে যুক্তও হয়েছে !
প্রাইভেট ব্যাংকের গ্রাহক সেবা নিতে যাওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে। ভাল সেবা পাওয়া যায়! বেশিরভাগ ব্যাংকের আবার আছে রাস্তায়, মার্কেটে এটিএম বুথ। সহজেই ছুটির দিনে লেনদেন করা যায়। কিন্তু সকল প্রাইভেট ব্যাংকের অর্থ জামানত রেখে যে নিশ্চিন্তে নিদ্রা যেতে অনেক গ্রাহকই পারছেন না! সেটা রাজনৈতিক কারণ থেকে ব্যাংকের নিজস্ব দুর্নীতি ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে! বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্নীতি একের পর ধরেই যাচ্ছে কিন্তু কার্যকর শাস্তির পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেই দিন দিন বেড়েই চলেছে দুর্নীতি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভিতর কোনো দুর্নীতি হচ্ছে কিনা সেটাও জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করা দরকার। বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে সকল ব্যাংক এবং এরা একের পর এক দুর্নীতি করেই চলেছে! হল মার্ক কেলেঙ্কারি, বিসমিল্লা গ্রুপের কেলেঙ্কারি থেকে প্রাইভেট ব্যাংকগুলু জামানতকৃত টাকার সুদ নিজেরাই নির্ধারণ করে কি করে?
সরকারি ব্যাংকগুলোতে মুলত এলসি খুলতে কিংবা বড় ধরনের লোন নিতেই গ্রাহকরা বেশি যেয়ে থাকেন। শুধু মাত্র সেবা নিন্ম মানের বলে অন্যান্য অর্থনৈতিক লেনদেন করেন না। সরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তারা লাঞ্চ ব্রেক নিয়ে নেন ১ ঘণ্টা কখনো আরও বেশি! সে সময়ে উনারা গ্রাহকের সঙ্গে সকল ধরনের লেনদেন, কথাবার্তা সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন করে দেন!
বেসরকারি বা প্রাইভেট ব্যাংকের সেবার মান সে তুলনায় অতুলনীয়, আগে গ্রাহক সেবা তারপর নিজেদের বিনোদন কিংবা একটু হাফ ছাড়া যা পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করে থাকেন। খুব দ্রুত গ্রাহক সেবা পাওয়া যায়। তবে এর ব্যাতিক্রমও আছে।
আমি লেখকের একটি অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি। তাহলেই উক্ত প্রাইভেট ব্যাংকের সেবার মান দিয়ে বাকীদের কিংবা তাদের মতো এবং তাদের সেবার মান সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারনা পাওয়া যাবে !
রঙ-রূপ ও লোগো বদেলছে ৩/৪ বছর আগেই এই ব্যাংকটি!  আজ থেকে দশ বছর আগে একটি বেসরকারি ব্যাংকে তিন  স্টেপে একটি ৫০০ টাকার মাসিক ডিপিএস করেছিলাম আমার স্বামীর একজন বন্ধুর পরামর্শে ! ঠিক ঠাক মতো ২০১২ সালের জুন মাসেই আমার ডিপিএস-এর ৯ বছর পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সময় সুযোগের জন্য ব্যাংকে যাওয়া হয় না এবং টাকা তোলাও হচ্ছে না !
২০১৩ সালের মে মাসে গেলাম সে ব্যাংকে। তখন উনারা জানালেন সই সম্পূর্ণ মিলতে হবে! আমি ‘থ’ হয়ে গেলাম (!) নয় বছর আগে কি সই দিয়েছিলাম সেটি তো ভুলেই গেছি পাশাপাশি ইতিমধ্যে নিজের চলমান সই পরিবর্তন করলাম ২/৩ মাস আগে!
অনেক অনুনয় বিনয় করে নয় বছর আগের সইয়ের কাগজটি দেখতে চাইলাম। দেখতে দেয়া হল। দেখে দেখেও পারছি না! অবশেষে অবসান হল! ২৮ মে ২০১৩  জানতে পারলাম আমার টাকা এসেছে ব্যাংকে! খুব ফুর্তি করে আনতে গেলাম ! দুই ধাপে বিরক্ত হলাম –
১. এটা কি সরকারী নাকি প্রাইভেট ব্যাংক বুঝতে চেষ্টা করছিলাম। যার কাছে গেলাম উনি চেয়ারে নেই! অপেক্ষা অপেক্ষা অপেক্ষা ! একটু পর চিৎকার করলাম ! ভাই এটা কি সরকারী ব্যাংক নাকি প্রাইভেট ব্যাংক? বসে বসে মোবাইল দিয়ে ছবি তুললাম ফেসবুক এ দিলাম স্ট্যাটাস হিসাবে!
২. আসলেন কর্তা স্যার। এসে আমাকে জানালেন আমার নামের বানান নিয়ে বিড়ম্বনার কথা। রেজা ইংলিশ আমি যেভাবে লিখি   REJA আর উনারা অনলাইন ব্যাংকিং তুলেছেন  REZA  বানান দিয়ে!  আমি চিৎকার করলাম বললাম ভাইয়া নাম আমার ভুল শুদ্ধু সেটি আমার ব্যাপার ! আমি জন্মের পর থেকে যেভাবে লিখেছি সেটাই আমার কাছে সঠিক।  অনেক তর্ক বিতর্ক। বললাম আমরা যেই ফর্মটা পূরণ করেছিলাম সেটি আনুন। কর্তা সম্মতি দিলেন। জী আপা আনছি। ফর্মে যেই বানান আছে ওই বানানেই আপনাকে ‘পে অর্ডার’ দেয়া হবে ! হ্যাঁ মিলেছে!
আমার  REJAউনি আমাকে পে অর্ডার দিলেন সঠিক বানানেই ! এখন আমার দরকার ট্যাক্সের কাগজ! কথা দিলেন দিবেন! কিন্তু নামের বানান এই এক Z আর  J এর তফাতের কারণে ব্যাংকেরে এবং ভুলের কারণে আমাকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হল এবং সময় নষ্ট হল।
সেবার মান উন্নত/ গ্রাহক সেবা নিশ্চিত/ জামানতকৃত অর্থের নিরাপত্তার জন্য ব্যাংক যাওয়া। সেই অনিশ্চয়তা দূর করে সকলের জন্য ব্যাংক নিরাপদ একটি টাকা লেনদেনের জায়গা করা হোক। যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। কর্তৃপক্ষকে সেটা অজানা উদ্দেশে ছুড়ে দেয়া একটি বেলুনের মতোই হয়ত আমার এই অভিযোগ!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন