মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০১৩

এতো তফাৎ কেন?

বড় বাপের পোলায় খায়, শাহী জিলাপি, ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনী, আলুর চপ, শাহী কাবাব, স্বামী কাবাব, শিক কাবাব, ঘুগনি, হালিম, রেশ্মি জিলাপি, দই বড়া, পাকুরা, রায়তা, দই চিড়া, দই বুন্দিয়া, ভেলপুরি, লাচ্ছি, ফলের চাট, চিকেন টিক্কা, শাসলিক, ফিশ ফিঙ্গার, লাবাং, পরোটা কাবাব রোল, হরেক রকম শরবত, খেজুর, নানা রকম ফল ইত্যাদি আমাদের অনেকের দৈনিক ইফতারের তালিকায় থাকে। ইফতারের আয়োজন অনেকটা ফুর্তি একটি আনন্দঘন পরিবেশে খাওয়া দাওয়া সারাদিনের রোজা শেষে! আমাদের দেশে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিন্মবিত্তরাও এরকমই করে
থাকেন। কেবল বাদ পরেন তারা যাদের বলা হয় দরিদ্র!
এরা কি করে?
আমাগো আবার ইফতার! গরিবের  লাইগা এগুলা না। আমরা গরীবরা ত সারা বছরই রোজা থাকি! আমরা কি আপ্নেগ বড় লকেগ মতো ডেইলি খাইতে পারি? পারিনা ! ইয়ার লাইজ্ঞা রোজা আমাগো লাইগা নতুন কিছু না, কষ্টের কিছু না, আনন্দের কিছু না। আমাগো ১২ মাস এক রকমই যায়। তয় হে রোজার মাস আইলে আপনেরা বড় লোকেরা দান খয়রাত দেন আমাগো লাইগা মোডা কাপড় আর কেউ কেউ ১/২ দিন ইস্তারি (ইফতার) খাওয়ায়। তাও যেই ধাক্কা মারামারি কইরা যাইতে হয় হেইডা শুইনা বুঝবেন না। তারপরও যহন জানতে চাইলেন শুনেন – আমরা ইস্তারে (ইফতারে) পানি খাই, পাইলে একটু বুট মুড়ি খাই যদি কেউ দেয় পাই নাইলে টেহা হাতে আইলে কিনি কিছু। ঘরের সকলে মিল্লা সব এক লগে ভাইংগা চুইরা মিলাইয়া ভাগ করে খাই!
পলিথিনের প্যাকেটে ছোলা, মুড়ি, একটি করে বেগুনি, জিলাপি এবং খেজুর। সব মিলিয়ে দাম ১০ টাকা। মাখানো এই ইফতারি অনেকেই কিনছেন। অনেকের এটারও সামর্থ্য নেই। ফুটপাতের ইফতারের দোকান থেকে ৫-১০ টাকার ইফতারি কিনেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রাজধানীর হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীকে। কেউ কেউ বাড়ির দরজায় ঘুরে ঘুরে কিছু ইফতার সংগ্রহ করে আবার পথ শিশুরা দোকানের সামনে হাত পেতে দাঁড়িয়ে থাকে ক্রেতা এবং বিক্রেতার পানে!
কিছু কিছু বিক্রেতা ওদের হাতে মাঝে মাঝে খাবার তুলে দিলেও কখনোই কোন ক্রেতাকে দেখা যায়নি ঐ দাঁড়িয়ে থাকা শিশুটির  হাতে একটু খাবার তুলে দিতে! ছোট ছোট বাচ্চাগুলু দাঁড়িয়ে থাকে পেটের তাড়নায়। ধাক্কা মেরে ফেলে দিতেও তোয়াক্কা করে না। ক্রেতাদের একটা কথা খুব কমন-কাজ করে খেতে পারিস না? চল কাজ করবি বাসায়! ভিক্ষা করে খাওয়া তদের অভ্যাস হয়ে গেছে! থাপ্পড় মেরে/ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়াটাও নৈমিত্তিক দৃশ্য!
তবে দেশের কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ফ্রি খেজুর ও পানি সরবরাহ করছেন সেই সব মানুষগুলুর জন্য যারা যানজট কিংবা কোন কারনে রাস্তায়/বাইরে রয়ে গেছেন! সেটির পরিমানও খুব নগণ্য! এছাড়া রোজায় রাজধানীর হাজার হাজার মানুষের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রতিদিন ইফতারের আয়োজন করছে। এই আয়োজন সকলের জন্যই।
দেশের বড় বড় নেতারাও একদিন এতিম কিংবা পথ শিশুদের নিয়ে ইফতার পার্টির আয়োজন করে থাকেন। সেখানেও থাকে কিছু সীমাবদ্দতা! গণমাধ্যমগুলুও তুলে ধরে কোথায় কি কি নামী দামি বিশেষ বিশেষ খাবার মিলে এবং দরদাম কতো! ইফতারে কি কি বানাতে হবে, কি করে বানাতে হবে এই নিয়ে সকল টিভি চ্যানেলেই চলে ইফতার তৈরির আয়োজন অনুষ্ঠান!
যেখানে দেশের এক শ্রেণীর মানুষ প্রতিদিন ইফতার করছেন নানা মুখরোচক খাবার দিয়ে সেখানে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য একটি দিন কেন আমাদের দেশপ্রেমিকরা বরাদ্দ করেন? প্রতিদিন নয় কেন? এই মানুষগুলুকেই হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করতে কারো অন্তরে লাগে না!
(!) কাজের সময় কাজী, কাজ ফুরালেই পাজী! / জোর যার মল্লুক তার!

জমজমাট ১ টাকার ব্যবসা (!)

মিডনাইট সান চাইনিজের প্রমোশন অফারের কুপন বিক্রি করতে এসেছেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের একজন কর্মী। কুপন কিনলে পুরু বছর এর সুবিধা হল একটি ডিশ কিনলে সমমূল্যের আরেকটি ডিশ ফ্রি! একদিনে একজন গ্রাহক ২ টি কুপন ব্যবহার করতে পারবেন! মন্দ নয় ভালই দেখা গেল অফারটার সকল নিয়ম কানুন! যেহেতু বাইরে খাওয়া দাওয়ার একটি অভ্যাস/বদঅভ্যাস আছে ! তাই নিতে দ্বিধা নেই। কিন্তু কত টাকা দাম? বেশী না ৯৯৯/- টাকা! ১০০০/- টাকা দেয়া হল ঠিকই কিন্তু কুপন বিক্রেতার হাসি ১ টাকা ত খুচরা নেই! হি হি হি …আচ্ছা ঠিক আছে দিতে হবে না ১ টাকা।
- সকাল বেলায় বিআরটিসি বাসের টিকেট কাটার জন্য দেয়া হল ২০ টাকা ! টিকেটের মূল্য ১৫ টাকা! ৪ টাকা ফেরত দিয়ে ওই একই কথা: ১ টাকা খুচরা নেই!
- ফার্মেসীতে ঔষধ কিনতে গিয়ে ১ টাকার বদলে একটি চকলেট দিয়ে দিল! শুধু ঔষধ নয় নানা রকমের দোকানের এটা একটা ১ টাকা বাণিজ্য। বাজারে ১ টাকার কয়েনের অভাব নেই! তারপরও এরা এমন করে যাচ্ছে!
- বনানীতে একটি খাবার দোকানে খেয়ে বিল দিতে গিয়ে একটি দৃশ্য। ১ টাকা কম দেয়া হল গ্রাহককে! ক্ষিপ্ত গ্রাহক বলেই দিলেন আপনি ১ টাকা কম রেখে আমাকে ১ টাকা বেশী দিন! মজা করেন ১ টাকা নাই বলে ব্যবসা শুরু করেছেন?
- দোকানের নানা রকম পণ্যের মূল্য দেয়া হয় অদ্ভুত সব মজার অঙ্কে! গ্রাহকের নজর কাড়ার কৌশল। ৯৯৯, ৫৯৯৯, ৬৯৯, সব কিছুর শেষেই ওই এক ৯৯ এঁটে দেয়া হয়! মন্দ নয়, ধোঁকাবাজিও নয়! এটা একটা বিপনন নীতি। তবে এর আইনগত বৈধতা নিয়ে জানা নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক কি ভাবে সেটাও জানার উপায় নেই।
- একটি সময় নানা দৈনিক পত্রিকায় দেখা যেতো কোটিপতি হতে চান? তাহলে জিপিও বক্স এর নম্বরে ১ টাকা পাঠিয়ে দিন! ব্যাস এমন করে কোটি জনতা থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে বিজ্ঞাপন দাতা নিজেই কোটিপতি বনে যেতেন! আর যারা ১ টাকা দিয়ে ভুক্তভুগি তারাও অতো কঠিন করে ভাবতেন না কারণ মাত্র ১ টাকা! এমন চক্র পুলিশের কাছে গ্রেফতারের খবরও ছেপেছিল পত্রিকায়!

বুধবার, ২৪ জুলাই, ২০১৩

MANONIO JOGAJOG MONTRONALOY & CAR PARKING At Motijheel

DHAKA CITY janjot komanor jonne onek podokkheper golpo sune astesi bohudin jabot…TRANSPORTATION & TRAFFIC ENGR. biseshoggo ra gobeshona korchen hoyto…kintu bortoman amon onek kichui ache jar biruddhe ayeen anug bebostha nile jan jot onek kombe….

01. Car Parking Restriction ta only motijheel area te noy pura dhaka city tei jotro totro bondho korte hobe…amon kono rasta nai jekhane gari sue bose daraye thake na!!!
02. residential Area theke School, college, office, Shopping soriye neya
03. Zone Selection ONUJAYEE sob sthapona gore uthbe
04. Unfite gari purapuri bondho kore crush kore dite hobe
05. onoviggo,  license bihin chalok k gari chalate na deya
06. traffic police er majhe sotota r monovab toiri kora
07. Private gari sonkha komiye public gari barate hobe
08. protita commercial, residential building must Car parking thakte hobe
09. Car parking jotro totro korle jorimana koraaa
10. Traffic ayeen puropuri mene chola

aai type er aro nana podokkhep ache ja FLY OVER, PATAL RAIL typer expensive project haate na niya o amra korte pari..ja amader motoo unnoyon shil deshe khubi gurutto purno…
ami MANONIO JOGAJOG MONTRONALOY k onurodh korbo apnar doya kore aai dhorone pdokkhep niin abong beey biihn aay korun abong Dhaka city k janjot mukto korun abong sadharon jonogoner jibon jatra nischit korun…..

hindi cartoon channel bondho kora hobe ki??

amader bacchara hindi cartoon channel dekhte dekhte ora hindi bhasa etoi ropto korese ja bola bahullo…oii TV channe gulu bondho kore amader TV channel gulu nejera sundor sundor onusthan toiri abong bedesi famous cartoon o nana dhoroner sishutosh onusthan gulu bangla dabing kore procharaye agiya asle amader notun generation kichu ta holeo oposongskriti ropto kora theke rokkha peto…..

EVE TEASING word ta dictionary theke ki amra kete felte parina??

EVE TEASING word ta sunlei nejek kemon jeno nikristo jati mone hoy.! amra ki parina aai sobdo ta amader dictionary theke bad diya ekta sundor word jog korte!!! aai sobdo ta edaning eto besi suna jasche j majhe majhe nejeder sovvo manush heseb hesebeo vabte lojja lage.!!!

amra ki parina sovvo jati hesebe nejder k tule dhorte sobar majhe?? adou ki bondho hobe?? amra ki parbo?? kobe dur hobe somaj theke ??!! sei sob manus gulu  kobe nejeke bodle nia sob bodle dibe…!!!

হিন্দি ভাষা এবং হিন্দি কার্টুন

ami ekjon chakri jibi ma…amar chele ISHRAQ jar age 6 years 5 month running….j kina matro 5 mase ekta cartoon dekhe HINDI vasha bolte abong bujhte sikhe gese…. ami hindi bujhina…kintu se amar sathe hindi chara kotha e bole na…oboshese baddho hoye bolesi ” BABA TUMI JODI AMAR SATHE BANGLA VASAY KOTHA NA BOLE TOBE AMI TOMAKE AR ADOR KORBO NA etc etc”..edaning se amar sathe hindi te kotha bolena…..

ekhane kotha hochce jei cartoon ta dekhe amar chele HINDI bhasa sikhlo sei cartoon ta kintu CHINES vasay toiri kora…abong Hindi channel gulu otkae HINDI rupantor kore  TV ta prodorshon kore….abong aaia DOREAMON  cartoon ta amar motee akhon BANGLADESHE khubi jonoprio ekta cartoon…
amader TV channel gulu ki parena same cartoon ta kine ene amader prio MATRI VASAY rupantor kore amader komolmoti bachder kache pouse dite??.. ete jemni amader bacchara nejeder vasa ropto kora sikhbe ….

সড়ক দুর্ঘটনা এবং নিরাপত্তা !!!!!!!!

সড়ক দুর্ঘটনা যে কেবল সড়ক মহাসড়ক এই ঘটে তা কিন্তু নয় !!! ইদানীং  দেখা যায় ফুটপাত দিয়ে চলাচলেও জীবনের নিরাপত্তা নাই !! রাস্তার পাশে গড়ে উঠা  স্থাপনা গুলোতে ব্যবহার করা হয়না নিরাপত্তা জাল আর সেই অনিয়মের শিকার হচ্ছে সাধারন পাথাচারি !! প্রতিনিয়ত ঘটছে এই ধরনের দুর্ঘটনা !!! এর  থেকে বাঁচতে আমাদের কি মাথায় হেলম্যাট পরে হাঁটতে হবে ?

নাকি যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে ?? এই যথাযথ কর্তৃপক্ষ আসলে কে? আমরা নাগরিকরা তা বুঝতেই পারিনা। দেশের মানুষ রাস্তায় হাঁটতে যেয়ে মরে যাবে এমন অদ্ভূত দেশ আর কোথায় আছে?
আমরা নিরাপদে চলাচল করতে চাই রাস্তায় কিংবা ফুটপাতে !!!

একটা সাবজেকট পেলে আমরা আলোচনা করতে হুমড়ি খেয়ে পড়ি !!!!!

আমরা আলোচনা ও তদন্ত কমিটি গঠনে খুবই পারদর্শী । কিন্তু কাজের কাজ কতোটা বাস্তবায়ন হল আমরা কি আদৌ জানি ?? কি পেয়েছি?? কি দেখতে পাচ্ছি ?? কি হচ্ছে ?? শুধু শুধু পর্যালোচনা আর বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করা আমাদের নেশা এবং পেশাতে পরিণত হয়ে গেছে ।

ইভ টিজিং শব্দটা শুনতেই গা কেমন রি রি করে উঠে। কি একটা সাবজেক্ট যেটা আমাদের এখন একটা জাতীয় সমস্যা হয়ে গেছে । এটাকে বন্ধ করা কি খুব কঠিন কাজ? রাষ্ট্র আন্তরিকভাবে চাইলে খুব সহজেই এর সমাধান করতে পারে। ইসলাম, নারীদের পর্দা, পারিবারিক শিক্ষা, ইত্যাদি কত কি না উঠে আসছে সমাধানে !! কিন্তু আমাদের সকলের যে নৈতিক ও চারিত্রিক অবক্ষয় হয়ে গেছে সেটা থেকে কি আমরা বের হয়ে আসতে আদৌ পেরছি?? পারব?? কিভাবে ?? সে চেষ্টা কোথায়??

তবে শুধু ইভটিজিং নিয়েই কথা বললেই হবে না। আমাদের জাতীয় জীবনে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রয়েছে, সেগুলি নিয়েও আমাদের কাজ করা জরুরি। আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা নানামুখি শোষন নির্যাতনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে পরেছে।

আসুন আমরা আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তন করি। সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শিখি। দেশের স্বার্থে নিজেদের আরও শানিত করি। এবং সকল দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দেশ অ জাতিকে রক্ষা করি। ধন্যবাদ সকলকে।

শিশুদের বিনোদনের জন্য আলাদা বাংলায় টি ভি চ্যানেল চাই ।।

শহরের বাচ্চাদের বিনোদন বলতেই হলো কম্পিউটার গেমস , ঘরে খেলনা নিয়া বসে বসে খেলা। স্কুল-এ নাই খেলার মাঠ। পার্ক তো নাই বললেই চলে। যাও আছে সব সময় সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়না নানা ব্যস্ততার কারনে। বাধ্য হয়েই আমরা আমাদের বাচ্চচদের ঠেলে দেই হয় টিভি না হয় কম্পিউটার এর দিকে। এমতাবস্থায় আমরা কতটুকু নিরাপদ এবং সন্তুষ্ট আমাদের দেশিয় টি ভি চ্যানেল গুলুর তৈরি কৃত বাচ্চদের অনুষ্ঠান এর মান নিয়ে ?? কয়টা অনুষ্ঠান ই বা আছে?? কখন হয়?? কোন চ্যানেল এ হয়??

আমার দেশে নিউজ চ্যানেল এ ছড়াছড়ি । যদিও ওগুলোতে মেগা ধারাবাহিক, খবর প্রতি ঘণ্টায় ঘনটায়, টক শো ইত্যাদি দে ছড়াছড়ি। কালে ভদ্রে নানা উপলক্ষে দেয়া হয় একটা দুটা বাচ্চাদের অনুষ্ঠান !! যা আমরা অনেক বাবা মা’ই জানি না কখন কোন চ্যানেল এ হচ্ছে। আদৌ কি হচ্ছে?? যে অনুষ্ঠান গুলো হয় সে গুলোর মান যে খুব ভাল সেটাও কিন্তু আমরা বলতে পারিনা। নাম মাত্র বাচ্চাদের অনুষ্ঠান!!!

আমি একজন ভুক্তভুগি মা। শত চেষ্টা করেও পারছিনা আমার বাচ্চার মুখ থেকে হিন্দি ভাষা বলা বন্ধ করতে কিংবা হিন্দি চ্যানেল দেখা থেকে বারন করতে। কারন তাইলেই আমার ছেলে ডুবে যাবে বাংলা মেগা ধারাবাহিক নাটক, যেখানে চলে পারিবারিক কলহ, কিংবা আজে বাজে ভাষায় দেয়া একগাদা গালি দেয়া বাংলা সিনেমায়।

আমরা কি পারিনা বাচ্চদের জন্য আলাদা এতটা টি ভি চ্যানেল তৈরি করতে ?? যেখানে সব ধরনের অনুষ্ঠান থাকবে!!! এতে আমরা একটু হলেও হাফ ছেড়ে বাঁচতে পারি এবং রক্ষা পেতে পারি হিন্দি ভাষায় তৈরি করা কার্টুন থেকে, আমাদের বাচ্চাদের মুখে আসবে হিন্দি ভাষা। আমাকে ডাকবেনা মাম্মি বলে! সরকারের কি কোন দায়িত্ব নেই এমন সংকটে?

কত সহজেই রাস্তায় শিশু হত্যা করা যায়!

আমরা’তো আমাদের সন্তানদের এটা নিরাপদ পৃথিবী দিতে পারছিনা । যেখানে বেড়ে উঠবে আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নিশ্চিন্তে? কি পারছি দিতে?? সামান্য একটু বিনোদন ?? কোথায় পাবে আমার সন্তান একটা উন্মুক্ত খেলার মাঠ ?? একটা পার্ক নেই আমি যে ওকে নিয়ে যাব সপ্তাহে একটি দিনের জন্য ?? এদিকে রাস্তায় নাই জীবনের নিরাপত্তা ।

মায়ের কোলে সন্তান সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। কিন্তু গতকাল সকালে মায়ের হাত থেকে বাস চাপা পড়ে মারা গেল মনিপুর স্কুল-এর ছাত্রী সিদ্রাতুল মুন্তাহা । এই মা’কে কি বলে সান্তনা দিব?? বুকের মানিকের কি কোন বিকল্প হয়? আমাদের কি বা করার আছে?? কোথায় কার কাছে ফরিয়াদ করবো? এদেশ এমনি এক দেশ যেখানে রাস্তায় প্রতিদিন মানুষ হত্যা হচ্ছে কিন্তু কোন বিচার হয় না!

এই ভয়াবহ খবর’টি পেয়ে তো আমি ভয়ে আঁতকে উঠলাম! কারন ঐ একই রাস্তা দিয়ে যায় আমার ছয় বছর বয়সী সন্তান । তাকে তুলে দিয়ে এলাম তার খালার কাছে??? হায় আল্লাহ! আমার ছেলেটা নিরাপদে আছে তো ?? তখনই বোন’কে ফোন দিলাম। তারপর স্বার্থপরের মত হাফ ছেড়ে বাঁচলাম অন্তত সেই সময়টুকুর জন্য! আমি শুধু আমার সস্তানের কথা ভাবছি! সদ্য রাস্তায় পিষে যাওয়া সিদ্রাতুল মুন্তাহা’র মা এখন কি করছে? তার বুকে এই শোকের পাথর কে নামাবে? আদৌ কেউ কি নামাতে পারবে? না কেউ পারবে না! আমরা এমন এক দেশে বাস করি যে দেশে জীবনের নিরাপত্তায় আজ কাল পরশুর কথা’তো আমরা কেউই জানি না ??

প্রতিটা বাবা মা’ই সন্তানকে ঘিরে নানা রকম রঙ্গিন স্বপ্নে বিভোর থাকেন । কিন্তু সিদ্রাতুল এর মা?? সে তো তার সন্তানকে নিজ হাতে রেখেও রক্ষা করতে পারলনা?? এই সেই ঘাতক শহর!এই সেই ঘাতক পরিবহন ব্যবস্থা!
আমি ইশ্রাক এর মা?? আমি কি পারব আমার ছেলেকে একটি নিরাপদ নিশ্চিত জীবন দিতে? হাউ মাউ করে কেঁদে কেঁদে বলতে ইচ্ছা করে

আমাকে বাঁচতে দাও……আমিও বাঁচতে চাই। আমাদের সন্তানদের বাচিয়েঁ রাখতে এই আর্তনাদ কে শুনবে? কাকে শুনাবো? কোথায় যেয়ে শুনাবো?

কে সাড়া দিবে?? কেউ না কেউ না! চারিদিকে শুধু ভোট চাওয়ার পুতিঁগন্ধময় আবেশ! আমাদের ক্ষমতায় আনো সব ঠিক হয়ে যাবে! যেন আমরা তাদের কোনদিন ক্ষমতায় আনি নাই! আমাদের কেবলই লজ্জা হয় তোমাদের এইসব লোভাতুর লিপ্সার বুলি শুনে। আমরা ভুলে যাই তোমাদের এসব কীর্তিকলাপ? ক্ষমতায় যেয়ে আমাদের জন্য কেউ ভাবে না। যদি ভাবতো তাহলে এসব ঘটনা কখনো ঘটতো না।

এইসব ক্ষমতাবানদের ছাড়া দেশে আর কেউ কি নেই? তাদের কাছে আমরা বলি :
তোমরা কে কোথায় আছো? আমাকে রক্ষা কর! আমার সস্তানকে রক্ষা করো! সকল অবুঝ শিশুদের রক্ষা কর! আমাকে বাঁচাও…. আমার শিশুটিকে বাঁচাও …

রাস্তায় বের হলেই ভয়ে বুক কাঁপে !!!!

সকালে বেলা ছেলেকে স্কুলে দিতে রিক্সা দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। পুরোটা পথ জুড়ে ছেলে’কে বুকে আলে চেপে ধরে কাঁপতে কাঁপতে স্কুলে গেলাম। স্কুল থেকে ফিরলাম ঐ একই আতঙ্ক বুকে নিয়ে। আজ আমার অফিস নাই তাই নিজেই ছেলেকে স্কুলে এ নিয়ে যেতে পেরেছি। কিন্তু দিন গুলো যায় আমার ছোট বোনের সাথে!

আমার এই কাঁপা কাঁপিতেও জনাব ঘাতক বাস ট্রাকের চালক চাপা দিতে চাইলে আমার কিছুই করার থাকবেনা। আমি সর্বসান্ত হব। আমাকে নিয়ে লেখালেখি হবে। কিন্তু আমার পরিবার যে মানুষটিকে হারিয়ে ফেলেছে তারা কি নিয়ে বাঁচবে?? কেউ কি পারবো বা কেউ কি পারে হারিয়ে যাওয়া মানুষটিকে ফিরে পেতে?? আমরা কি করেছি? কি বা করতে পারবো? কিছুই না!!!! প্রতিদিন হাজারও পরিবার তারা তাদের প্রিয়জন হারায়ে কাঁদছে। কিন্তু যে বা যারা কিছু করতে পারে তারা কেন চুপ মেরে বসে থাকে আর তদন্ত কমিটি গঠন করে বছরের পর বছর কাটায়ে দিচ্ছে??…আমরা কি আদৌ একটা নিরাপদ সড়ক পেতে পারি?? একজন অভিজ্ঞ চালক?? পরিবহন সেক্টরের দুর্নীতিমুক্ত এটা দেশ??

আমি জানি না আমার আগামিকালের সকালটা কিভাবে শুরু হবে?? বাইরে বের হতে আমি খুব ভয় পাই…।। আমার একাধিকবার সড়ক দুর্ঘটনার বাজে অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক বেশি ভীতু দুর্বল করে তুলেছে!! এই মানসিক যন্ত্রণার থেকে মুক্তি কি করে পাব?

বি পি এল এর উদ্বোধন নিয়ে আমি হতাশ !!!

গত ৯ ফেব্রুয়ারী2012  মিরপুর বিপিএল -এর যে উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়ে গেল সেখানে ঠাই পেল এক গাদা ভিনদেশি সঙ্গিত শিল্পী আর অভিনেত্রীরা !! কিন্তু কেন?? তাও তারা গাইলেন নাচলেন হিন্দি ভাষার গান !! আমাদের ভাষার মাসেই কেন আমার দেশ আমাদের ভাষা আমাদের সংস্কৃতিকে এত অসম্মান ?? এত অবহেলা??

আমন্ত্রিত অতিথি দু’একজন থাকতেই পারে। কিন্তু এভাবে আমাদের দেশে কি ভালো গায়ক গায়িকা, অভিনেতা অভিনেত্রীর এতই অভাব বোধ করেছেন বিপিএল আয়জকরা? দেশের একটি আয়োজন আর উদ্বোধনে আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির ইতিহাস ঐতিহ্য ফুটে উঠবেনা এটা কি করে মেনে নেয়া যায়? আয়োজকদের দেশপ্রেম বলতে কিছু পেলাম আমরা? এসব দেখে আমরা শুধু লজ্জা পাই। কিছুই করতে পারি না। বড় বড় ইভেন্ট আয়োজক সকল দেশকেই দেখি তারা নিজস্ব সাংস্কৃতিক আদলে অনুষ্ঠান সাজিয়ে তোলেন।

যেই ভাষাকে নিয়ে আমাদের এত গর্ব! আর একমাত্র জাতি যারা ভাষার জন্য যুদ্ধ করেছি। কিন্তু হায়!!! সালাম বরকত তোমরা এসে দেখে যাও তোমাদের জীবনের বিনিময়ে যে ভাষায় আজ আমি আমার মা-বাবা কে ডাকছি সেই দেশে সেই মাসে কি নিয়ে আমরা মেতে আছি! আমাদের মাননীয় সংস্কৃতি মন্ত্রী ও মন্ত্রনালয় নীরব ভুমিকা পালন করে কিসের ইঙ্গিত দিল??…

মেঘের জীবনে বজ্রপাত !

বাবা মা কত শখ করে সন্তানের নাম রেখেছে মেঘ! কত আদরের মেঘ! আদৌ কি তারা জানতেন যে এই নিস্পাপ ছেলেটার জীবন মেঘে ঢেকে যাবে হঠাৎ অনিশ্চয়তায় ?

সংবাদ কর্মী রুনি এবং সাগর-এর যুগল হত্যাকান্ডে পুরো দেশবাসি আজ হতবাক!! দেশবাসি আতঙ্কিত !!! কি হচ্ছে?? কি হতে চলেছে প্রতিনিয়ত ???…কিসের জন্যে প্রাণ দিতে হল তাদের ?? কেন কালো মেঘে ঢেকে গেল তাদের অতি প্রিয় সন্তানের জীবনটা ? এই কোন সভ্য(!) দেশে আমরা বসবাস করছি??…

নৃশংস খবরটা জানার পর থেকেই বুক কাঁপছে! ভয়ে আঁতকে উঠছি ! আদৌ কি বেরিয়ে আসবে সত্য তথ্য ?? সঠিক বিচার ?? হয়ত হবে বা হবে না । কিন্তু মেঘ ফিরে পাবেনা তার বাবা আর মা’কে কোনদিন। পিতা মাতার আদর ভালবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে বড় হবে ছোট্ট মেঘ! বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় সবই হয়ত পাবে মেঘ! একটা নিরাপদ আবাস , পড়াশুনা ইত্যাদি !!! কিন্তু মা ?? বাবা ?? কেউ কি জানেন কিভাবে কি বলে সান্তনা দিব মেঘ কে? পৃথিবীতে বাবা-মা’র বিকল্প কেউ হতে পারে না! ওর মনটা চিরদিন মহাশূন্যের ধূ ধূ দিগন্তে এক করুণ সুরে ভেসে বেড়াবে। ওর কষ্টটা কেউ শেয়ার করতে পারবে না। আমরা এমন অরাজক নিরাপত্তাহীন দেশে বাস করছি যে আমরা ওর কাছে ক্ষমা চাওয়ার যোগ্যতাও হারিয়ে ফেলেছি !

বিষাক্ত ফাস্ট ফুড: সবাই সাবধান !

গতকাল রাতে বাসায় ফিরে দেখি এটা বক্স এ দুই টুকরা চিকেন ফ্রাই। যা আনা হয়েছে ঢাকার নামকরা একটা ফাস্টফুড দোকান থেকে! খাওয়াটা পেয়ে আর লোভ সামলাতে পারলাম না। কারন রাত তখন ১০টা এবং আমি খুব ক্ষুধার্ত। বেশ!প্যাকেট থেকে একটু মুরগি ভাজা কামড়িয়ে খেতে শুরু করলাম! হঠাৎ খেয়াল করলাম জিভ কি যেন আটকে গেল! অনেটা মাংসের চর্বি জমে গেলে যেমন লাগে!…… বুঝলাম চিকেনফ্রাই গুলো ফ্রেস তে দিয়ে ভাজা হয় নাই! ডালডা/ পামওয়েল এমন কিছু দিয়ে ভাজা হয়েছে যা স্বাস্থ্যসস্মত না!!!! আমরা দোকানে গিয়ে গরম খাবার খাই বলে তখন সেটা টের পাইনা !! কিন্তু গতকাল আমি টের পেলাম পুরোপুরি!

তাছাড়া খাবারে তেলাপোকা , ছত্রাক জাতীয় নমুনা এর আগেও পেয়েছি !

একবার টিভি’তে দেখেছিলাম ফাস্টফুড এর দোকান গুলোতে নাকি চিকেন ভাজে মবিল দিয়ে মচমচে হওয়ার জন্যে।
টাঁকা দিয়ে নামকরা ভালো দোকানে যাই ভালো খাবার কিনে খেতে! এটা কি ভালোর নমুনা? কিন্তু আমাদের খাবার ব্যবসায়ীদের মনভাব এতো বিক্রিত কেন? কিভাবে তারা এটা করতে পারে? দেশের মানুষের জীবন নিয়ে তারা এত ভয়ানক কাজ করে বেড়াচ্ছে আর দেশের সরকার নিরবে ঘুমাচ্ছে? তাহলে কে এইসব অপরাধের বিচার করবে? কবে বন্ধ হবে খাদ্যে ভেজাল দেয়ার খেলা??

বাসায় এখন আর নকল ফল কিনে সাজাতে হয়না ! বাজার থেকে আসল অ্যাপেল , কমলা, কলা ইত্যাদি কিনে রেখে দিলে কখনো এগুলি নষ্ট হবেনা !!! হয়না …। প্রিয় পাঠক আপনারাও এটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন !!!

পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ !!!!

গতকাল সন্ধ্যায় অফিস শেষ করে ক্লাস এ যাচ্ছিলাম। গুলশান-২ বাজার এর পাশ দিয়ে আমি রিক্সাযোগে গুলশান-২ এর ৯৪ নম্বর রোড়ের এর মাথায় যাব। কিন্তু এসে দেখি একগাদা রিক্সাও আছে কিন্তু রিক্সার বসার আসন গুলো নাই… সব কেড়ে নিছে ট্রাফিক পুলিশ!তাদের অন্যায় হল অবৈধ পাকিং! কিন্তু রিক্সাগুলো ঐ জায়গাতেই স্থির দাঁড়িয়ে আছে! এর মানে কি ?? আইন অমান্য করা হয়েছে বলে শাস্তি স্বরূপ পেসেঞ্জার আসন নিয়ে যাওয়া এবং ১০০/৫০ টাকার বিনিময়ে আসন গুলো ফিরায়ে দেয়া?? একজন রিক্সাচলক কঠোর পরিশ্রম করে দিনে কত টাকাই বা আয় করে?

অদ্ভুত ব্যাপার হলো, পাশেই দাঁড়ানো ছিল বেশ কয়েকটা প্রাইভেট গাড়ি , অটোরিক্সা ও ট্রাক! এদের কোন দোষ নাই! কারন এদের মালিক টাকা ওয়ালা। অনেক ক্ষমতাধর। আইনে বন্দি হলো একজন পরিব দিনমজুরের জীবন! যে দিন আনে দিন খায়! তার কাছে থেকেই কেড়ে নিল ঘাম ঝড়ানো সারাদিনের উপার্জিত অর্থগুলো !

গাড়িতে উঠে দেখলাম ভাড়া দেয় নাই একজন পুলিশ ! সুপারভাইজার গাড়ির চলক যাত্রী গুনে ! যাত্রী ৯ জন আর একজন পুলিশ! এর মানে হলো পুলিশ-এর ভাড়া মাফ! আহ্ কত মজা !পুলিশ কি আমাদের মত সাধারন মানুষ? তাদেরকে যাত্রী হিসেবে ধরা হয়না।

পুলিশ দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনী। তারা রাষ্ট্রীয় পোশাক পড়ে প্রতিদিন প্রকাশ্যে সাধারন মানুষের সামনে এত নোংরা কায়দায় ঘুষ খাচ্ছে! আমরা কি করে পুলিশকে সম্মান করবো? তাদের নীতিনৈতিকতা বলে কিছুই অবশিষ্ট নাই। আমরা কেবলই এদের ঘৃণাই করতে পারি …।

ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের দিয়ে মিডিয়া বাণিজ্য ?

বেশ কিছুদিন আগে একটি হিন্দি গানের জ্বরে সবাই ভুগছিল! গানটি হল ” তেরি মেরি প্রেম কাহানি” গানের কথাগুলি আমি বেশি বলতে পারবনা কারন, আমি হিন্দি বুঝিনা বলতেও পারিনা । যাক আমি আমার কথাতে ফিরে যাই । একটা বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেখতে পেলাম এই গানটার বাংলা ভার্সন তৈরি করে মডেল হিসেবে ব্যবহার করেছে ৮/১০ বছরের কয়েকটি কোমলমতি ছেলেমেয়েকে । প্রতিবেদনটা মুলত যে কনসেপ্ট-এ তৈরী করা হয়েছে সেটা বোঝানো হয়েছে কিভাবে আমি আমার সন্তানকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছি । এখানে একজন মায়ের সাক্ষাতকার- ” কি হয়েছে এতে! আমিতো খারাপ কিছু দেখছিনা ! আমি বলতে চাই নোংরা গানে শিশু মডেলদের ভাষ্য এতে খারাপ কি হল?? বড়রা পারলে ছোটরা কেন পারবনা?? কি অদ্ভূত কথা ! এদের যা মনে হবে তাই করবে? বাংলাদেশে এই বিকৃতকারীদের দেখার কি কেউ নাই? একজন মূর্খ্য মা কি বুঝলো আর আমি তা মিডিয়ায় প্রচার করে দিবো!

আমার ঠিক বোধগম্য না কেন এরা আমাদের বাচ্চাগুলোর সুন্দর শৈশব, স্বপ্নজগত কেড়ে নিয়ে নোংরা সংস্কৃতির খাতায় নামে লিখিয়ে নিজেকে নোংরা প্রমাণ করায় মেতে উঠেছি ?? এটাতো আধূনিকতার সজ্ঞা না! এইসব শেখার আদৌ প্রয়োজন আছে কি?

আমি সংশ্লিস্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।। আপনারা দয়া করে নোংরামি না করে সুস্থ বিনদনধর্মী অনুষ্ঠান তৈরী করে আমাদের সংস্কৃতিতে মননিবেশ করুন । আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি অনেক বেশি সুন্দর, অনেক সমৃদ্ধ, অনেক মধুর ..।

অর্থনৈতিক বিপর্যয় !!!! বেসরকারি চাকুরীজীবীদের চাকুরিচুত হওয়ার আতঙ্ক !!!

যারা বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত তারা এখন অনেকেই আতঙ্কে রাত দিন কাটান চাকুরিচ্যুত হওয়ার ভয়ে! এই জনবহুল রাষ্ট্রে একটি চাকরি এমনিতেই সোনার হরিণ! অনেক কষ্ট ও ত্যাগ এর বিনিময়ে একটা কাজের জোগান নেয়া হয়। এই চাকরিটার উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে একটা পরিবারের ৪/৫ জন সদস্য। হুট করে এক মাসের নোটিশে একটা কর্মী ছাঁটাই করলে এক সাথে অনেক গুলো মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলে। আমরা কিভাবে এই ভয়াল জীবন থেকে রক্ষা পাব ??

একদিকে চাকরি হারানোর ভয়, অন্য দিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি! নিষ্ঠুর নির্মম শহরে বেঁচে থাকা আর টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত সাধারন মানুষ। কতইনা চাঁপা কষ্ট বুকে বেঁধে নিম্ন আয়ের মানুষরা প্রতিদিন যন্ত্রের মত ছুটেঁ বেড়াচ্ছে। কেউ কারও কোন খবর রাখেনা। চাইলেও পারে না। কি হবে আমাদের??

সাধারন মানুষরা যারা পথেও নামতে পারে না কিছু করতেও পারে না সরকার তাদের জন্য কি কিছুই করবে না???

রাস্তায় শত শত ছাইরঙ প্রাইভেট সিএনজি অটোরিক্সার রহস্য

আমরা কি কেউ জানি এই রহস্যের কারন? কেন কিভাবে বেড়ে গেল এত ব্যক্তিগত অটো রিক্সা ?

বাসা থেকে বের হলেই সবুজ থেকেও বেশি দেখা যায় ছাই রঙের প্রাইভেট সিএনজি অটোরিক্সা ! শুরুতে ভেবেছিলাম হয়ত মালিকপক্ষই নিজের প্রয়োজনের ফাঁকে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে অথবা গাড়ির মালিককে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে চালক বোনাস ভাড়া উপার্জনে যত্রতত্র যাত্রী তুলছে! কিন্তু গতকাল জানলাম আসল তথ্য ! যা অটোরিক্সা চালকরা মিটার ব্যবহার থেকে পুরাপুরি রেহাই পেতে, বাড়তি ভাড়া আদায় করে নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে সবুজ অটো সিএনজি গুলোকে ছাই রঙ-এ পরিনত করে সাধারন যাত্রীদের ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে একটা মহল দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । যেটা দেখার কেউ নাই । ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এগুলো ঝাকেঁ ঝাকেঁ চলছে! ওদের কাছে নিশ্চয়ই হিসাব আছে কোনগুলি বানিজ্যিক ট্রন্সপোর্ট আর কোনগুলি প্রইভেট?

আমরা সাধারন যাত্রীরাও গন্তব্যে পৌঁছাতে ঐসব অসৎ চালকদের সাহায্য করছি মিটার চুক্তিতে না চলেও বলছি আমরা মিটার এ যাচ্ছি। নইলে যে সোনার হরিন সিএনজি আমি পাবনা । পারবোনা পৌঁছাতে আমি আমার গন্তব্যে !
আজ যেদিকে তাকাই শুধু দুর্নীতি আর নিত্যনতুন সব কৌশল আবিস্কার! নতুনরূপে দুর্নীতির নানাপথ বের করার চাতুর্য। কিন্তু বিষবাষ্প থেকে মুক্তির পথ কি কারো জানা আছে? আমরা কেউ কি ভাবছি? এগিয়ে আসছি? একটি বৃহত্তর জোট হয়ে …?

নারী দিবস ও নারী অধিকার

৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস । এই দিবস উপলক্ষে সারা দেশে চলবে নানা সভা সেমিনার র‌্যালী সিম্পোজিয়াম… । কত বাণী কত উক্তি কত পরিকল্পনা কত স্বপ্ন জয়ের আকাঙ্খা । কিন্তু দিনটি পার হয়ে গেলেই সব হয়ে যায় আগের মতই ফ্যাকাসে, মলিন ও করুণ !

৮ মার্চ কি নারী নির্যাতন হবেনা ? এই দিনেও নির্যাতনমুক্ত নয় নারী! আগামী কালের সংবাদপত্র খুললেই তার প্রমাণ মিলবে!

নারী দিবস উপলক্ষে আমাদের দেশের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলি নিয়েছে একটি অদ্ভুত পদক্ষেপ !!! এই দিনটিতে ঐ জায়গায় কর্মরত সকল পুরুষ কর্মীরা নারী কর্মীদের জন্যে বাসা থেকে খাবার তৈরি করে নিয়ে আসবে। এবং পুরুষ কর্মীদের বাসার সকল রান্না গুলোও করতে হবে !! পদক্ষেপ’টি আমার ভাল লেগেছে । মনে হয়েছে একটু হলেও তো আলাদা একটা কার্যকর এবং ভিন্নধর্মী পদক্ষেপ । আমি একজন নারী কর্মী হিসেবে এটা পেতে ইচ্ছে করছে !!! কিন্তু হবে না । কারন আমার সাথে কাজ করা পুরুষ সহকর্মীদের মানসিকতা এত উন্নত না যেটা আমি বিগত দিন গুলো থেকে দেখেছি, পেয়েছি এবং জেনেছি !!! তবু আশা করি এক দিন হয়ত হবে…।।

মাতৃত্বকালীন ছুটি ৪ মাস থেকে ৬ মাসে উন্নিত করা হয়েছে । এটাকে নারী স্বাধীনতা , নারীর একান্ত নিজের সুবিধা মানতে আমি নারাজ। কারন এই আগত সন্তানটি পুরুষ নারী দুজনেরই ।

একটা মেয়ে আজও রাস্তায় নির্ভয়ে হাঁটতে পারেনা ! আমাদের সমাজে একজন নারীর সঙ্গে ”ইভ টিজিং” শব্দটা জড়িয়ে আছে, ছিলো এবং আর কতদিন থাকবে ? রাতের বেলায় চলাচল’তো আজও মারাত্মক ভয়ের !
যৌতুকপ্রথা বন্ধ হয়নি আজও । কন্যা সন্তান হলেই বাবাকে আজ বলা হয় কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা !!!
গৃহ কর্মী নির্যাতিত, নারী এসিড দগ্ধ, প্রতিদিন যৌন নির্যাতনের স্বীকারও নারীকেই হতে হচ্ছে ! কোথায় নিরাপদ একজন নারী ??

বাস’এ মেয়েদের জন্য ৯ টি সিট বরাদ্দ আছে। আসলে ওখানে লিখা আছে “নারী শিশু ও প্রতিবন্ধী ” …তাহলে ৩ ভাগ করলে মেয়ে আসন পাবে ৩ টি । মেয়েরা সমঅধিকার চায়, আলাদা বসার আসন চাওয়া যাবেনা এটা হল বাস এ চলাচলকারি আমাদের সন্মানিত পুরুষ ভাইদের বক্তব্য । যদি সমঅধিকার দেয়া হয় তাহলে’তো ৪০টি সীটের মধ্যে ২০টি পাওয়ার কথা? চলন্ত পরিবহণে এই ধরনের গলাবাজি করে নিজেদের ছোট মনে পরিচয় দান করেন । ছেলেরা যেদিন নিজদের হাত ও শরীর সংযত করে চলাচল করতে পারবে সেদিন এই ধরনের গলাবাজি করাটাও ঠিক হবেনা কারন মহান আল্লাহ পাক নিজেই মেয়েদের ছেলেদের থেকে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্বল করে তৈরি করে পাঠিয়েছেন। বিশেষ করে শারীরিক শক্তি’টা ।

কাল রাত ৯ টায় বাস উঠলাম আর দেখলাম ৬০ জোড়া চোখ আমাকে দেখছে ! ওঁদের হয়ত জিজ্ঞাসা আমি নারী এত রাতে বাইরে কেন !!! মনে মনে ভাবলাম আর অবাক হলাম হায়রে আমাদের দেশ, হায়রে আমাদের চরিত্র মানসিকতা কত নিচু !! পাশে বসা কয়জন’তো রীতিমত আমার নিঃশ্বাস পরাটাও গুনে যাচ্ছে মনে হচ্ছিল ! তবে আমাকে যে আপাদমস্তক একটু পর পর অনুসরণ করছিল এটা ভালভাবেই টের পাচ্ছিলাম !

আমার স্বামী একটু পর পর আমাকে ফোন করে খোঁজ নিচ্ছে আমি কোথায়? কত দূর…? নিজেকে মনে হল চিড়িয়াখানায় বন্দি করে রাখা একটা চিড়িয়া । যেটাকে দেখছে উৎসুক জনতা!

নারী দিবসে আমার পক্ষ থেকে সকল নারীর প্রতি রইল অনেক ভালোবাসা, শুভেচ্ছা, শ্রদ্ধা । আর ছেলেদের প্রতি রইল হাজার লক্ষ কোটি সালাম !!

আসুন আমরা সবাই মিলে একটা সুন্দর দেশ গরে তুলি লিঙ্গ ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে শুধু নিজেদেরকে সভ্য মানুষ জাতি বানিয়ে তুলি ।
বদলে যাও
বদলে দাও
আমি বদলাব কথা দিলাম
বদলে দিব সব কথা দিলাম
সবাই এই অঙ্গিকার করি । পারবই আমরা । যে জাতি মায়ের মুখের ভাষার জন্য, দেশের স্বাধিকারের জন্য লড়েছি আজ আমরা কেন নিজদের মাঝে ইভ টিজিং , নির্যাতন, শোষণ, অপমান, লাঞ্ছনা ধরনের শব্দ গুলো নিয়ে মাতা মাতি করব? আমাদের অভিধান থেকে আমরা এই শব্দ গুলো চিরতরে মুছে দিতে চাই।

যানজট নিরসনে পদক্ষেপ হল মিশুক চলাচল বন্ধ !

অটোরিক্সা মিসুক বন্ধের এই হাস্যকর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আমি । এই পরিবহনটি সাধারন গরিব মানুষের বাহন। আমরা যদি একটু ভেবে দেখি একটা মিশুক রাস্তায় কতটুকু জায়গা দখল করে আর একটা প্রাইভেট কার কতটুকু জায়গা দখল করে? রাস্তায় পয়সাওয়ালা লোকেরা রাজার হালে চলাচল করবে আর আমাদের মত সাধারন মানুষের উপর চাপিয়ে দিবে যানজট নিরসনের সকল দায়ভার ??

রিক্সা বন্ধ , মিশুক বন্ধ, হলুদ ট্যাক্সিক্যাবতো নাই বললেই চলে । আছে ভাঙ্গাচুড়া জরাজীর্ণ কালো ট্যাক্সি আর সবুজ রং এর সিএনজি অটোরিক্সা! রাস্তায় সিএনজি’তো এখন সোনার হরিণ আর গগনচুম্বি টাকা আব্দার ! তাহলে সাধারন মানুষের জন্য বাকি রইল একমাত্র লোকাল বাস বা মুড়ির টিন! কারন সুবিধামত উঠতে নামতে হলে তো লোকাল বাস এর বিকল্প নাই !! কিন্তু আই বাস গুলোতে আদৌ কি চড়া যায়? সবাই কি চড়তে পারে??

ভি আই পি’রা যাবে তাই হঠাৎ করেই রাস্তা বন্ধ । আমাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আমাদের আটকে রেখে নিজে পার হয়ে যান যানযট মুক্ত একটা রাস্তা দিয়ে ! কিন্তু তার জন্য যে সময়টুকু সবগুলো যানবাহন অটকে থাকে তার পরে ছেড়ে দেবার পর সারাদিনের জন্য ঐ রাস্তায় কঠিন জ্যাম লেগে থাকে।

মাননীয় জনগনের প্রতিনিধিবৃন্দ আপনাদের নিরাপত্তা দরকার আছে বুঝলাম আর আমাদের মত সাধারন মানুষদের কি জীবনের কোন মূল্যই নাই আপনাদের কাছে ?

যানজট নিরসন মানে সাধারন জনণের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে একটা কঠিন দূভোগপূর্ণ জীবন !!!
বেশি বলে কি হবে ?? কে শুনবে আমাদের কথা !!! ৫০ হাজার পারিবার আজ বেকার কারন মিশুক চালকদের বিকল্প কাজের বন্দবস্ত না করেই এই ধরনের পদক্ষেপ কতটাযৌক্তিক ?? কত টা কার্যকর, কতটা মানবিক এটা কি কেউ ভেবে দেখেছে??!!!

বর্ষার আগমন ! হৈ হৈ রৈ রৈ যত্রতত্র রাস্তা খোড়াখুড়ি শুরু !!

এটা ঢাকা শহরের নিত্য বছরের চিত্র। অনেক কিছু বদলে গেছে গত এক দশকে। কিন্তু এই দৃশ্যটা বদলায়না! এটাই এই দেশের নিয়ম! বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই যেভাবে রাস্তা খোড়াখুড়ি শুরু হয়ে গেছে তা জনজীবনে ফেলেছে বিরাট দুর্ভোগ ! প্রতি বছর রাস্তা খোড়া হচ্ছে ! কিন্তু কেন ?

রাস্তা খোড়ার আগেই বিরাট আকারের পাইপে ছেয়ে গেছে রাস্তা !!! বন্ধ করে দিচ্ছে যখন তখন যেকোনো চলমান রাস্তা !!! কেন এই অনিয়ম ?? আমাদের দেশের বর্ষা প্রেমিক রাস্তা খোড়াখুড়ি বিশেষজ্ঞদের কি এই খনন কাজ আজীবন চালিয়ে জীবিকা নিরবাহ করার এই পন্থা? কি মধু আছে এইখানে যা শুধু বর্ষাকালে বেরিয়ে আসে? তাদের এই মধু খাওয়ার জন্য আমাদের মত সাধারন নাগরিকরা ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে আটকে থাকি। সরকারের বিশেষজ্ঞরা কি বোঝেন কি যাতনা, কত দুর্ভোগ আমাদেরকে সইতে হয়? এই নাটক আপনারা কবে বন্ধ করবেন ??

ছবি সংযুক্ত করার সুবিধা রাখা যায় কি ??

মাঝে মাঝে কিছু তথ্য পাই এবং দিয়ে থাকি আমরা । কিন্তু সাথে যদি ছবি সংযুক্ত করার সুবিধাটা একটু হলেও থাকতো তবে আমার মনে হয় সবার জন্য ভাল হতো এবং এটা সচিত্র প্রতিবেদন এখানে প্রকাশ পেয়ে যেত । এবং খুব অল্পতেই যে কোনো ব্যাপার সহজেই তুলে ধরা যেত ।

আমি আশা করবো এই প্রস্তাবটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করে দেখবেন এবং আমাদের সকল ব্লগ ইউজার উপক্রিত হবে ।

গ্রামগুলো আর আগের মত নাই !!!!!!!

আবাদি জমিগুলো ছেঁয়ে গেছে সবুজ ফসলে। বর্ষা শুকায়ে যাবে আর সবুজ ধান গাছগুলো পেকে আস্তে আস্তে হলুদ হয়ে মাটিতে নুয়ে পড়বে । এই স্বাভাবিক দৃশ্যটা যে কতদিন হয়ে গেল দেখিনা !!!…

জমিতে চাষি চাষ করেনা লাঙ্গল দিয়া !!! পোকা আর আগাছা নিধন করে বিষাক্ত ওষুধ দিয়ে। মাটির উর্বরতা হারাচ্ছে দিন দিন।

বর্ষার পানি কমে যাবে আর মাছ ধরার হিড়িক পড়বে এটাও ছিল একটা নিত্য নৈমিত্তিক দৃশ্য।
ঝাঁকে ঝাঁকে পুটি, কই, বোয়াল, শোল, খলসে, ভেটকি ইত্যাদি মাছে ভরে যেত ! সবই আজ স্মৃতি ! কারন আজ আর সেই মাছের ঝাঁক নেই! হারিয়ে গেছে। পুকুরে নেই জিয়ল মাছ । এর পরিবর্তে চাষ করা হচ্ছে হাইব্রিড পাঙ্গাস,তেলাপিয়া, সিলভার কাপ, গ্লাসকাপ। দেশীয় মাছ রক্ষায় নেই কোন পদক্ষেপ নাই। মৎস মন্ত্রণালয়ের কাজ দেখি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে আর বছরে একবার মৎসপক্ষ পালন করতে ।

রাস্তার পাশে নাই সারি সারি গাছ । গড়ে উঠেছে সারি সারি বাড়ি । আবাদি জমি গুলো ও ঢেকে যাচ্ছে নতুন নতুন বাড়িতে । সবাই ব্যস্ত নগর পরিকল্পনা নিয়ে! কিন্তু যেভাবে দ্রুত আবাদি জমি কমে যাচ্ছে একের পর বাড়ি তুলে সেদিকে কারও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই ।

গ্রামের বাতাসও ছেঁয়ে গেছে দুষিত কালো ধোঁয়ায় । কিভাবে বাতাস রক্ষা হবে?? কোথায় গেলে একটা সস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবো আমরা? এই মহাবিবর্তন নিয়ে কি কেউ ভাবে?? আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ কি? তারা কোন পরিবেশ রক্ষা করে? কই আমি তো আমার গ্রামের বাতাশ, জমি রক্ষা করার সাহায্যে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখি নাই। আশা করছি আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটা গ্রামেরই এরকম বেহাল দশা !!!

পাল্কিতে চড়ে এখন আর বউ শশুর বাড়ি যায়না । কারন গ্রামের মানুষের গায়ে লেগেছে আমাদের যান্ত্রিক জীবনের ছোঁয়া ।

বাল্যবিবাহ বন্ধ হয়নাই আজও । পারিবারিক কলহ বেড়েই চলেছে। আমার ছেলেবেলার সাথী সালমা ছিল! যাকে তার স্বামী ও জা মিলে মেরে ফেলেছে । পলি আরেক বান্ধবি যার সাথে দেখা হয়না ৬/৭ বছর। এমন আর অনেক গ্রামের বান্ধবী আছে যাদের নেই কোন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যেখান থেকে তাদের খুঁজে নিব। হয়ত কোন একদিন দেখা হলেও হতে পারে! মাঝে মাঝে এইসব কারন গুলোর মাঝে খুঁজে পাই গ্রামকে।

ছোঁয়া লেগেছে মোবাইল ফোনের , ডিশ এন্টেনার । পশ্চিমা সংস্কৃতির জোয়ার লেগেছে শহর গ্রাম সবখানে। হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের নিজস্ব দেশীয় ঐতিহ্য ।

যেই গ্রামে কাটিয়েছি জিবনের অর্ধেকটা সময়। আমার গ্রামের স্কুলের ভবনটি আজ আগের মত দাঁড়িয়ে আছে। যেই বিদ্যালয়টি থেকে আমি ও আমার বাল্য বন্ধুটি এক সাথে পড়াশুনা করেছি সেটি আজ কালের সাক্ষী আমাদের দুজনের কাছে। কারন আমার সেই বাল্য বন্ধুটি’ই আজ আমার জীবন সঙ্গী। তার সঙ্গেও কেটে যাচ্ছে আমার জীবনের দশটি বছর!!! শশুর বাড়ি, বাবার বাড়ি পাশাপাশি হওয়াতে আমাকে অনেক বেশি গ্রামে যেতে হয় এবং আমি যেতে ভালোবাসি। আমাদের গ্রামে এখন আর আমাদের পরিবারের কেউ থাকেনা। তবুও আমি যাই। হেঁটে চলে আসি। দূর থেকে সালাম করে আসি আমার দুই বাবা’র (নিজের বাবা, শশুর বাবা) কবর।

ফিরে যেতে ইচ্ছা করে মাঝে মাঝে। কিন্তু পারিনা যেতে কারন নিজেকে বুঁনে নিয়েছি এই নগর জীবনের সাথে। মাঝে মাঝে ভাবি হয়ত একদিন ফিরে যাব । আদৌ কি যাব ?? যেতে পারব?? জানিনা। সবই অজানা। তবুও ভেবে নিজেকে দেই পলাতক শান্তনা ।

আমি আমার গ্রামদেশকে খুব ভালবাসি। আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করি । কারন আমার গ্রামের বাড়ি আছে, ছিল এবং ইনশাল্লাহ থাকবে। আমি গ্রামের মেয়ে এইটা বলতে আমার লজ্জা লাগেনা! উল্টো গর্বে বুক ভরে যায়! কারন আমি মাটির ছোঁয়া পেয়েছি ।

শহরের বসবাসকারি অনেকেরই গ্রামের বাড়ি নাই। না থাকাটা কোন অপরাধ না। কিন্তু অবাক হই, করুনাও হয়, তাদের যখন দেখি খুব দম্ভ দিয়া বলে…আমি কখন গ্রামে যাইনি । আমাদের গ্রামের বাড়ি নাই। যারা এই দম্ভ নিয়ে কথা বলেন তারা হয়ত জানেনই না যে তাদের কি নেই?? আমি বুঝি কিছুই নেই!

আসুন আমরা আমাদের দেশকে, গ্রামকে রক্ষা করি নিজেদের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সোচ্চার হই………

চাকরির দরখাস্তে ব্যাংকড্রাফ্‌ট বানিজ্য বন্ধ করতে অন্দোলন করুন

একটি চাকরি কবে পাবো আদৌ জানি না! কিন্তু একের পর এক বাবার কাছ থেকে চেয়ে নিতে হচ্ছে ব্যাংকড্রাফ্‌টের টাকা …।। কত হাজার টাকা যে ব্যাংকড্রাফ্‌ট এর পেছনে খরচ করতে হয় একজন বেকারকে এটা কেবল সেই বেকার আর তার পরিবারই জানে। তারপরও কি মিলে চাকরি নামের সেই সোনার হরিন ?? সরকারি বেসরকারি সকল চাকরিতে ব্যাংকড্রাফ্‌ট এর নির্দেশনা আবশ্যিক…… ৫০০/৩০০ চলছেই চলছে……।।

ডিজিটাল বাংলাদেশে শুধু চাকরির দরখাস্ত করতে গিয়ে একজন বেকারকে তার বাবার কাছে থেকে দিনের পর দিন হাত পাততে হয় তবে কিভাবে কি করবে আমাদের বেকার সমাজ? ডিজিটাল পদ্ধতিতে দরখাস্ত জমা দিতে হয় তাই কত আর সাইবার ক্যাফেতে যাবে ?? সেখানেও সময় ভিত্তিক বিল, সার্ভিস চার্জ। তাই নিজ বাসায় লাগবে এটা কমপিউটার সাথে লাগবে ব্রডব্যান্ড নেট কানেকশন। বাহ্ এখানেও খরচের বাহার , তারপর দৌড় ঝাপ শুরু অমুক ব্যাংক অমুক শাখা খুঁজতে। কারন বিজ্ঞাপন দাতার নির্দেশে ওখান থেকেই করতে হবে সেই কাঙ্খিত ব্যাংকড্রাফ্‌ট টি………।

কবে বন্ধ হবে এই ব্যাংকড্রাফ্‌ট বানিজ্য ?? যা চাকরি দাতা সংস্থা গুলোর মানুষের রক্ত চোষা মনোভাবকে বলদে দিতে সাহায্য করবে? ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে তরুণদের কি লাভ হলো? সরকারের একটি নির্দেশই বেকারদের এই ভয়াবহ অর্থ যোগান যন্ত্রণা থেকে রেহাই দিতে পারে। কিন্তু আমরা বুঝে গেছি কোন সরকারই এই কাজটি করবে না। এটা হলে তাদের সুবিধাভোগী অনেকের বাড়তি আয় বন্ধ হয়ে যাবে।

ছোটবেলার খেলাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে! দিন গুলো কেমন যেন বদলে গেছে ………

আমার ছেলেবেলা কেটেছে গ্রামে। খুবই দস্যিপনা করে ছেলেবেলাটা পার করেছি !!!! নারিকেল গাছে চড়া থেকে শুরু করে খাল বিলে মাছ ধরাও বাদ দেই নাই। আমি ঠিক এই জিনিস টাই মনে করতে পারছিনা যে ছেলেবেলায় কি করা হয়নাই আমার! সব ধরনের দুষ্টামিতে আমি ছিলাম এক নাম্বার । আমার জ্বালায় সবাই ছিল তটস্থ । সেই আমি আজ চুপসে গেছি ।
যে কোন ধরনের খেলায় আমি সর্বদা চ্যাম্পিয়ন ছিলাম । কাবাডি খেলতাম এক পক্ষ ছেলে অন্য পক্ষ মেয়েরা । গোল্লাছুট , দারিয়াবান্ধা, বউচি, কানামাছি, কুতকুত,পাঁচগুতি, ডাঙগুলি, ইচিং বিচিং, পুতুল খেলা, লুডু , দড়ি লাফ, চরুই ভাতি সব … সব খেলেছি । খুব মনে পড়ছে ফেলে আসা সেই অনাবিল মধুর দিনগুলোর কথা ।
সেই খেলা গুলো এখন প্রায় সবই হারিয়ে যেতে বসেছে । আমি মাঝে মাঝে গ্রামে যাই ।

সেই খেলা কেউ আর খেলেনা …আমার শখের পুতুল গুলো আজ আমার মায়ের ঘরে বাক্স বন্দি । আমার দুরন্তপনা, শৈশব মধুরতা, মায়াময় সুখস্মৃতি সবই যেন ঐ বাক্সে বন্দি হয়ে আছে। আমার মায়ের গভীর ভালোবাসা আমার শৈশবকে বাচিয়েঁ রেখেছে। কিন্তু গ্রামে এখন দ্রুত পরিবর্তন দেখছি… এখনকার গ্রামের বাচ্চারাও শহরের বাচ্চাদের মত টিভি দেখা আর পরাশুনা নিয়ে দিন কাটায় পরীক্ষায় একটা ভাল ফলাফলের আশায় !

আমি এখন নগরবাসির(!) জীবন জাপন করছি !ঢাকা এখন পৃথিবীর অন্যতম মহানগরের একটি। আমি ভাবতে পারিনা সেই দস্যি মেয়েটির যার একজন ছেলে সন্তান আছে আজ ! এই নগর সংস্কৃতির জীবনচর্চায় আমার ছেলেটা গ্রামীণখেলা গুলোর একটা নাম জানেনা । তার বায়না একটা গাড়ি, ভিডিও গেমস ইত্যাদি … ।।

বেশ কিছু দিন হয়ে গেল আমার ছেলের চোখে চশমা । ডাক্তার কারন বললো দুরের জিনিস সে দেখতে পায়না, পায়না সবুজ দেখতে ।। মাঝে মাঝে আমার ছেলেটা কেঁদে উঠে আমাকে জিজ্ঞাস করে “ আম্মু আমার চোখ কখনও আর ভাল হবেনা?? আমি কি চশমা ছাড়া আর কোনদিন দেখতে পাবনা??” আমি মিথ্যে সান্তনায় বলি। হাঁ বাবা তুমি বড় হয়ে গেলে চশমা ছাড়া দেখতে পাবে। আমার ছেলেটা ঘুম থেকে উঠে খুঁজে বেড়ায় চশমাটা কোথায় আছে? আর আমি এই বয়সে চশমা ছাড়া সব দেখতে পাই। নিভৃতে একা একা কাঁদি,কষ্ট পাই ।হায়রে নগর জীবন কোথায় আমার ছেলেটা পাবে একটা আধুনিকতার ছোঁয়া, একটা অবারিত সবুজ খেলার মাঠ । উল্টা সে তার নানুর চেয়েও বেশি পাওয়ার-এর চশমা পরে জীবন পার করছে এবং সারা জীবন করতে হবে ……

মাঝে মাঝে ওকে গ্রামে বেড়াতে নিয়ে যাই। সবুজ দেখতে পার্কে নিয়ে যাই । কিন্তু কি লাভ?? গ্রামের বাচচাদেরকেও আকড়ে ধরেছে শহুরে যান্ত্রিক জীবনে ।। কারও সময় নেই বিকেল হলেই মাঠে ছুটেঁ যেতে । আমি বুঝে উঠতে পারিনা এইসব পরিবর্তন আসলে আমাদের কতটুকু ভালোর দিকে নিয়ে যাচ্ছে !!!

রাস্তায় শত শত ছাইরঙ প্রাইভেট সিএনজি অটোরিক্সার রহস্য

আমরা কি কেউ জানি এই রহস্যের কারন? কেন কিভাবে বেড়ে গেল এত ব্যক্তিগত অটো রিক্সা ?

বাসা থেকে বের হলেই সবুজ থেকেও বেশি দেখা যায় ছাই রঙের প্রাইভেট সিএনজি অটোরিক্সা ! শুরুতে ভেবেছিলাম হয়ত মালিকপক্ষই নিজের প্রয়োজনের ফাঁকে বাড়তি আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে অথবা গাড়ির মালিককে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে চালক বোনাস ভাড়া উপার্জনে যত্রতত্র যাত্রী তুলছে! কিন্তু গতকাল জানলাম আসল তথ্য ! যা অটোরিক্সা চালকরা মিটার ব্যবহার থেকে পুরাপুরি রেহাই পেতে, বাড়তি ভাড়া আদায় করে নিরাপদে রাস্তায় চলাচল করতে সবুজ অটো সিএনজি গুলোকে ছাই রঙ-এ পরিনত করে সাধারন যাত্রীদের ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়ে একটা মহল দিব্যি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে । যেটা দেখার কেউ নাই । ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এগুলো ঝাকেঁ ঝাকেঁ চলছে! ওদের কাছে নিশ্চয়ই হিসাব আছে কোনগুলি বানিজ্যিক ট্রন্সপোর্ট আর কোনগুলি প্রইভেট?

আমরা সাধারন যাত্রীরাও গন্তব্যে পৌঁছাতে ঐসব অসৎ চালকদের সাহায্য করছি মিটার চুক্তিতে না চলেও বলছি আমরা মিটার এ যাচ্ছি। নইলে যে সোনার হরিন সিএনজি আমি পাবনা । পারবোনা পৌঁছাতে আমি আমার গন্তব্যে !
আজ যেদিকে তাকাই শুধু দুর্নীতি আর নিত্যনতুন সব কৌশল আবিস্কার! নতুনরূপে দুর্নীতির নানাপথ বের করার চাতুর্য। কিন্তু বিষবাষ্প থেকে মুক্তির পথ কি কারো জানা আছে? আমরা কেউ কি ভাবছি? এগিয়ে আসছি? একটি বৃহত্তর জোট হয়ে …?

কর্মজীবী পিতামাতার সন্তানকে নিয়ে আর কত দুর্ভোগ ?

আমি এই ব্যস্ত শহরের একজন কর্মজীবী মা । আমার স্বামী সরকারী চাকরিজীবী যার সুবাদে ওর কর্মস্থল ঢাকার বাইরে। বাসায় আমি আর আমাদের ছেলে, সাথে আছে একজন ভাল সাহায্যকারী মেয়ে লিমা (আমরা যাদেরকে কাজের মেয়ে বলে চিনি জানি, কিন্তু আমি বলতে চাইনা)… কিন্তু মেয়েটি লেখাপড়া জানেনা ।

ভোর বেলায় উঠে বাচ্চাকে রেডি করি নিজে রেডি হই তারপর বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে নিজে অফিস যাই । আমার ছেলেকে স্কুল থেকে আনে লিমা তারপর থেকে পুরোটা দিন কাটায় ঐ লিমা’র সাথেই। হুট করে একদিন লিমা চলে যাবে তারপর আমার কি হবে?? সব সময় তো লিমাদের পাওয়া যায়না । (লিমা খুব ভাল মেয়ে) কিন্তু বড় তাই ওর বাবা-মা ওকে বিয়ে দিবে এটাও স্বাভাবিক !! তারপর ও কি কিছু শিখতে পারছে লিমার কাছ থেকে ?

আমাদের দেশে প্রতিটা কর্মস্থলে বাধ্যতামূলকভাবে ডে কেয়ার সেন্টার (crèche) থাকা দরকার। কারন শুধু বাচ্চার নিরাপত্তার কথা ভেবে কার কাছে থাকবে রাখব ভেবে প্রতিমাসেই চাকরি ছাড়ছে আমার একাধিক সহকর্মী মেয়ে। হাতে গনা যে কয়টা ডে কেয়ার সেন্টার আছে হয় এগুলো খুব নিন্মমানের অথবা সাধারনের ক্ষমতার বাইরে! সার্ভিস চার্জের টাকার অংকটা এত বেশি এ হয় যে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো এর সুবিধাটা ভোগ করতে পারে না।।

বাচ্চার পড়াশুনা ও নিরাপত্তার কথা ভেবে আমিও ভাবছি চাকরিটা হয়ত ছেড়ে দিব। কিন্তু তারপর! কেউ জানে না আমিও জানি না কি হবে? …

মাতৃত্বকালিন ছুটি ৬ মাস করাটাই শুধু একজন মায়ের কর্মজীবন টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে আসল ভুমিকা পালন করেনা বলে আমি করি। কারন সন্তান জন্মাবার পর থেকে প্রতিটি দিনই খুব গুরুত্বপূর্ণ । আর সেই ক্ষেত্রে মা’কেই ছাড়তে হয় চাকরি ।

একজন মা , একজন কর্মজীবী নারী হিসেবে আমার চাওয়াটাও যে খুব বেশি তা নয়। আমি কাজ করতে চাই। এটা রাষ্ট্রের কাছে আমার অধিকারও। আমি আমার সন্তানকে একটা সুন্দর জীবনের পথ দেখাতে চাই যেখানে মায়ের আদর থাকবে সাথে থাকবেনা আর্থিক টানাপোড়নের ভয়ংকর হিসেবের খেলা! আমরা কি আদৌ কোনদিন পাব ? বা পেতে পারি মা ও শিশুর এইটুকু মানবিক সুবিধা ?? যেখানে থাকবেনা দুঃচিন্তায় ভরা একটা জীবন। আমাদের সরকারগুলি কবে এইসব জরুরি মানবিক বিষয়গুলির দিকে নজর দিবে?

বছর বছর টাকার ধরন বদলানো কি চলতেই থাকবে ??

গত ৪০ বছরে বাংলাদেশের টাকার ধরন বদলেছে ৪৩ বার । তার মানে হল প্রতি বছরে এক বারেরও বেশি । প্রতিনিয়ত এইভাবে টাকার ধরন বদলের জন্য নানামুখি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে । প্রথমত একই টাকার নোট নানা রং এর হওয়াতে টাকা প্রাপককে দিতে ভুল হচ্ছে কখনো চিনতে পারছিনা । সাইজেও রয়েছে একই মানের নানা নোট। যাদের অক্ষরজ্ঞান নাই তারা নোটের রঙ এবং সাইজ দেখে লেনদেন করে। তাদের জন্যও একটা বড় সমস্যা । বেশি কম এর খেলায় সর্বদা দুলছি ।

টাকা কখনো পয়সা হচ্ছে ! বর্তমানে ৫ টাকার কাগজের নোট আছে দুই ধরনের এবং কয়েনও আছে । এক টাকার নোট মাঝে মধ্যে দেখা যায় , তবে কয়েন আছে দুই ধরনের একটা বড় এটা ছোট ব্যাসের । দুই টাকার ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। নোট কয়েন দুটোই চলছে। এর কয়েনও দুই ধরনের।
বাজারে প্রচলিত প্রায় প্রতিটি মুদ্রারই বিভিন্ন সাইজ , রঙ, নক্সায় পাওয়া যায় । এতে দৈনন্দিন লেনদেনে একটা ঝক্কি পোহাতে হয়।

গত এক বছরে প্রায় ৩৫ কোটি পিস মুদ্রা ছেপেছে বাংলাদেশ ব্যাংক !
আর ০৭ মার্চ এলো আরও ৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকার নতুন মুদ্রা !!!
বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষকে কেন্দ্র করে তো নতুন মুদ্রা আসছেই ।

বাংলাদেশ ব্যাংক সকল সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে ছেঁড়া ও নষ্ট টাকা সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ধংস করে দিচ্ছে ! কিন্তু ছেঁড়া টাকার পরিমান কোথায় কমছে?? আমি তো প্রতিনিয়তই ছেঁড়া টাকা পেতে পেতে রীতিমত ছেঁড়া টাকার সংগ্রাহক হয়ে যাচ্ছি । আমার কাছে ছেঁড়া টাকা আসে কিন্তু কেউ আর আমার কাছ থেকে সেটা নেয়না।
আর যে হারে নকল টাকায় পুরো দেশ সয়লাব হয়ে যাচ্ছে সেটাকে কি নিয়ন্ত্রণ করার কেউ আছে ?? বাংলাদেশ ব্যাংক-এর স্ট্রং রূম থেকেও নকল টাকা ধরা পড়ে! তবে নকল ধরতে করা যাবে? কবে হবে এই ডিজিটাল বাংলাদেশ দুর্নীতি মুক্ত ??!!

দেশকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রাপ্তি!!!!!

বিডিআর বিদ্রোহে নিহত এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত পরিবার বর্গকে জানাই আমার সালাম শ্রদ্ধা ভালবাসা । যারা দেশের জন্য প্রাণ দিয়ে গেল তারা কি পেলো ? তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কি পেল??
বি ডি আর বিদ্রোহে নিহতদের পরিবার কে সকারের পক্ষ থেকে অনেক সুবিধাই দেয়া হয়েছে । কিন্তু তাদের সন্তান কিংবা পরিবারের অন্য সব সদসসদের যদি কর্ম ক্ষেত্র, ভর্তি পরীক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে একটা আলাদা কোটা দেয়া হলে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা উপকৃত হত এবং একটা আলাদা সন্মানে ভূষিত হতো । এককালীন টাকা , একটা বাড়ি/ফ্ল্যাট দিয়ে তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ বলে আমি মনে করিনা ।
আমি মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্মগ্রহন করিনি, কিন্তু বিডিআর বিদ্রোহের সময় প্রাপ্ত বয়স্ক একজন নাগরিক। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কান্না ও চাপাকষ্ট আমি প্রতিটি মূহুর্ত দেখছি বলা যায় । যার প্রিয়জন হারিয়ে গেছে সেই কেবল জানে প্রিয়জন হারানোর বেদনা কত তীক্ষ্ণ কত বর্ণহীন । আমরা অনেকেই নিহতদের প্রিয়জনদের কান্না দেখে কেঁদেছি, কষ্ট পেয়েছি কিন্তু পরক্ষণে ভুলেও গেছি কারন আমিতো আমার পরিবার থেকে কাউকে হারাইনি । আমার পরিবারতো আমার সাথে আছেই । আমরা এখন প্রতি বছর “ বিডিআর বিদ্রোহ” দিবস পালন করি । আর মাঝে মাঝে শুনে থাকি বিচার কাজ চলছে! কবে শেষ হবে এই প্রক্রিয়া!! কবে সেই খুনিদেরকে শাস্তি দেয়া হবে তিলে তিলে ! ফাঁসি কিংবা যাবত জীবন কারাদন্দের থেকেও ভয়ঙ্কর শাস্তি এই খুনিদের প্রাপ্য ।
আমরা কোন সভ্য দেশের নাগরিক ? দেশ রক্ষার কাজে নিয়জিতরাই একজন আরেক জনকে হত্যা করছে! আমরা তাহলে কাদের হাতে তুলে দিলাম দেশের দায়িত্ব? আমরা’তো নিজেরাই নিজেদের ভাল চাইনা! একে অপরের শত্রু আমরা! পোশাক আর নাম বদলালেই কি আমাদের চরিত্র বদলে যাবে? আমরা কি পারবো সভ্য হতে! তবে কি রঙ আর কাপড় সবাইকে পরিবর্তন করে দিতে পারবে? কোন দিন পারে?
দেশের জন্য জারা জীবন দিল তাদের প্রতি আমাদের যথার্থ সন্মান আমরা কি দিতে পেরেছি আজও ? মুক্তিযোদ্ধার সন্তাদের জন্য কোটা আছে ঠিকই কিন্তু দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা কি পাচ্ছে সেই সুযোগ কিংবা সন্মানটুকু? আমি তো দেখছি পাচ্ছে না । কারন আমার বোনের ছেলে পায়নি। আমার দুলাভাই একজন মুক্তিযোদ্ধা । লড়াই হয় সন্তানে সন্তানে । কারন কোটা থেকে নাকি সন্তানের সংখ্যা বেশি? আর যে পরিমান মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দেয়া হয় এটা কি আদৌ কার্যকর এই দ্রব্য মুল্যের উর্ধগতির বাজারে? এটা খুবই অমানবিক, অসম্মানজনক অংক।
মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তাদের মাঝেই যদি লড়াই করে জিততে হয় পেতে হয় সোনার হরিন নামক চাকরি কিংবা পদ তাহলে তাদের জন্য কোথায় রইল আর আলাদা কোটা ?
যুদ্ধাপরাধীদেরর বিচার যেমন খুব জরুরিভাবে দরকার ঠিক তেমনি মুক্তি যোদ্ধাদেরকেও তাদের প্রাপ্য সন্মান, অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ঠিক না। কিন্তু দেশের অনেক মুক্তিযোদ্ধার পরিবারই রাষ্ট্রীয় সুবিধা বঞ্চিত ।
আমরা কত ত্যাগস্বীকার করে স্বাধীন হলাম ! আমরা এবার আমাদের নিজেরা নিজদের হত্যা করলাম এই হলাম আমরা স্বাধীন দেশের সুস্থ নাগরিক! এই আমাদের দেশ প্রেম! আর স্বধীনতার অর্জিত জ্ঞান …?

আমার মামা আছে বলে আমি বেঁচে গেলাম ! যাদের মামা নেই তাদের উপায় কি?

আমি একজন কর্মজীবী নারী,মা,স্ত্রী মেয়ে, মামি, কাকি, চাচি, নানু, দাদি। সব মিলিয়ে আমি একজন পুর্ণাঙ্গ মানুষ । সৃষ্টির সেরা জীব আশরাফুল মাখলুকাত ।আমি নিজেকে সর্বক্ষেত্রে সফল মনে করি ।
কিভাবে শুরু করব বুঝতে পারছিলাম না তাই শুরুটা পড়ে হয়ত অনেকেই বিরক্ত হবেন, হাসবেন। আমি লেখালেখিতে পটু নই। কেবল চেষ্টা করি কিছু প্রকাশ করতে চারপাশে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা কিংবা অভিজ্ঞতা গুলো।
মূল কথায় আসি এইবার
খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে হয়ে যাই পাক্কা গৃহিণী তারপর বাচ্চাকে তৈরি করে স্কুল দিয়ে আসি নিজেই। তারপর যাত্রা শুরু করি কর্মস্থলে । আমি একটি বেসরকারি কম্পানিতে কাজ করছি ২০০২ সাল থেকে। শুরু থেকেই আমি আমার ডিপার্টমেন্টে একা মেয়ে কর্মী। মাঝে একজন জয়েন করেছিল, কিন্তু ২ বছর কাজ করে দেশের বাইরে চলে গেছে। কর্মক্ষেত্রে আমাকে কখনো বাজে অবস্থায় পরতে হইনি বিশেষ করে আমার পাশে বসে যারা কাজ করেন।
অফিস শেষে উচ্চতর ডিগ্রি নিতে রাতের বেলায় একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়তে যাই । অদ্ভুত ব্যাপার হল সেখানেও ৩০টা ছেলের মাঝে আমি একজন নারী। আরও অদ্ভুত হল ছেলেগুলো সবাই আমার থেকে বয়সে অনেক ছোট এবং খুবই ভদ্র ।
রাতের বেলায় যখন বাসায় যাত্রা শুরু করি তখন আমি বাস বাহনটাকেই নিরাপদ মনে করি। তাই বাসেই চড়ি। শুরুতে রাস্তায় স্টপেজে এত রাতে দাঁড়ায়ে বাস এর জন্য অপেক্ষা করাটা একটু বিপদ আর আতঙ্কের মনে হত। তাই বাসের জন্য অপেক্ষা করার জায়গাটা বেছে নিলাম পুলিশ বক্স এর সামনে । কিন্তু আমি দেখলাম যাদের আমি নিরাপদ ভাবছি তারাই বেশি নোংরা এবং ভয়ের! শিকার হতে হয় নির্বাক ইভ টিজিং এর ! তাহলে রাতের বেলায় একজন পথচারী কোথায় সবচেয়ে নিরাপদ? সে যদি হয় একজন নারী পথচারী !!!
বাস উঠলেই আমি নিরাপদ এবং দেখি আমার মত অনেক অনেক মেয়েরাই রাতের বেলায় বাইরে থেকে ঘরে ফিরে যায়।
আমরা কি পারিনা আমাদের চরিত্র বদলাতে? একজন পুলিশ সদস্যই যদি ইভ টিজিং করে তাহলে কি দাঁড়ালো? আইনের লোক নিজের হাতে আইন তুলে নিল অনৈতিক স্বভাবের কারনে । তাহলে আমি যদি রাস্তায় বিপদে পড়ি নিরাপত্তার ছাউনিটা কোথায় আমার কিংবা আমাদের?
কিছুদিন আগে আমি সৈনিক ক্লাবের ভিতর দিয়ে কচুখেত বাজার এ যাচ্ছিলাম । কোন যান বাহন না পেয়ে ভাবলাম হেঁটে চলে যাই । যেহেতু সেনা এলাকা তাই পুরো নিরাপদ । আমি হেঁটে অনেকটা পথ পাড়ি দেয়ার পর একজন নিরাপত্তা দায়িত্ব নিয়োজিত একজন নিরাপত্তা কর্মী আমার হাটার গতি রোধ করে অযথা এক গাদা প্রশ্ন করল। তারপর আমি আমি আইডি কার্ড দেখাতে চাইলে সে আমার অফিস এর ভিজিটিং কার্ড চেয়ে নিল এবং বেশ কয়েকটা আপত্তিকর কথা বলল। তারপর আমি যা করলাম । একটা দুরত্ব অতিক্রম করে আমার মামাকে ফোন দিলাম । মামা বিমান বাহিনীতে আছেন কমান্ডার হিসেবে। মামা তাৎক্ষনিক সব জেনে ঐ নিরাপত্তা কর্মীর নাম জেনে নিয়ে আমার ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করলেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিলেন।
আমার মামা আছে বলে আমি ঐ যাত্রা রক্ষা পেলাম । আমার মামা আছেন বলে আমি সাহস নিয়া অদের সাথে তর্কও করেছি !
যাদের মামা খালু কেউই নাই তারা কি করতেন কি করবে? আমরা কি তবে নিরাপত্তা কাজে নিয়োজিত কর্মীদের কাছেই জিম্মি? যারা দুষ্ট লোকদের শায়েস্তা করবে তারাই যদি দুষ্ট হয় তাহলে সাধারন দুষ্টদের কে সাজা দিবে?
আমাদের নিরাপত্তা কে দিবে ? আমরা কাদের কাছে সাহায্য চাইব ? এরাতো আমাদের জন্য কাজ করছে না। অথচ আমাদের ট্যাক্সের পয়সায় বেতন নিচ্ছে !

ভোট দিব কোথা থেকে ?!! কিভাবে ?!!

সামনে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন । কিভাবে ভোট দিব বুঝতে পারছিনা ! কারন আমাদের যখন ভোটার তালিকায় নামে ওঠে তখন আমরা ছিলাম মিরপুর এলাকায়। সম্প্রতি মিরপুর ছেড়ে আমি ও আমার পুরো পরিবার এখন মোহাম্মদপুর বাসিন্দা । আমার পরিবারে ভোটার আছে ৪ জন । কিন্তু আমি কি পারব মোহাম্মদপুর থেকে ভোট দিতে আমার পছন্দের প্রার্থীকে?

অটিস্টিক নির্ঝর আর সেরেব্রাল পালসির সাকিন এরা আমাদের ই সন্তান ।

২ রা এপ্রিল অটিস্টিক দিবস !!
সাকিন
নির্ঝর
এই দুইজন ছেলেকে আমি খুব ভাল করে জানি এবং চিনি। একজন আমার পরিবারের সদস্য অন্যজন আমাদের এক বর ভাইয়ের ছেলে। কাকতালীয় ভাবে দুইজনের বয়স প্রায় একই বলা যায়।
০১. সাকিন আমার ভাসুরের (স্বামীর বর ভাই) একমাত্র ছেলে। সাকিন বয়স এখন ১২+ বছর। শেষ কবে ঘর থেকে বের হয়েছে আমার ঠিক মনে পরছেনা ! সাকিন সব সময় চার দেয়ালে বন্দী । জন্মের শুরুতে নানা চেষ্টা করলেও গত ১০ বছর যাবত আমি দেখছিনা সাকিনকে নিয়ে কেও ভাবছে ! সবাই নিজেকে নিয়ে আছে । ভাই ভাবী ভিতরের চিন্তা ভাবনা মাঝে মাঝে আমার জানার খুব ইচ্ছা হয় কিন্তু সাহস পাইনা কারন অনেক বার জানতে অজানা থেকেই ফিরে আসতে হয়েছে আমাকে। সাকিন এর কি হবে ?? সে বড় হচ্ছে একদিন আসবে যেদিন ভাই ভাবী নাও থাকতে পারে তখন ?
০২. নির্ঝর আমাদের এক বর ভাইয়ের ছেলে। বয়স ১০+ বছর। নির্ঝর-এর অটিজম ধরা পরার পর থেকেই ভাইয়া এবং ভাবি সাথে তাদের পরিবার একটা ভয়ানক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন । নির্ঝরকে নিয়া ওনারা কি না করছেন ? যুদ্ধ করতে করতে গত ৫ বছর যাবত নির্ঝর বাস করছে AUSTRALIA MELBOUNRE এ। আপা এবং ভাইয়ার মতে নির্ঝরের জীবন ওখানেই অনেক ভাল। ও একটা স্কুল পড়াশুনা করে। যেই স্কুলে নির্ঝর পড়ে তার সহপাঠীরা বেশির ভাগই স্বাভাবিক শিশু । ওখানে ওকে আলাদা কোন স্কুল পরতে হয়না। হ্যাঁ এটা সত্যি ওর প্রতি আলাদা যত্ন করে সবাই। গত ৫ বছরে নির্ঝর অনেক উন্নতি করেছে মানসিক বিকাশে । যদিও আপা ভাইয়া অনেক কষ্ট করে ভিসা পেয়েছেন। কারন অটিজম আক্রান্ত বিদেশী বাচ্চাদের ভিসা দিতে চায়না। কিন্তু আপা এবং ভাইয়া দমে জান নি । আপা থাকেন MELBOURNE আর ভাইয়া থাকেন ঢাকা শুধু নির্ঝর এর জন্য ওই জীবনে আছেন উনারা গত ৩ টি বছর। নির্ঝর আজ দৌঁড়ায়, খেলে আর সব স্বাভাবিক বাচ্চাদের মতই বলা যায় । কেবল কথা বলেনা কিন্তু সব বুঝাতে সক্ষম। আপা ভাইয়া যুদ্ধে অনেকটা এগিয়ে গেছেন । শুধু সম্ভব হয়েছে একটা উন্নত দেশে নির্ঝরকে রাখতে পেরেছেন বলে।
নির্ঝর আর সাকিন এর মধ্যে অনেক তফাৎ । নির্ঝরকে নিয়ে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন ওর বাবা মা পুরো পরিবার। আর সাকিনকে সবাই মুখে মুখে আহা ! রে আহা ! রে করে। তবে কি সাকিন বাইরের আলো দেখতে পাবেনা ??
(আমি যখন সন্তানসম্ভবা তখন আমার এক খালা বলেছিলেন শুনো মা তুমি সাকিনের কথা বেশি ভেবো না। ওর দিকে বেশি তাকাইও না। কাছে যেও না । কারন সাকিন CEREBRAL PALSY তে আক্রান্ত)
( নির্ঝর এর মা বাবা অনেক অনুষ্ঠানেই উপস্থিত হতে পারেন নাই কারন নিষেধাজ্ঞা ছিল নির্ঝরকে আনা যাবে না। ওকে দেখলেই সব বাচ্চাদের সরিয়ে নেয়া হল পাগল বলে )
কেউ কি কখন দেখেছে নির্ঝর , সাকিন দের মায়েদের কান্না ? কেউ কি বুঝতে চেয়েছে এই বাচ্চাটির জন্য বাবা মা কেউ ই দায়ী নয় । তবু ও তারা সমাজ বঞ্চিত । কেন ?? আমরা সাধারনরা কেন এত অজ্ঞ ? আমি দেখেছি সাকিন-এর মায়ের কাঁন্না হাহাকার, আমি দেখেছি নির্ঝর এর মায়ের কাঁন্না, যুদ্ধ আর চিৎকার । আমিও একজন মা তাই আমি বুঝি আমার সন্তানটি যেমনি হক সেই আমার কাছে শ্রেষ্ঠ। বড় আদরের।
২১ শে মার্চ ২০১২ এর এই দিনটাকে একটু শেয়ার করি। সেদিন ছিল নির্ঝর এর জন্মদিন। যেহেতু ও দেশের বাইরে থাকে তাই ২০ মার্চ রাতের বেলায় আমি WISH করেছি FACEBOOK এর মাধ্যমে।
সকালে যখন অফিস আসার উদ্দেশে বাসে উঠলাম, আমার পাশে বসা একজন ভদ্র মহিলা আমার সাথে কথা বলতে বলতে বললেন যে উনারও একজন AUTISTIC ছেলে আছে যাকে নিয়ে উনি যুদ্ধ করে যাচ্ছেন গত নয়’টি বছর। ছেলেটার নাম আমার মনে নাই। যাক, ওই ভদ্রমহিলা জয়ী হয়েছেন। তার ছেলে এখন অনেক স্বাভাবিক। ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে উনি ছেলের থেরাপি দিয়েছেন।
সন্ধ্যে বেলা যখন অফিস থেকে বের হব ঠিক তার আগ মূহুর্তে জানতে পারলাম আমার একজন সহকর্মীর ছেলের বয়স ৩.৫ বছর। তারও অটিজম ধরা পড়েছে এবং ডক্টর তাকে বিশেষ স্কুলে ভর্তি করতে বলেছেন সাথে শিশু হাসপাতালের শিশু বিকাশ কেন্দ্রে নিয়ে যেতে বলেছেন।
মনটা ভেঙ্গে গেল ! একদিনে ৩ টি বাচ্চার জীবন সম্পর্কে জানলাম ! এত অটিজম আক্রান্ত বাচ্চা চারপাশে কেন? এর থেকে কি প্রতিকার পাবার আগাম কোন সতর্কতা আছে সন্তান কাঙ্খিত বাবা মা’দের ? বিজ্ঞান কত দিক দিয়ে এগিয়ে গেছে কিন্তু তারপরও কেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অংশগুলো আজ নড়বরে ? দুর্বল ?
২রা এপ্রিল অটিজম ও প্রতিবন্ধী দিবস। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তাদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগ দিতে। আমার প্রশ্ন হল আগেতো আমাদেরই বাচ্চাগুলোকে কর্মক্ষম করে তুলতে হবে যার যার শারীরিক বিকাশ অনুযায়ী ।তারপর আসবে তাদের কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুযোগের কথা। বিশেষ করে AUTISTIC. CEREBRAL PALSY আক্রান্ত বাচ্চদের বেলায়। কয়টা ভাল মানের শিক্ষালয় আছে? চিকিৎসালয় আছে? কয়জন ডাক্তার এর বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ?
একজন নির্ঝর অনেকটা এগিয়ে গেল বাবা মায়ের দূরদর্শী মনোবল এর জন্য । একজন সাকিন আজ চার দেয়ালে গৃহবন্দী। সাকিনদের বাবা মায়েদেরকে এগিয়ে আসতে ওদেরকে ঘর থেকে মুক্ত বাতাসে খোলা আকাশ দেখাতে কে অনুপ্রেরনা দিবে ?
অটিস্টিক অটিজম সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে জানতে হবে। সজাগ থাকতে হবে। একটি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ সম্পর্কে সবার সচেতন থাকতে হবে। এই ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি আমাদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে । অটিজম অটিস্টিক বাচ্চাদের সংস্পর্শে গেলে কোন ক্ষতি নেই এরা আমাদেরই সন্তান। এরা আমার আপনার মতই একজন মানুষ।

র‌্যাব ও ক্রসফায়ারের হত্যা উৎসব ?

সন্ত্রাসী ধরতে গিয়ে গোলাগুলির এক পর্যায়ে সন্ত্রাসী নিহত । এটা কোন নতুন ঘটনা নয় । প্রতিটি হত্যাকান্ডের একই ব্যখ্যা! আমাদের RAB বাহিনীর সদস্যারা কি পারেন না জীবিত অবস্থায় প্রতিটি সন্ত্রাসীকে ধরতে? ক্রসফায়ার মানেতো দুই পক্ষের মুখোমুখি গুলি চালাচালি! তাহলে র‌্যাবের কেউ তো গুলি খেয়ে মরছেন না, একজনও আহত হচ্ছেন না! আমরা নাগরিকরা কিছুটা হলেও তো বুঝি এইসব নাটক। তাহলে তো নির্দোষ লিমনকে পঙ্গু হতে হত না । গত বছর সাভারে মারা গেল কয়েকজন ছাত্র যাদের নিতান্তই আড্ডাবাজি করতে গিয়ে জীবন দিতে হয়েছে । তারা আইনের সাহয্য চেয়েও পায়নি। পুলিশ’তো পরে স্বীকার করলো।

দোষী ব্যক্তির সাজা দিবে আদালত। আদালতের রায় উপেক্ষা করে প্রায় প্রতিদিনই নির্বিচারে মারা হচ্ছে অজস্র মানুষ। যাদের সবাই যে মৃত্যুদণ্ড পেতে পারে এমন সন্ত্রাসী নয় কিংবা অনেকেই সাধারন পথচারী। অপরাধীদের সাজা অপরাধের ধরণ প্রকৃতির উপর হয়। তাই আমি মনে করি দয়া করে ক্রস ফায়ার বন্ধ করে সন্ত্রাসীকে আদালতের সামনে হাজির করুন, এতে অনেক গোপন তথ্যও বেরিয়ে আসবে সাথে কিছু নিরপরাধ মানুষের জীবন বেঁচে যাবে।
কাউকে মেরে ফেলার অধিকার তো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাই !

অনেক বছর আগে তৎকালিন এসি আক্রামের হতে খুন হয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র রুবেল। জানি না আমদের কয়জনের রুবেল-এর কথা আছে! কিন্তু আমার মনে আছে। গত সোমবার নরসিংদীতে মারা হলো ৬ জনকে। তাদের মধ্যের নাহিদ ও আরিফ-এর পরিবারের দাবি তারা এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছিল।

আইনের রক্ষকরাই যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয় তাহলে কাদের উপর আস্থা রেখে আমাদের নিরাপত্তার কথা ভাববো ? এদেশে কবে বন্ধ হবে বিচারবিহীন হত্যাকান্ডের উৎসব? এভাবে কি কোন সভ্য দেশ পরিচালিত হতে পারে?

আমরা গরীব দেশ……।আমাদের দেশে হরতালের রাজনীতি বন্ধ করুন !!!

আমরা যে উন্নয়নশীল দেশ না এটা বলেছেনে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রী মহোদয়। কথাটা তো আসলেই সত্যি । আমরা তো গরিবই।

আমার অফিস সকাল ৯ টা থেকে। গত দুই দিন হরতালের কারনে অফিস যাই নাই। তাই আমাদেরকে আজ বাধ্য করলো অফিস যেতে। এবং আমি অফিস গেলাম সকাল ৬.৩০ এ । কারন, যেন নিরাপদে যেতে পারি। ফিরব কখন ?? রাতের বেলায়। হরতাল শেষ হলে !! এই যদি হয় আর এমন ভাবে হরতাল চলতে থাকে তাহলে তো আমাকে এইভাবেই অফিস করতে হবে। অনেকেই করছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। কিছু করার নাই। আমিও তৃতীয় দিনে যেতে বাধ্য হলাম। এবং আমাকে পরবর্তীতেও যেতে হবেই হবে। অফিস না আসলে তো হবেনা ! দিনের পর দিন এইভাবে দেশ কোন প্রতিষ্ঠান চলতে পারেনা !!

সব কিছু বন্ধ করে মারামারিতে মেতে উঠে কি দেশের লাভ হচ্ছে ? কত টুকু হচ্ছে ? আমাদের দেশ চালকদের দুই পক্ষের এ যদি এই ধারনা এই রাজনীতিকে পরিহার না করে তবে কি তারা আসলে দেশের উন্নতি চায় ??
হরতাল, খুন, বোমাবাজি এগুলু দিয়ে আমাদের মতো একটি গরিব দেশে কখনই সুফল বয়ে আতে পারেনা ! গাড়ি জ্বালাও, মানুষ মারো , এতে কি পচ্ছি আমরা ? হরতাল কি দিচ্ছে ? এইচ এস সি পরীক্ষাসহ এমন অনেক পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেল। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ঊর্ধ্বগতি ! মারা যাচ্ছে কিছু নিরীহ সাধারন মানুষ !

সকল কল কারখানা থেমে গেছে ! ব্যবসা প্রতষ্ঠান বন্ধ !! চলাচলে নাই নিরাপত্তা !! সর্বত্র কেবল হাহাকার। আমরা হরতালের মত নোংরা রাজনীতি থেকে বের হয়ে যেতে কি পারিনা ?মানুষ খুনের রাজনীতিতে যারা লিপ্ত তারা কি তাদের সন্তান মা বাবা হারাচ্ছেন। তাদের তো সব চলেছে । তারা সকলেই বছরের পর বছর ভি আই পি জীবন যাপন করছে !!…মাঝে থেকে আমাদের মতো খেটে খাওয়া আর দিন মজুররা পড়ছেন চরম বিপদে। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানে এই নয় এই রকম খুনাখুনিতে লিপ্ত হতে হবে।

এই দেশ আমার আপনার সকলের !! দেশেকে ভালোবাসলে দেশের জন্য যদি সত্যি কিছু করতে চায় আমাদের বড় দুই রাজনৈতিক দল তবে তাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ রইল দয়া করে আপনারা আপনাদের রাজনৈতিক দর্শন বদলান। যুগোপযোগি রাজনীতিতে আসুন। যেটাতে দেশ ও জাতির উন্নতি হবে !!

সাগর রুনি হত্যা রহস্য !!!

সাগর রুনি’কে খুন করা হয়েছে আড়াই মাস পার হয়ে গেল ! এতদিন যাবত খোঁজা হচ্ছিল কে বা কারা খুনি এবং কি কারনে খুন করা হয়েছে ! কিন্তু অবাক করা এটা খবর জেনে বিস্মিত হতে হল । লাশ আবার কবর থেকে উত্তলন করা হবে । রাসায়নিক পরীক্ষা করতে হবে । কারন কবর দেয়ার আগে এই পরীক্ষাটা করা হয়নি । এর মানে কি ? তবে এত বড় এটা খুন হল এর তদন্তের শুরুতেই দেখি গরমিল !! কিসের উপর ভিত্তে করে তাহলে আড়াই তা মাস কাটিয়ে দেয়া হল ?

লাশ উত্তলন হবে। একজন সহকারী ম্যাজিসট্রেট থাকবেন । চুরিকাঘাতে মৃত্যু হয়েছে সাগর রুনি’র এটা জেনে আসছিলাম এতদিন !! কিন্তু RAB এর কাছে মালার তদন্ত পরার পর সব পুরু বেপারটাই এটা গলক ধাঁধায় পরে গেল । যেখানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রি ৪৮ ঘন্টর মধ্যে খুনিকে খুজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিলন !! সেখানে তো খুনি কিংবা খুনের কারন ও আজ পর্যন্ত দেশবাসী আর নিহতদের পরিবার জানতে পারেনি। সেখানে এখন খোঁজা হচ্ছে কিভাবে খুন হল সেই কারন।

লাশ উঠানো হবে ! নতুন করে মৃত্যুর কারন বের করবে ! খুনের রহস্য বের করতে কাটিয়ে দেয়া হলো আড়াই মাস ! তারপর আরও নাকি কিভাবে খুন হল সেই তদন্ত ঠিক হয়নি !!

কবে খুনি সনাক্ত হবে ? খুনের কারন সনাক্ত হবে । তারপর শুরু হবে বিচার । হাই কোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা ! বেঁচে গেলেও যেতে পারে খুনি !

খুনি বেঁচে যাবে । বিচার চলতে থাকবে ! সরকার বদলাবে। নিয়ম বদলাবে।
নিরাপত্তাহীন জীবন নিয়ে আমাদের এভাবেই চলতে হবে বাঁচতে হবে !!কোন অন্যায়ের বিচার পাব না শুধু কেঁদে যাব প্রিয়জন হারানোর বেদনায় !

কঠোর আন্দোলন মানেই হল হরতাল !?!

ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার জন্য সব চেয়ে কঠিন পথটি বেছে নেয়া হয়েছে হরতাল। হরতাল দিলে কি ইলিয়াস আলী বের হয়ে আসবে ? সম্ভব ? দেশ প্রেমিক নেতারা দেখি দেশ প্রেম ভুলে গিয়ে নিজেরে একে অপরকে ঘায়েল করার একটা সুন্দর কারন খুঁজে পেয়েছে ।এক দল অন্য দলকে দোষ দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ফলাফল শুন্য !!

হরতাল দেয়া ছাড়া নাকি আর কোন উপায় নেই আন্দোলনের ! ব্যাস শুরু হয়ে যাবে আবার হরতাল ! বন্ধ হয়ে যাবে সাভাবিক জীবনযাপন ! ইলিয়াস আলি আর তার ড্রাইভারকে খুঁজে পেতে চাই আমরা সকলেই !! কিন্তু খুঁজে পেতে হরতালের মত এটা নোংরা পন্থাকে বেছে নেয়া মোটেও ঠিক নয় !!

বরং তাকে কিভাবে খুঁজে বের করা যায় সেই ব্যাপারে সকলের এক হওয়া দরকার ! হরতাল দিয়ে আন্দোলন করে কি খুঁজা যায় ? বরং খুঁজে পেতে সকল কৌশল অবলম্বন করুন !

হরতালের রাজনীতি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়া দরকার আইন করে !! হরতাল কোন কারনেই গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা না !!

বজ্রপাতে মৃত্যুহার বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক !!

বিজ্ঞানের ভাষায় প্রাকৃতিক ভাবে বায়ু মণ্ডলে এর কিছু বিদ্যুৎ তৈরি হয়ে থাকে। যেগুলোর কিছু ধনাত্মক চার্জ আর ঋণাত্মক চার্জ ! আর দুইটি চার্জ মেঘের কাছাকাছি এলে পারস্পরিক বিনিময়ে বিদ্যুৎ চমকায় ! তখন মেঘের নিচে চলে আসে ঋণাত্মক চার্জ । ভু পৃষ্ঠের উপর থাকে ধনাত্মক চার্জ ! এই দুটি চার্জ মিলিত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয় যা উপরের দিকে উঠে যায় । ঊর্ধ্বমুখি যে বিদ্যুৎটি উৎপন্ন হচ্ছে সেটাই হল বজ্রপাত ! যার তাপমাত্রা হয় ৩০-৬০ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট ! তবে এই বজ্র পাতের স্থায়িত্ব খুবই কম ! মাত্র এক সেকেন্ডের দশ ভাগের এক ভাগ !
সমীক্ষায় দেখে গেছে যে পৃথিবীতে বজ্রপাতে বাংলাদেশে সব চেয়ে বেশি লোক প্রাণ হারায় ! বর্ষাকাল শুরু হলে সাথে সাথে শুরু হয় বজ্রপাতে মৃত্যুর হার ! আমাদের দেশের আবহাওয়াবিদদের কাছে বজ্রপাতের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা থাকলেও কিভাবে সেটা প্রতিহত করা যাবে তা নিয়ে সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কারো কোন মাথা ব্যাথা নাই। আন্তর্জাতিক সমীক্ষা অনুসারে বাংলাদেশে বজ্রপাতের আসল কারন বায়ু দূষণ ! বায়ু দূষণ কমান গেলে হয়ত বজ্রপাতের পরিমান ও কমে যেত !
আমাদের দেশের সরকারের কোন দায় দায়িত্ব কি নাই এই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার? যেখানে জাপান, আমেরিকার মত দেশে চলছে গবেষণা !
বায়ুদূষণই যদি বজ্রপাতের আসল কারন হয়ে থাকে তবে কেন বায়ুদূষণ কমানোর জন্য সরকার থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছেনা !! দিন দিন তো বায়ুদূষণ বেরেই চলছে !!
শহর থেকে গ্রাম অঞ্চলেই বজ্রপাতে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে ! এর ব্যাপারে কি কোন পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে? গত মাসে মারা গেল ৭৫ জন ! পত্রিকার পাতা খুললে চোখে পরবেই ! সামনে আরও ঝর বৃষ্টির দিন আসছে !! বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এভবে ক্রমাগত মরেই যাবে?

মোবাইল অপারেটর কোম্পানি গুলুর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি !!

দেশের সর্বত্র ডকুমেন্ট ছাড়া অবৈধ মোবাইল সিম-এ ছেয়ে গেছে গোটা দেশ। এই দিকটায় সরকারের কোন নজর নাই। এদিকে মোবাইল কোম্পানিগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেয়া দরকার । কারণ, ডকুমেন্ট ছাড়া মোবাইল দিয়ে ক্রাইম করতে বেশি সুবিধা ! এ বিষয়টা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও জানার কথা।
একজন মানুষের নামে একাধিক সিম উঠাতে গেলে তারও একটা যৌক্তিক ব্যাখ্যা এবং তথ্য দিয়ে একজন গ্রাহককে সিম দেয়া দরকার ! আমরা দেখছি বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে একটি টুল পেতে বা ফুটপাতে চাদর বিছিয়ে ডুকুমেন্ট ছাড়া সিম বিক্রি হয়। দেশে যেভাবে নানামুখী ক্রাইম বেড়ে চলেছে সেখানে আমাদের সাবধানতার একটা অংশ কিন্তু মোবাইল ফোন । সবচেয়ে আরামদায়ক পদ্ধতি যেকোনো ক্রাইম করতে মোবাইল ফোন-এর বিকল্প নাই ।
এই ব্যাপারে যাথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার জন্য রাষ্ট্রের কি কেউ আছে ? মোবাইল কোম্পানিগুলোর সচেতনতা সব চেয়ে বেশি জরুরি ! এরা ঐক্যবদ্ধ হলেই কিন্তু সমস্যাটির সমধান হয়ে যায় ! সবাই তাদের বানিজ্যিক সুবিধাগুলো নিয়ে নানা রকম প্রচারে ব্যস্ত। অনেক কোম্পানি বেশ কিছু জনসচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন ও তৈরি করছে। তারা কি এমন কোন বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারেন, যাতে সিম কিনতে গেলে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র লাগবে ? এতে দেশে দুর্নীতির দুষ্ট কৌশল কিছুটা হলেও কমে যাবে বলে আমি মনে করি !!
মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোকেই বলছি অবৈধ সিম বিক্রি করছেন বলে অতিরিক্ত ব্যবসা হচ্ছে ! শুধু সাথে যদি কাগজ পত্রগুলো রেখে দেন তাহলে সাধারন মানুষ কিছুটা হলেও নিরাপদবোধ করবে। দুর্নীতি করা লোকদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিবেন না দয়া করে। এক এক করে সবাই সচেতন হলে, নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করলে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ আমরাও গড়তে পারব একদিন ইনশাল্লাহ !
এতকিছু বলার পিছনের গল্প হল আমি একজন ভুক্তভোগী ! আমার মত এমন লক্ষ কোটি জনগনও আছেন আমার মত । সম্প্রতি আমি এরকম একটা অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত নানা নাম্বার থেকে আমাকে ফোন দিচ্ছে এবং ভয় ভীতি দেখাচ্ছ। অবাক ব্যাপার হলও একটি সিম থেকে একবার ফোন দিয়ে ঐ সিমটি বন্ধ করে দেয় ! আমি দুটি অপারেটর থেকে ফোন গুলো পাচ্ছি ! পুলিশ-এর এক এএসপি’কে জানালাম উনি ডি বি পুলিশ সেকশনে আছেন ! বললেন, থানায় জি ডি করতে হবে তারপর জি ডি কপি দিলে ব্যবস্থা নিবে ! কাল যাব জি ডি করতে ! দেখা যাক থানাতে আমাকে কতক্ষণ বসে থাকতে হয়? একাজের জন্য আমি ঘুষ দিবনা !! সবগুলো ঘুষখোড়কে আমি শিক্ষা দিয়ে আসব। এটা আপাতত পরিকল্পনা !

মোবাইল প্রতারনা !!

সকাল ১০ টা ! আমার ছোট বোনের ঘুম ভাঙল এটা ফোন কল এ । খুব মনোযোগ দিয়ে কথা বলছিল ! আমি আকার ইঙ্গিত করে বোঝার চেষ্টা করলাম। কে ? কি বলছে ? কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না, কথা বলেই গেল।
ঠিক ৩০ মিনিট কথা বলার পর এসে আমাকে বলছে, জানো আমি না গ্রামীন ফোন এর লটারি জিতছি। আমার সিম টা ১০ বছরের পুরানো তাই আমি জিতেছি । কথাটা শুনেই আমি রেগে গেলাম । বলাম বোকা এটা একটা চক্র ! যারা মানুষকে ধোঁকা দিয়া টাকা হাতিয়ে নেয় । আমার কথা শেষ হতে না হলেই আবার ফোন আসল, এবং আমি ধরলাম। ধরে যেই না বকা শুরু করলাম তখন ঐ প্রান্ত থেকে শুরুতে বললো যার ফোন তাকে দিন। আমাকে বললো আপনি আমাদের কথা বিশ্বাস করছেন না? দেখুন আমরা আপনার ফোন এর আউট গোয়িং কল বন্ধ করে দিয়েছি ! সঠিক তথ্য ! ফোনের আউট গোয়িং কল বন্ধ! কিন্তু কি করে হল ? কে করলো ?
…. তারপর আমার বোকা বোন বলে, শুন আপা ওঁরা সত্য বলছে। কারন, আমি ওঁদের ডিজিএম এর সাথে কথা বলেছি ! ওঁরা আমাকে #33*0000# এ ডায়াল করে কথা বলে দিয়েছে !
যেই নাম্বারটি থেকে ফোন আসছিল সেটি হল: 01767913551
আমি গ্রামীন ফোন কাস্টমার কেয়ার-এ ফোন দিয়ে জানলাম যে আমার বোন নাকি তার ফোন টির আউট গোয়িং কল বন্ধ করে দেয়াছে ! এবং তাদের সহযোগিতায় আমরা ফোনটির আউট গোয়িং কল একটিভ করতে আবার সামর্থ্য হলাম ! আসলে রহস্যটা টা কিছুই না । প্রতারক চক্র কিছু বুদ্ধিমান! ব্যাস! ঐ যে আমার বোন #33*0000# চেপেছিল তখনই তার গ্রামীন ফোন নাম্বার টির আউট গোয়িং কল অফ হয়ে গেছে ! আবার যখন একইভাবে ঐ ডিজিট গুলো চাপলাম ফোন পুনরায় ঠিক ঠাক !
এই চক্র বহুদিন ধরেই এভাবে প্রতারনা করে অনেককে নিঃস্ব করছে। এবং করে চলছে ! সরলসোজা মানুষকে বোকা বানাচ্ছে ! কিন্তু এদের নিয়া কোন জনসচেতনা মুলক প্রচারনা সরকার এবং গ্রামীন ফোন কর্তৃপক্ষের কেন নাই ? এই চক্র শুধু যে ফোনের মাধ্যমেই এই ধরনের প্রতারনা করছে আর অন্য কোনোভাবে করছেনা সেটাও তো আমরা সঠিক করে জানি না অনেকেই।
অনেক সচেতনতামুলক প্রচার প্রচারনা আজকাল দেখা যায় কিন্তু প্রতারক চক্র যে কতোটা সক্রিয়ভাবে অপরাধগুলো করে যাচ্ছে দিনের পর দিন সেদিকে কারোরই কোন দয়িত্ব দেখছিনা !গ্রামীণ ফোন কর্তৃপক্ষ এত এত বিজ্ঞাপন প্রচার করছে টিভি – পত্রিকায় অথচ তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে,তাদের গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করছে তারা এব্যাপারে কিছুই করছে না! এটা আমরা কি ভাবে মেনে নেব? তারা কেন এবিষয়গুলি নিয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে না? নাকি তাদের ভেতরেও এই প্রতারক চক্র কাজ করছে?

মা দিবস !!

রাত ঠিক ১২.০১ মিনিট এসে আমার ৭ বছরের ছেলেটি আমার গলা জরিয়ে এসে ধরে বল ” মা-জি শুভ মা দিবস “! আমি যে মা! অনুভুতিটা যে কি বলতে পারবনা ! এই প্রথমবার আমার ছেলে আমাকে বিশেষ দিন মা দিবসে শুভেচ্ছা দিল। আগে দিত সেটা না বুঝে। কেউ বলে দিত এসে হড়বড় করে বলে চলে যেত ! কিন্তু এই প্রথম আমার কাছে অনেকক্ষণ রইল ! আদর করল। গল্প করল।
খুবই আনন্দিত হলাম ছেলের স্পর্শ পেয়ে ! কারন আমার দষ্টু ছেলেটি সারাটাদিন ব্যস্ত থাকে নিজের জগত নিয়ে। খেলা আর খেলা ! কাছে গেলে বলে, যাও তো আমি ব্যস্ত আছি রোবট বানান নিয়া। কিংবা আমাকে বলবে তুমি’তো ইঞ্জিনিয়ার ! তুমি আমাকে এক্তা রোবট বানায়ে দাওনা কেন ? কবে দিবা বল?
কিন্তু মাঝে মাঝে ভয়ে বুক কেপে উঠে ! বাবা তুমি বড় হয়ে আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়ে দিবানাত? কে জানে দিতেও পারে ! এখনই ভেবে কষ্ট পেয়ে কি লাভ তাই না? আজ যেই সন্তানের জন্য দিনকে রাত রাতকে দিন করে খাটছি সেই সন্তান কি আমাকেও পাঠিয়ে দিবে ওর আদরযত্ন থেকে দূরে সরায়ে! তাহলে কি পেলাম? কি দিল আমার সন্তাটি আমাকে !
আমি তো আমার মা কে পাঠাইনি। আমার স্বামীও তার মা’কে পাঠায় নি। তবে কি আমার ভাগ্যে জুটবে সেই আশ্রয় ! যেখানে থাকবেনা আমার কাছের কেউ। আমার সন্তান। নাতি নাত্নি ! বউ ছেলে ? মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত ! এই কথাটি কি ভুল নাকি মিথ্যা!
অনেক মা আছেন যারা বৃদ্ধাশ্রমে ! তাদের সন্তানেরাও হয়তো আজ তাদের শুভেচ্ছা জানাতে যাবে ! কিন্তু আসলেই কি তারা তাদের মা’কে ভালবাসে? আমার মা এবারই প্রথম আমার কাছে নাই ! কারন মা বেড়াতে গেছেন বড় বোনের কাছে দেশের বাইরে ! মাকে আগেভাগে শুভেচ্ছা দিয়ে রেখেছি ! আবার রাতে গল্প করব ! কারন মায়ের সাথে সময় ফারাক এই কারন !
প্রতিটি দিনই আসলে একটি বিশেষ দিন মায়ের কাছে ! কিন্তু আমরা সন্তানেরা দেখে দেখে একএকটা দিন’কে বিশেষ দিন লক্ষ্য করে বাবা মাকে শুভেচ্ছা জানাই ! উপহার দেই ! তারপর ভুলে যাই ! কিন্তু আমি যখন মা আমি বুঝি যে একজন মা আমাকে বর করতে কতটা কষ্ট করেছেন !
আরা মা আমার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা। সবার মা’ই সবার কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মা হওয়া উচিত ! কিন্তু সেটা হয়না বলেই অনেক মা’ই আজ বসে আছে সন্তানের অপেক্ষায় বৃদ্ধাশ্রমে। আমরা কি পারিনা এই নিষ্ঠুরতা থেকে নিজদের বের করে আনতে? আজ আমি সন্তান কাল আমি বাবা/ মা হবো ! আমাকেও যদি একদিন এই জীবন পেতে হয় তবে কি আমি মেনে নিতে পারব ? না আমি পারবনা ! যেটা আমি পারব না সেটা আমি আমার মা বাবাকেও পেতে দিবনা । কখনই না।

তরল দুধ কি করে বানানো হয় ?

আমরা জানি কি ? কি করে তরল দুধ বানানো হয় ? কি করে আবার? তরল দুধ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গাভি থেকে পেয়ে থাকি আমরা ! এটাই আমরা সকলে জানি ! ঠিক জানি ? ভুল জানি ? তথ্য টা ঠিক হলেও এতা এই সময়ের জন্য কতোটা সত্য এবং যুগোপযোগি ! বর্তমানে যেই অসম্ভব এবং ভয়ানক সত্যটা আমাদের অনেকেরই জানা ( হয়ত অনেকেই জানেন না কিংবা দ্বিমত পোষণ ও করবেন আমার এ তথ্যটিতে ) কিন্তু অবাস্তব হলেও সত্য ! একমন মন দুধ বানানো রেসিপি যদি এমন হয় তবে ?
৩০ কেজি ছানার পানি
১০কেজি গরুর দুধ
১ কেজি ক্রিম
২৫০ গ্রাম সোডা
০.৫ কেজি চিনি
ব্যাস তৈরি হয়ে গেল ১ মন দুধ ! আসলেই কি দুধ হল ? আরা যা প্রতিদিন খাচ্ছি সেটা কি দুধ ভেবে সেটাই তৈরি করা হয় এভাবে ?
যেটা অনেক নামি দামি কোম্পানি গুলো বহুদিন যাবত খাটি দুধ বলে বাজারজাত করে আসছে এবং আরা সাধারন জনগণ সেই সব কোম্পানি গুলোর চমক কারা বিজ্ঞাপন আর সুন্দর মোড়কে মোড়ক করা পণ্যটি সাদরে কিনে বাসার সকলে মিলে আমোদ করে খাচ্ছি একটা পুষ্টিকর পানীয় / খাদ্য হিসেবে সেটা কি আসলেও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দ্রব্য ?

বাবা তুমি কেমন আছো?

আজ বাবা দিবস !
কিন্তু আমি জানি না আমার বাবা কেমন আছে ! আমি জানি আমার বাবা কোথায় আছে ! কিন্তু বাবাকে শুভেচ্ছা পাঠাতে পারিনি পারব ও না !
আমরা জন্মের পর প্রথম বার বাবা পেয়ে থাকি ! বৈবাহিক সুত্রে আর একবার বাবা পাই (শ্বশুর) ! আর আমার দুই বাবার একজনও আমাদের মাঝে নেই ! তারা আকাশের তারা হয়ে আমাদের সাথে মিশে আছেন ! ছোট বেলায় এটাই জানতাম ! কেউ মারা গেলে আকাশের তারা হয়ে যায় ! আর একবার একজন বাবা আমার জীবনে চলে এসেছে ! জার কারণে আজ আমার মুখ থেকে বাবা ডাকটা হারিয়ে যায়নি যাবেও না ইনশাআল্লাহ! কারন আল্লাহ আমাকে একজন দুষ্টু ছেলের মা বানিয়েছেন ! যাকে প্রতি সেকেন্ড বাবা ডেকে ডেকে জন্মদাতা বাবাকে ডাকার অপূর্ণতাটা ভুলে  যাই !
যাদের বাবা নেই মা নেই তারাই জানে বাবা মা হারানর কষ্টটা ! আজ আমি বুঝি ! সেদিন একটা পত্রিকায় দেখলাম বিজ্ঞাপন দেয়াছে ! বাবা দিবসে বাবার সাথে থাকা স্মৃতি নিয়ে লিখা পাঠাতে ! যদি মনোনীত হয় তবে ছাপা হবে  এবং লটারির মাধ্যমে বিজয়ীকে পুরস্কার দেয়া হবে ” বাবাসহ টিকেট নন্দন পার্ক “…। আমি থমকে গেলাম ! স্মৃতি লিখে যদি পুরস্কার জিতে জাই তবে কাকে নিয়ে যাব ! কষ্ট পেলাম, রাগও হল ! মনে হল আমাকে আর একটা মনে করিয়ে দেয়া হল যে আমার বাবা বেঁচে নেই ! ফিরেও আসবেনা কোনদিন ! চাইলেও যেতে পারব না নন্দন পার্ক !
বাবা দিবসে যাদের বাবা বেঁচে আছে তাদের বাবার প্রতি রইল আমার অনেক অনেক শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা ! আমার বাবার জন্য ও দোয়া চাইলাম সবার কাছে ! আমার ছোট বাবাটা যেন বড় হয়ে একজন ভাল মানুষ হয় ! আমাকে অনেকেই প্রশ্ন করে ” ছেলেকে বড় হলে কি বানাবেন?” আমি উত্তর দেই ” একজন ভাল মানুষ”…! অনেকেই বিরক্ত হয় ! হাসে !
আমার বাবা এখন শুধুই আমার ছেলে !

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে বিস্কুট বিতরণে ভয়াবহ দুর্নীতি হচ্ছে

বাংলাদেশ সরকার সকল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুশিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিদিন এক প্যাকেট করে বিস্কুট বিতরণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। নিয়ম হচ্ছে ছাত্র ছাত্রীরা ঐ বিস্কুট স্কুল থেকে খেয়ে যেতে হবে। প্যাকেট বাসায় নিয়ে যেতে পারবেনা। এবং ওই প্যাকেট মোড়ক স্কুল ক্যাম্পাসেই ধ্বংস করে দেয়া হবে। পুষ্টিঘাটতি পূরণের সেই বিশেষ বিস্কুট কি ছাত্র ছাত্রীরা ঠিক মত পাচ্ছে?  কিংবা স্কুল প্রতি কিভাবে বিস্কুট বরাদ্দ দেয়া হয় এটার কী নিয়ম বা হিসাব আছে?
যেহেতু নগরের যান্ত্রিক জীবনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে ব্যস্ত জীবনযাপন করছি ! আমি এই বিস্কুট বিতরনের তথ্যটা জানতে পারলাম গতকাল ! আমার এক সহকর্মী গতকাল আমাকে এই বিস্কুটা খাওয়াল !  বিস্কুট খেতে বেশ মজাদার ! কিন্তু আমার কি এই বিস্কুটটা চাকরি জীবনে পাওয়ার এবং খাওয়ার কথা? তাহলে ! কিন্তু কিভাবে পেলাম ! আমার সহকর্মীর এক নিকট আত্মীয় প্রাথমিক   বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ! তিনি নিজের জন্য বাসায় নিয়ে এসেছেন অনেক বিস্কুট !
কারন বিদ্যালয়ের একটা কক্ষ উপছে পড়ছে বিস্কুটে ! এই ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিদপ্তর কেন এত দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়ে আছেন ?
বিস্কুটের প্যাকেটে গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের সীল দেয়া আছে এবং সকল বিস্তারিত তথ্য গুলো দেয়া থাকা সত্ত্বেও কেউ মানছে না।

ট্রাফিক আইন অমান্য করার কি শাশ্তি নাই ?!

গতকাল অফিসের গাড়ি দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। আমাদের গাড়ির চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করল। অমনি দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আমাদের গাড়ীটা আটকাল। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক আছে। গাড়ীর অন্যান্য কাগজপত্র সব ঠিক আছে ! তাই আমাদের ছেড়ে দিল। কিন্তু আমার অজানা জিজ্ঞাসা রয়ে গেল তবে কি ট্রাফিক আইন না মানার জন্য শাস্তির বিধান নেই? গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক মানেই আমি আমার গাড়ি বেপরোয়া হয়ে যাবে!
আমার জানার আগ্রহ রয়ে গেল কিন্তু জিজ্ঞাস করতে গেলাম না ! জানতে গেলেই দেরি হয়ে যাবে রাস্তা এবং লেনদেনের একটা পর্ব যে চলে আসতে পারে এটাও আমাদের মোটামুটি জানা আছে !

ট্রাফিক আইন অমান্য করার কি শাশ্তি নাই ?!

গতকাল অফিসের গাড়ি দিয়ে বাসায় ফিরছিলাম। আমাদের গাড়ির চালক ট্রাফিক আইন অমান্য করে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করল। অমনি দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আমাদের গাড়ীটা আটকাল। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ঠিক আছে। গাড়ীর অন্যান্য কাগজপত্র সব ঠিক আছে ! তাই আমাদের ছেড়ে দিল। কিন্তু আমার অজানা জিজ্ঞাসা রয়ে গেল তবে কি ট্রাফিক আইন না মানার জন্য শাস্তির বিধান নেই? গাড়ীর কাগজপত্র ঠিক মানেই আমি আমার গাড়ি বেপরোয়া হয়ে যাবে!
আমার জানার আগ্রহ রয়ে গেল কিন্তু জিজ্ঞাস করতে গেলাম না ! জানতে গেলেই দেরি হয়ে যাবে রাস্তা এবং লেনদেনের একটা পর্ব যে চলে আসতে পারে এটাও আমাদের মোটামুটি জানা আছে !

আমাদের মাতৃভূমি

গুলশান-১, পোস্ট অফিসের সামনে বসে থাকা এক অন্ধ ভিক্ষুক মহিলাকে গতকাল সকাল ৮.৫০ এর দিকে একজন পথচারী ছেলে  যার বয়স ২৫-৩০ হতে পারে সে তার পরনে থাকা সুয়েটার তা খুলে দিয়ে গেল! এরকম নিরব মানবিক সাড়া আমাকে একটু চমকে দেয়। বাইরে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা তারপর ছেলেটা হন হন করে চলে গেল। আমি তাকে পিছন দিক দিয়ে দেখতে পেলাম। কিন্তু পর মূহুর্তে দুঃখজনক ও অদ্ভুত ব্যাপার ঘটল। কোথা থেকে যেন একটা ১৫-২০ বছরের মেয়ে অন্ধ মহিলাটির কাছ থেকে সুয়েটারটি কেড়ে নিয়ে ছেলেটির পিছন ছুটল! ছেলেটি অই মেয়েটিকে বলল যে সে অন্ধ মহিলাটিকে ওটা দিয়ে দেয়েছেন। কিন্তু বিধি বাম। সেই কথা শুনে ১৫-২০ বছরের মেয়েটি সুয়েটারটি নিয়া দৌঁড়ে পালিয়ে গেল ! অন্ধ মহিলাটি কিছুই করতে পারল না। আমার কিছু করার ছিল কিনা আমি তখন বুঝতে পারি নাই। কেবল তাকিয়ে দেখলাম ! আজ সকালেও দেখলাম অন্ধ মহিলাটি ওই জায়গায়ই বসে আছে। আমি তার ছবি দুটি তুললাম এবং কিছু টাকা দিয়ে আসলাম। আমি খুব একটা ভিক্ষা দেই না। ভিক্ষাবৃত্তি আমার খুব অপছন্দ; বরং যারা কাজ করে খায় তাদের বাড়তি টাকা দেই তার প্রাপ্য থেকে।
যেই দেশে একটি মানুষের নিরাপদ আবাস নেই। মাথা গুজার ঠাই নেই। প্রচণ্ড শীতে মারা যাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। না খেয়ে দিন কাটায় হাজার হাজার মানুষ। সেই দৃশ্য কি সহ্য করার মত? ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ছি খুব ভাল। অনেক উন্নতির পরিকল্পনা করছি। সড়কপথ উন্নয়ন করতে গিয়া ভেঙ্গে পড়ছে বহদ্দরহাট উড়াল পথের স্প্যান, কখনো আবার গার্মেন্টসে আগুন লেগে পুড়ে মারা যাচ্ছে নিরীহ দরিদ্র মানুষ। যাদের উপর নির্ভর করে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা। হোক কৃষক কিংবা গার্মেন্টস কর্মী। এরাই বেশি কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। আধুনিকতার উন্নতি এদের স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারেনা। দু বেলা দু মুঠো ভাত আর মাথা গুজার একটা ঠাই এই যুদ্ধে লিপ্ত মানুষগুলোর দিকে কেউ তাকানোর নেই। বড় বড় বক্তৃতা, আন্দোলন, অবরোধ, খুনাখুনি, সভা, সমাবেশ, আমন্ত্রণ, নিমন্ত্রণ , কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো করতে বিদেশ ভ্রমন ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত। তাঁরা অসুস্থ হলে ছুটে যায় মাউন্ট এলেজাবেথ হাস্পাতাল কিংবা ব্যাংকক !
আমাদের দেশে কি মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল কিংবা ব্যাংককের মত উন্নত চিকিৎসা চালু করা যায়না? ক্ষুদ্র আয়ের মানুষগুলোও ছুঁটে বেড়ায় প্রতিবেশী দেশ ভারতে। যে হারে প্রতি বছর দেশ থেকে মেধা পাচার হচ্ছে এটা যে কত ক্ষতি হচ্ছে কেউ কি জানে খোঁজ রাখে ? যেই মেধা থেকে রেমিটেন্সও আসেনা! কারন তারা ওখানে স্থায়ী হয়ে যায়।
আমাদের কত বড় সমদ্রু সৈকত কক্সবাজার,পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম বীচ। সেটা ফেলে আমরা দেখতে যাই থাইল্যান্ড পাতায়া বীচ দেখতে। যেটা একটা সাধারন লেক মাত্র! থাইল্যান্ড কিংবা মালায়সিয়ার মত দেশ প্রতি বছর পর্যটন খাত থেকে যে পরিমান অর্থ উপার্জন করে, আমরা সেটার ধারে কাছেও না। কেন এমন হচ্ছে? আমাদেরও আছে অনেক সম্পদ আছে যেগুলো কাজে লাগালে আমরা দরিদ্র দেশ এই কথাটি চিরতরে মুছে যাবে ।
ফারজানা নাজনীন
২৭-১২-২০১২

সংস্কৃতি বিনষ্টের বিজ্ঞাপন সমাচার

ইদানিং আমাদের দেশে টিভি ও বিলবোর্ডগুলিতে যে ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা যাচ্ছে সেটা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটা কিসের বিজ্ঞাপন! এতো অশ্লীল এবং কুরুচিপূর্ণ নির্মাতা ও বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানিগুলো আবার যদি হয় স্বনামধন্য তবে লজ্জায় কি বলার থাকে? মহাখালী ফ্লাইওভারের নিচে দিয়ে গেলে দেখা যায় বেশ কয়েকটা স্থির বিজ্ঞাপনের বিল বোর্ড। যেটা ছেলেদের সেভিং ফোমের। কিন্তু এতে মডেলরা যেভাবে নিজেদের তুলে ধরেছেন এতে বোঝাই যায়না যদি না অনুবিক্ষণ যন্ত্র দিয়ে নিচের দিকে তাকানো না হয় যে, এটা কিসের বিজ্ঞাপন কোন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন। বনানী রেল ক্রসিংয়ের আছে আমাদের দেশের সব চেয়ে বিখ্যাত তাঁতের তৈরি কাপড়ের দোকানের বিজ্ঞাপন যেখানে মডেলের পড়নে কাপড়ই নাই!
এ ধরনের বিজ্ঞাপনে পথচারী কিংবা সারা দুনিয়ায় আমাদের দেশের নারীদের কীসের প্রতীকীতে তুলে ধরা হয়? শুধু কি তাই ? রীতিমত হিমশিম খেতে হয় মাঝে মাঝে সন্তানদের কাছে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে! আমাকে বেশ কয়েকবার এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে আমার সন্তানের কাছে। এটা যদি মেয়েদের জামার দোকানের বিজ্ঞাপন হয় তবে তুমি ওই দোকান থেকে জামা কিনতে পারবেনা। ওদের জামা পরলে আম্মু তোমার শরীর দেখা যাবে। এবং আমি একদিন আমার সন্তানকে দিয়ে একটি বড় ধরনের দোকানে গিয়ে একটি শাড়ি পছন্দ করেছি। ডলের গায়ে সাজিয়ে রাখা ছিল। কিন্তু আমার সন্তান কিছুতেই ওই শাড়ি কিনতে দিলনা। বলল, ওই শাড়ি তুমি কিনবেনা। দেখনা কি বাজে করে এই শাড়ি পরতে হয়? আমি হেসে বললাম বাবা আমি ওভাবে পড়ব না। আমি তোমার নানু দাদুর মত করে পড়ব। তারপরও সে রাজি হল না।
এটা সত্যি লজ্জাকর যে, একটি পন্যের বিজ্ঞাপন দিতে গিয়ে শরীর সর্বস্ব বিজ্ঞাপনে রুপান্তর করে অপ-সংস্কৃতিতে সমাজটাকে ছেয়ে ফেলা হচ্ছে। গয়নার বিজ্ঞাপন দিতে গেলে শুধু গয়নার শিল্পীত প্রকাশটি দেখা যাবে, কিন্তু এখন গয়নার সাথে মডেলের খালি গা? একটি AFTER SHAVE এর বিজ্ঞাপনে নারী মডেলের বেশি লাফালাফি সর্বস্ব। শেষে একটা লাইন, এটা অমুক আপনিও ব্যবহার করুন!
বিজ্ঞাপন প্রচার ও বানানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় সচেতনতা অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে । আমাদের তথ্য মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমলারা দেশের স্বার্থে এই বিষয়গুলি কেন গুত্বপূর্ণ করে দেখেন না তা নাগরিক হিসেবে বোধগম্য হয় না। তাদের আসলে কাজই বা কী সেটাও হিসাবে মেলে না। কেন সব কিছুর জন্য প্রতিবাদ করতে হবে? সমাজ জীবনে তালগোল পাকানো নোংরামি থেকে আমাদের মুক্ত করতে হবেই।

হরতাল কেন এবং কাদের জন্য?

১৯৯০ সাল থেকে বাংলাদেশের রাজিনীতি কিছু কিছু বুঝতে শুরু করেছি। মনে পড়ছে ১৯৯০ সাল ২০১৩ পর্যন্ত বিগত ২৩ বছর যাবত একটা ব্যাপার সব সময় করে আসছে সরকারের বিরোধী দলে থাকা রাজনৈতিক দলগুলো! কিছু একটা হলেই হরতাল অবরোধ। কিন্তু কেন? দাবি আদায় কিংবা আইন ভঙ্গ কিংবা যে কোনো প্রতিবাদের প্রকাশ ভঙ্গিটা কি বদলানর সময় আমাদের এখনও আসে নাই? আজ সপ্তাহের শেষ দিন। ৫ টা কর্ম দিবসের ৪ দিনই হরতালে কাটল! এতে দেশের জনজীবন ও অর্থনীতিতে কি পরিমান বিরূপ প্রভাব পড়তেছে ও পড়ছে? সেটা ব্যবসায়ি মহল কেবল ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে সেটা নয়। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ!
প্রতিদিন ককটেল, যানবাহনে অগ্নিসংযোগের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অফিস আসা যাওয়া করতে হচ্ছে। অফিস না করলেও যে হবে না। কারন, সকল কর্ম দিবস তো হরতাল দিয়ে মোড়ক করা। যেভাবে পার আসতেই হবে। আমরা লিমিটেড কোম্পানিতে কাজ করি। কাজে না আসলে তো চাকুরিও থাকবে না অথবা বড় স্যার বেতন কর্তন করবে।
হরতালের সুফল দিক কি আছে? নাকি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ছাড়া আর কোন উপকার হয় দেশ ও আমাদের মতো সাধারন জনগনের ? দোকানপাট বন্ধ, স্কুল কলেজ বন্ধ, গাড়ী চলাচল বন্ধ, যানবাহন পোড়ানোয় ব্যস্ত , রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সমভাবে। তবে লাভবান হচ্ছে কে এবং কারা?
কাদের জন্য হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও রাজনীতিতে আমরা যুগ যুগ ধরে লিপ্ত? এ প্রশ্ন আমরা কাকে করব। হরতাল আহ্বানকারিরা জনগনকে জিম্মি করছে, হরতাল বিরোধীরাও জিম্মি করছে। এত আইন হয় হরতাল বন্ধ করার আইন করার সিদ্ধান্ত নেয়া ও বাস্তবায়ন কবে হবে? আদৌ কি হবে ?

এই মহানগরীর একজন নারী যোদ্ধার জীবন গল্প!

রেজা সাহেব একজন সরকারী প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা ছিলেন। তার জীবন সঙ্গিনী ৭০ দশকের  উচ্চশিক্ষিতা। তারা ৫ কন্যা ও ০১ পুত্রের জনক জননী। যদিও দ্বিতীয় কন্যাটি মারা গেছে ১৯৯৮ সালে ২৫ বছর বয়সে। রেজা সাহেবও বেঁচে নেই। মেয়েদের মধ্যে এবং সন্তানদের মধ্যেও চতুর্থ হলাম আমি। হ্যাঁ আমি আমাকে নিয়ে বলছি আজ। আমার জীবনের উপর দিয়া বয়ে যাওয়া ঘটনা গুলোর একটা অতি বাস্তব দৃশ্য। পড়াশুনায় বরাবর ভাল ছিলাম। ভাল ফলাফলও করেছি প্রতিবার। বাবার সংসারে ৮/১০ মেয়ের মত নয়, লড়েছি ছেলের মতো করে। জমি চাষ, মাছ ধরা, বাজার করা সব নিজ হাতে হাল ধরেছি। প্রচণ্ড দুষ্ট, মারকুটে ডানপিটে ও ছিলাম আমি।
কিভাবে কিভাবে কেমন করে যেন একদিন এসে অনুভব করলাম বাবা মায়ের ছায়া ভালবাসা আমার পাশে নেই। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে যখন গ্রাম থেকে ঢাকা আসব বড় আপা আমাকে বলে দিল বাসে ওঠে বাইরের সাইন বোর্ড দেখতে দেখতে এলাকা চিনে নিবি। ১৯৯৪ সাল, একা একা বাসে করে চলে এলাম ঢাকা। একটি মাত্র কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দিলাম। ভর্তি হবার সুযোগও পেলাম। পড়াশুনা শুরু হল। কিন্তু হোস্টেল একমাত্র আমি ছিলাম যাকে কেউ কখনো দেখতে আসতো না। কেবল কলেজ ছুটি হলে আমার মেঝ খালা আমাকে বের করে দিতেন। আবার কখনো মিথ্যে অভিভাবক দিয়ে বের হয়ে বাড়ি যেতাম। পুরো কলেজ জীবনে আব্বা আমাকে হাত খরচ দিতে খুব হিসাব করত। কেবল আমার বেলায়। মেধা তালিকায়  চতুর্থ হয়ে কলেজ পাশ দিলাম। আব্বার সরাসরি আদেশ আমাকে আর পড়াশুনা করাতে পারবে না। কারন ততদিনে আব্বা সরকারী চাকুরি থেকে অবসর গ্রহন করেছেন। কিন্তু আমার আব্বা ঠিকই আমার ছোট দুই ভাই বোন পড়াশুনা করাল। তাতে কি! আমিও খুঁজে নিলাম চাকুরী। বেশ ভাল একটা চাকুরী পেলাম। আস্তে আস্তে ছোট দুই ভাই বোনকে নিজের কাছে ঢাকার বাসায় নিয়া আসলাম। আসলো আমার বড় বোন। আসলো আমার মেঝ বোন। আমি আমার আব্বার বাকি ৪ সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে নিলাম। একে একে বড় আপা বিয়ে করে সুদুর আমেরিকা পাড়ি জমাল। মেঝ বোন পড়াশুনা শেষ করে নিজের স্বামী সন্তান নিয়ে থাকা শুরু করলো ঢাকার বাইরে !
পুরো ঢাকা শহরে আমি একা চড়ে বেড়িয়েছি। চাকুরী করেছি তখন আমার বয়স মাত্র ১৮। আমি আমার বাবার ছেলের দায়িত্ব পালন করেছি। আমার আব্বা একটা সময় এসে তো বলত আমি নাকি তার ছেলে! আমাদের গ্রামের সবাই আমাকে দেখলেই বলত ”তুই বেঁচে থাক” তুই যা করলি তোর বাবার জন্য এটা মেয়ে তো দূরে থাক ছেলেরাও করেনা।
আমার মা বাবা আমার প্রতি দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা ভুল করে থাকলেও তাদের উপর কখনো রাগ কাজ করেনি। অভিমান করে মাঝে মাঝে কাঁদতাম আর বলতাম আমাকে কেন তোমরা পড়াশুনা করতে দিলা না। কেন তোমরা তোমাদের অপারগতা প্রকাশ করলে কেবল আমার বেলায়? আমার ছোট ভাই বোন দুটুকেও তোমরা ঠিকই পড়াশুনা করিয়ে শেষ করলা।
ছোট দুই ভাই বোনকে সাথে করে নিয়ে আমিও বিয়ে করলাম আমার ছোট বেলার বন্ধুকে। আমরা একে অপরকে চিনি জানি সেই ক্লাস সিক্স থেকে। যখন বিয়ে করলাম সে তখনও ছাত্র। ঢাকা মেডিকেল কলেজ পরছে। চূড়ান্ত পরীক্ষা দেয়ার পর আমার বন্ধুটি তার বড় দুই ভাইকে রেখেই আমাকে বিয়ে করে ফেললো ! শুরু হলো অপমান, মানসিক অত্যাচারের, অসন্মানের আরও একটা অধ্যায়।
আমার স্বামী মানুষটি পরিবারের সব চেয়ে ছোট ছেলে এবং দুই ভাইকে টপকে বিয়ে করেছে তাই সে চাইলেও অনেক কিছু বলতে পারে নাই করতে পারেনাই। তবে আমার পাশে ছিল বলেই আমি আজ দাঁড়িয়ে আছি। আমার বাবার অনেক সম্পদ নাই, আমি দেখতেও সুশ্রী নই, উচ্চ শিক্ষিতা নই- এই তিনটি যুক্তি ছিল ওদের কাছে অনেক বড়! আমাকে মেনে নেয়নি আজও! আর কখনোই মেনে নিবে না, সেটাও জানি! আমার স্বামীকে আমার শ্বশুর বাড়ীর লোকজন বলেছিল তুই এই মেয়েকে বিয়ে করেছিস? তোর ভবিষ্যৎ বলে কিছু আর থাকলো না! কেবল একজন এমবিবিএস ডাক্তার হয়েই থাকবি ।
কিন্তু আমার জীবনে বাজী হিসেবে নিয়েছিলাম। স্বামীকে বলেছিলাম বন্ধু আমার দিক থেকে যা যা সাহায্য লাগে বল আমি তোমাকে দিব। তুমি এক লাফে সকল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হও এটাই আমার একমাত্র চাওয়া। সম্পদ, গাড়ি, বাড়ি, অলঙ্কার চাইনা। চাই তোমাকে একজন সফল ডাক্তার হিসাবে দেখতে। আল্লাহ সহায় আমার স্বামী একটি পরিক্ষাও দ্বিতীয়বার দিতে হয়নি। এফসিপিএস পার্ট- ০১ এক বারেই পাশ করলো। বিসি স একবারেই উত্তীর্ণ হলো। এফসিপিএস চূড়ান্ত পরীক্ষাটাও একবারেই পাশ করে গেল। যারা ডাক্তারদের সম্পর্কে জানেন তারা বুঝবেন মেডিসিন হোক কিংবা যে কোনো বিষয়ে একবারে এফসিপিএস-এর মতো পরীক্ষা পাশ প্রায় বিরল। আমার স্বামীকে আমি কিছু নিয়ে ভাবতে দেইনি। ওর জুতা থেকে শার্ট সব আমি একা একা কিনতাম। টাকা পয়সার জোগান দিতাম।
আমি একটি মেয়ে যে কিনা কখনো গয়না কিনি নি, একটা ভাল শাড়ি কেনার শখ হয়নি। আমার জীবনে একটাই শখ ছিল আছে সেটা হলো আমার স্বামী একজন নামকরা ডাক্তার হবে। আমার সন্তানটি তার বাবাকেই অনুসরণ করবে।
দুঃখকর অধ্যায়টা হলো আমার স্বামী নিজেকে নিয়ে এত বেশি মত্ত ছিল যে, বউ ছেলের দিকে ফিরেও তাকায় নি। আমি অনেকবার আবদার করেছিলাম আমি আবার পড়াশুনা শুরু করতে চাই। পরতে চাই। আমার অসমাপ্ত পড়াশুনাটা আবার শুরু করতে চাই। কিন্তু আমার স্বামী আমাকে সাফ জানিয়ে দিল। তুমি পারবা না! তোমার পক্ষে এই বয়সে এসে পড়াশুনা করা সম্ভব না! অনেক অনুনয় বিনয় করে কেঁদে কেটে রাজি করাতে ব্যার্থ হয়ে অসফল হয়েছি সত্যি, তবুও আমি থেমে থাকিনি।
একদিন ঢাকা শহরের সকল বেসরকারি বিশ্ব বিদ্যালয়গুলোয় খোঁজ নিলাম। চাকরী করার পাশাপাশি আমি কি করে আমার স্নাতক ডিগ্রিটা সমাপ্ত করব? একজন সহকর্মীকে সহায়তায় খুঁজে পেলাম। তিনিও ওই বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্র। আমি ভর্তি হয়ে গেলাম। সংসার, অফিস, পড়াশুনা সব মিলেই আমি হাঁপিয়ে উঠছিলাম, পারছিলাম না। আমার স্বামী আমাকে আটকে রাখেনি তখন। তবে সাহায্যও করেনি। আমার এক বড় ভাই আমাকে সাহায্য করেছে। যার মূল্য আমি কখনো দিতে পারব না। উনি আমাকে সাহস যোগায়ে দিয়েছেন। বলতেন তুমি এগিয়ে যাও তুমি পারবে আটকাবেনা। আমি আসলেই আটকাই নাই। তবে ক্লান্ত হয়েছি। মাঝে মাঝে হাঁপিয়ে মনে হতো নাহ্‌ ছেড়ে দেই পড়াশুনা!
আমার সঙ্গে যারা পড়াশুনা করছে তাদের মধ্যে মাত্র তিন জন নারী ছিলাম, বাকি ৩৫ জন ছিল পুরুষ। সব মেয়েগুলোই আস্তে আস্তে চলে গেল। রইলাম আমি একজন নারী আর ২০/২৫ জনের এক দল ছেলে ছাত্র। যাদের মধ্যে আমাকে খুব বেশী সহযোগিতা করেছে কয়েকজন। যাদের বয়স আমার বয়সের ঠিক অর্ধেক। মাঝে মাঝে ওদের সাথে মজা করতাম যে, আমি তো তোমাদের মায়ের বয়সী । আমার শিক্ষকরাও বেশিরভাগ আমার থেকে বয়সে ছোট! কয়েকজন শিক্ষক তো আমাকে দেখে অবাক হয়েছেন। বলেছেন আপনাকে দেখে অগ্নিশিখার মতো মনে হয়! আমার বিশ্ববিদ্যালয়য়ের বাকি ছাত্র-ছাত্রীরাও আমাকে দেখে অবাক হতো, আর বলতো আপা এই বয়সে আপনি কেন এত কষ্ট করছেন? কি দরকার? স্বামী ডাক্তার শুনলে চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় সবার। পড়াশুনা কি কেবল চাকরী আর বিয়ে করার জন্য? আমি যেই চাকরিটা এখন করছি সেটা আজও অনেক ভাল চাকরি। নতুন ডিগ্রি চাকরিক্ষেত্রে কাজে না লাগলেও আমার মনের জোর বাড়িয়ে দিল অনেক খানি।
আমার পরাশুনার আগ্রহ ও পরীক্ষার ফলাফলে আমার স্বামী সন্তুষ্ট এবং একটা সময় আমাকে সাহস যোগাতে শুরু করলো। একদিন হুট করে এটাও বলল, তোমাকে আমি বিদেশ থেকে পড়াশুনা করায়ে আনব। আর মাত্র ক’মাস পর আমি একজন পুরকৌশলী হব ইনশাল্ললাহ! আগামি বছর ইনশাল্লাহ মাস্টার্সটাও শুরু করে দিব। আমি আমার স্বামীকে গতকাল রাগ করে বললাম, আমি পাশ করার পর সনদপত্রের ফটো কপি করে তুমি সত্যায়িত করবা। এবং যারা যারা আমাকে আমার শিক্ষা নিয়ে অপমান, মানসিক নির্যাতন করেছে তাদের গিয়ে বলবা এই নেন আমার বউয়ের এর স্নাতক সম্পন্ন করার সনদের কপি। যেটা আমি সত্যায়িত করেছি। ও পাশে ছিল বলেই আমি বিসিএস পাশ করে প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা। আমার বউ আমার তো নয়ই অন্য কারও কখনো বোঝা হয়নি। উল্টো সবার উপরে উঠার সিঁড়ি হয়েছিল। একটা সনদপত্রের জন্য আমি যে কি পরিমান লাঞ্চিত অপমানিত হয়েছি সেটা আমি জানি।
আব্বা বেঁচে নেই। আম্মা দেশে নেই। আম্মা আছেন বড় বোনের কাছে আমেরিকা। আমার ছোট দুই ভাই বোন এখনো আমার কাছে আমার পাশে বাস করে।
আমি নিজেকে নিজে সফল করেছি। আমার চারপাশ এখন অনেক গুছানো পরিপাটি হয়ে আসছে। কিন্তু ততদিনে যে আমার সময় হয়ে গেছে চুলে কালো রঙ করার আর পুরানো দাঁত ফেলে দিয়ে কৃত্রিম দাঁত লাগানোর। অনেক কিছুই বদলালো। কেবল বদলালো না আমার শ্বশুর বাড়ীর মানুষগুলো। এটা আমার স্বামী, বন্ধু অপুও স্বীকার করে। অসহায়ত্ব প্রকাশ করে। কি করবে ওর মা বোন ভাই বলে কথা! কিন্তু তাতে কি! আমার স্বামীতো আমার পাশে আছে। আছে আমার সাহস। আমি কর্মঠ। আমি ভীত নই। আমি থামবো না।
তারপরও আমি সুখী, খুশী। অবশেষে আমি সফল। এখন আমি সকলের গর্ব। অনেকের আদর্শ।
অনেক ধন্যবাদ আমার বাল্য বন্ধু আমার সন্তানের পিতা আমার ভালোবাসার মানুষ ডাক্তার অপু’কে। আমার স্বামীর মনোভাব উদার না হলে, আমাকে এত বড় একটা সুযোগ না দিলে, আমি এতগুলো ছেলের মাঝে একমাত্র মেয়ে হলে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে কখনোই পারতাম না। আমার স্বামী একজন আদর্শ স্বামী একজন আদর্শ ডাক্তারও বটে। আমাদের দেশে মেয়েদের এত স্বাধীনতা দেয় কয়জন স্বামী? তবে আমার স্বামী আমাকে পুরো  স্বাধীনতাটাই দিয়েছিল। আমার অপু আমাকে কথা দিয়েছে আমাকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি করাবে। আমার ছোট বোন মুন, আমার আম্মা, আমার ছোট ভাই, আমার ক্লাসের সকল ছোট ছোট ছেলেগুলোকে বিশেষ ধন্যবাদ। পল্লব ভাই আপনাকে, আপনি আমাকে বলেছিলেন সুধা তুমি পারবে। ভয় পেও না পিছিয়ে যেও না। কষ্ট করে শেষ কর পড়াশুনাটা। একদিন তুমি তোমাকে অনেক শক্ত, অনেক সন্মানীয় করে তুলতে পারবা যারা তোমাকে অপমান করেছে অসন্মান করেছে। তুমি কারও বোঝাও না দায়িত্বও না। তোমাকে দেখে অন্যরা শিখবে।  ভাইয়া আপনি আমাকে একটা নতুন আলোর জগতে আসার অসীম সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছেন। আপনার কথাগুলো আমি কখনো ভুলিনি ভুলব না। আপনি আমার বড় ভাইয়ের মতো, আমাকে দূর থেকে যেভাবে সাহায্য করেছেন সেটা অবর্ণনীয়।
বিশ্ব নারী দিবসে আমি আমার সংগ্রামী জীবনের ঘটে যাওয়া, বয়ে যাওয়া অধ্যায়গুলো থেকে একটু বললাম। নারীদের সাহস যোগাতে। নারীদের পাশে এসে দাঁড়াতে। আমি কাজ ভালবাসি, আমি মানুষ ভালোবাসি। আমি দেশ ভালোবাসি। আমি সকলকে শ্রদ্ধা করতে পারি। আমি দুর্বলকে টেনে তুলি, সবলকে এগিয়ে যাওয়ার উদ্যম যোগান দেই। নারী বলে নিজেকে গুঁটিয়ে না রেখে বাইরে বের করে আনা প্রতিটি নারীর নৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার এবং নিজেদের একটা জগত তৈরি করা দরকার।
আমি সব সময় বলি, বলতে ভালোবাসি : MY DAILY LIFE IS NOT CAREER….IT IS MY LIFE STYLE…..
আমি একজন সফল নারী। সফলতা সকল ক্ষেত্রেই আজ আমার। এখন একটাই লক্ষ্য একজন সফল মা হতে চাই। সন্তানকে প্রতিদিন এটাই দেয়ার চেষ্টা করছি। এই নিরব সফল যোদ্ধা যেন জীবনের এই যুদ্ধেও সফল হই সেজন্যে সকলের দোয়া, সহযোগিতা, উপদেশ কামনা করছি !
আমিও পেরেছি সকলেই পারবে। নারী দিবসে সকলে অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল।

১৫’ x ৮’ জায়গা দখল করে একজনের চলেফেরা পিক ট্রাফিকের সময় মানা যায় না

সকালে যখন অফিস আসি তখন রাস্তার দিকে তাকালে মনে হয়না যে আমরা দরিদ্র দেশে বাস করি কিংবা আমাদের কেন উন্নয়নশীল দেশ বলা হয়। যতদূর চোখ যায় শুধু প্রাইভেট কার সারি সারি! মাঝে চাপা পরে হাতে গুনা কয়েকটা পাবলিক যানবাহন। একটা বাস রাস্তায় যতটুকু জায়গা দখল করে তার থেকে কয়েক শ গুন বেশি যাত্রী বহন করে। উল্টো দিকে একটি প্রাইভেট গাড়ী যতটুকু জায়গা দখল করে যাত্রী বহন করে ১ থেকে ২ জন বড়জোর ৪ জন। ফলে রাস্তায় বেরে যায় বিশাল যানজট। সেটা সকাল বেলা অফিস আসার সময় ও বিকেলে বাসায় ফিরের পথে সকলেই টের পাই।
আমাদের দেশের যানজট দূর করার জন্য পিক সময়ে গাড়ী চলাচলে একটা বিশেষ আইন থাকা দরকার। নইলে যেই হারে প্রাইভেট গাড়ী বাড়ছে আর কিছুদিন পর রাস্তায় গাড়ী তো চলবেই না দেখা যাবে গাড়ির উপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে বাসায় ফিরে যাচ্ছি। এখনই তো মাঝে মাঝে গাড়ী থেকে নেমে গাড়ির আগে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছা যায়।
একটা রাস্তায় যে পরিমান গাড়ী চলাচলের ক্ষমতা রেখে নক্সা ও পরিকল্পনা করে হয়েছিলো এখন তার থেকে কয়েক গুন গাড়ী বেরে গেছে। কিন্তু ধারন ক্ষমতা বাড়েনি বাড়ানো হয়নি। সেখানে গাড়ী চলাচলে সময়, নিয়ম থাকা দরকার। অফিস সময়ে ও ছুটির সময়ে পাবলিক গাড়ী ছাড়া প্রাইভেট গাড়ী রাস্তায় বের হলে একটা চার্জ সরকার কে দিতে হবে। কিংবা কিছু রাস্তা থাকবে যেটা কেবল চার্জ দিয়ে চলাচলের জন্য রাখা হয় । যাত্রীদেরকে পাবলিক গাড়ীতে চলাচলের সুবিধা সহ সহজলভ্য করে দিতে হবে।
সব রাস্তা দিয়ে যেমন সবসময় রিক্সা চালান যায় না। ঠিক তেমনি সকল গাড়ী চলাচলেও একটি নিয়ম নিতি করা দরাকার। শুধু রিক্সা কেন সকল গাড়ির চলাচলে নিয়ন্ত্রন করলে যানজট অবশ্যই কমবে।
রাস্তা ফাঁকা থাকলে যে পথটা ২০ মিনিটে আসা যাওয়া করা যায় ঠিক সেই রাস্তায় যানজট লেগে থাকে দুই ঘণ্টায়ও পারাপার হওয়া যায় না। এটা আমরা যারা পাবলিক গাড়ীতে চলাচল করে অফিসে আসা যাওয়া করি তারা খুব ভাল করে রন্ধ্রে রন্ধ্রে টের পাই। শুধুমাত্র সময় মত অফিসে পৌঁছার জন্য অফিসের বেশ নিকটে থেকেও কিংবা যতটুকু সময় লাগার কথা তার থেকে বেশি সময় গাড়ীর তেল ফুরিয়ে সময় নষ্ট করে ঝিমানো ছাড়া আর ঘড়ি দেখা ছাড়া কিছুই করার থাকেনা।
এভাবেই আমাদের অনেক মূল্যবান সময় জীবন থেকে প্রতিদিন শেষ হয়ে যাচ্ছে । আমরা যারা কাজ করি, আমাদের কাজের বিনিময়ে দেশের উন্নতি হয় হচ্ছে হবে তারাই পঙ্গু হয়ে বসে ঝিমানো ছাড়া কিছুই করার থাকেনা !

প্রিয় নেতাজী, ফিরে তাকান একটু!

প্রতিদিন সকালে অনেক লম্বা একটা মানুষের লাইন পেরিয়ে বাসে করে অফিস আসি। লম্বা লাইনের মুখোমুখি হই একটাই কারন, একটি খালি আসন পাওয়ার যুদ্ধ! তাই একটু ভোর বেলায়ই বের হই। যথারীতি বাসে উঠে আসন গ্রহন করলাম। নির্ধারিত ১১ টি মহিলা শিশু ও প্রতিবন্দী আসন থাকাতে অনেক মহিলাকেই প্রতিদিন দাঁড়িয়ে ঝুলে চলাচল করতে হয়!
সন্তান কিংবা বাচ্চাদেরকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর মানুষ আছেন যারা ভিক্ষা বৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ঠিক এমনি একজন মা মেয়ে বাস উঠলেন। মেয়েটাকে বয়স ৯/১০ বছর হবে। মায়ের কোলে মেয়েটি খুব জ্বালাচ্ছে, কাঁদছে। তাকিয়ে দেখি একটি চোখ নেই। ভাবলাম মা বুঝি অন্ধ মেয়েটিকে দেখিয়ে ভিক্ষা চাওয়া শুরু করবেন। না ভিক্ষা চাচ্ছেন না । মেয়েটি কেঁদেই চলেছে। হঠাৎ খেয়াল করলাম মেয়েটির অন্ধ চোখটি ক্ষত এবং বা হাতে একটি কেনলা লাগানো। (উল্লেখ্য কেনলা হল লম্বা সময় ইঞ্জেকশান কিংবা স্যালাইন দিতে গেলে যেই ব্যবস্থা নেয়া হয়)। বুকটা দুমড়ে মুচড়ে উঠলো। হুড়মুড় করে নিজের আসনটি ছেড়ে দিলাম মা মেয়েকে। দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করে জানতে পারলামঁএবং দেখতেও পেলাম মেয়েটির অন্য চোখটি ভাল আছে এবং বা চোখে ক্যান্সার হয়েছে ! মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে কেমোথেরাপি দিতে। অনেকদিন কেমোথেরাপি দিতে পারেনি দুইটা কারনে।
০১. টাকা পয়সার সমস্যা
০২. হরতালে কি করে আসবে এই মা মেয়েকে নিয়া ?
জিজ্ঞেস করলাম কি অবস্থা শরীরের? বললো, আজ ডাক্তার বলে দিবে ক্যান্সার কি পুরু শরীরে ছড়ায়ে গেছে কিনা! যদি ছড়ায়ে যায় তাইলে …..আর বলতে পারলনা। দুই চোখ দিয়ে অঝরে পানি পড়তে শুরু করল। অস্থির হয়ে গেলাম মায়ের চোখের জল দেখে। পরক্ষনেই মা আবার স্বাভাবিক হয়ে মেয়েকে নিয়া ব্যস্ত হয়ে গেলেন। মেয়েটা যে কি জ্বালাচ্ছে মাকে সেটা আমি একজন মা হয়ে সহ্য করতে পারছিলাম না খুব রাগ হচ্ছিলো ক্ষোভ হচ্ছিলো। কিভাবে চিকিৎসার খরচ জোগান দিচ্ছেন? MADAM দেয়! একটু স্বস্তি পেলাম কি করবো আমি? কি করতে পারি এই মেয়েটার জন্য? আমার কতটুকু সামর্থ্যই বা আছে? আমরা তো ব্যস্ত নগরীর যান্ত্রিক মানুষ! এটাও বুঝলাম মেয়েটা আসলে আর…..! তাইলে ওর কিছু ইচ্ছা শখ পূর্ণ করতে কি পারি আমি? মাকে জিজ্ঞাসা করলাম কি খায় কিছু কি চায়? মা আবার চোখের জল ফেলেই গেলে। না রে আপা আমার মেয়েটার কিছুই চাওয়ার নাই ! তারপর ও ব্যাগ থেকে ৫০০ টাকা বের করে দিলাম। বললাম ওর ইচ্ছা হয় যা সেটা কইরেন এই টাকাটা দিয়ে। আমার পাশে বসা ছিল যেই মেয়েটি সে এখন ওই মা মেয়ের পাশে বসে আছেন এখনো। উনি ১০০০ টাকা দিলেন।
মহাখালী ক্যান্সার হাসপাতাল আসলো মা মেয়ে নেমে গেল। আপা আসি।
যতক্ষণ দেখা যায় পিছন ফিরে তাকিয়ে রইলাম ওদের পানে। হয়তো আর কোনোদিন কখনোই মা মেয়ের দেখা মিলবে না। এই ছোট মেয়েটি আমার মতো বড় হয়ে মা হতে পারবেনা ! ওর জীবনটা ৯/১০ বছরেই থেমে গেল। হে আল্লাহ তুমি কেন এমন কষ্ট দাও আমাদের? এত কঠিন পরীক্ষায় কেন ফেল আমাদের? এই নিস্পাপ মেয়েটির কি অন্যায়ের শাস্তি তুমি তাকে এই বয়সেই দিয়ে দিলে ? ও তো এখনো নিস্পাপ ।
বাস থেকে নামার সময় টের পেলাম আমার হাত পা কাঁপছে যেটা এখনো বর্তমান। মেয়েটির চিৎকার আমার কানে বেজে উঠছে। মনে হচ্ছে আমার সন্তানটি আমাকে ডাকছে!
আজ আমার খুব কষ্ট হল এই ছোট মেয়েটির অকাল ঝড়ে যাওয়ার গল্পটি শুনে ও দেখে। ওর পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমাদের সমাজে। আজ যেই মেয়েটির মা দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে তার মেয়ের প্রাণ ভিক্ষা চাইতে এটা কি তার নৈতিক অধিকার না? একটু সুচিকিৎসা, একটা ভালো সুন্দর জীবন এই মেয়েটি এবং মেয়েটির মায়ের কি গণতান্ত্রিক অধিকারে পড়েনা? তাহলে কেন আজ ঘরে ঘরে খোঁজ নাই তাদের? নির্বাচনী ভোট চাইতে তো প্রতিনিধিরা ঠিকই দ্বারে দ্বারে যেতে পারেন। বুকে জড়িয়ে ধরতেও ঘেন্না লাগেনা।
আমাদের দেশ প্রিয় বুদ্ধিজীবীদের কাছে হাত জোর, নেতাদের অনুরধ করবো, দয়া করে প্রতিমাসে না পারেন ৩ মাসে একবার করে সকলের খোঁজ নিন! আপনি শুধু আপনার নির্বাচনী এলেকার লোকদের খোঁজ নিন। একটু পিছনে ফিরে তাকান। আমরা তো আপনাদেরই একজন। রাজার নীতি নয় রাজনীতি সকলের মঙ্গলের জন্য এমন কিছু করুন যাতে সকলেই হাঁসতে পারে। একটু তাকান আমাদের দিকে। খোঁজ নিন ফিরে তাকান !

অন লাইন পত্রিকাগুলোতে নোংরা মন্তব্যে ভরপুর! কিন্তু কেন?

আমাদের দেশে আমরা এখন অনেক সহজেই ঘরে বসে রাস্তায় চলাচল অবস্থায়  প্রায় সব রকমের দৈনিক পত্রিকা পড়তে পারি অন লাইনে! সেটার পাঠক শুধু দেশে নয়, দেশে ছাড়িয়ে বর্হিবিশ্বেও আসছে! আমিও মোটামুটি একজন দৈনিক পাঠক! পত্রিকাগুলোর বেস কয়েকটায় আবার কোন খবরের উপর পাঠক কমেন্ট করার সুযোগ পায়! অদ্ভুত হচ্ছে এক শ্রেণীর পাঠক যাচ্ছেতাই ভাষায় গালি গালাজ কিংবা কটু উক্তি দিয়ে একটা কমেন্ট করে! মাঝে মাঝে কেন বেশির ভাগ চলমান খবরের পাতাগুলুতেই এত নোংরা ভাষা ব্যাবহার করা হয় সেই দিকে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের মনে হয় কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। পত্রিকার নিউজে নীচের কমেন্টগুলো পড়লেই বুঝা যায় আমাদের মস্তিষ্ক কতটা বিকৃত ও অসুস্থ।
আশা করছি সকল পত্রিকার সম্পাদক মহোদয় এই দিকটিতে নজরজরদারি করবেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়া যারা এই ধরনের আজে বাজে কথা উক্তি/ মন্তব্য করবেন তাদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ চাই।
আমি কারও পক্ষ বিপক্ষের জন্য বলছিনা। শুধু সেইসব শিক্ষিত সচেতন মন্তব্যকারিদের বলতে ইচ্ছা করে ব্যক্তিগত মতামত এত নোংরাভাবে না বললেই কি হয় না?

আম্মু পদ্মা সেতু বানায় না কেন সরকার? মেঘনা সেতু ভাঙল কি করে?

হাসিন, বয়স ৭+, ক্লাস টু তে পড়ে। এ বয়সী ছেলে মেয়েগুলো এমনিতেই অনেক কৌতুহুলি হয়। এমন একজন হাসিন। গত মাসে রাজশাহী থেকে বেড়িয়ে আসলাম। প্রথম বারের মতো বঙ্গবন্ধু সেতু দেখার সুযোগ, একসাথে মা ছেলেসহ পুরো পরিবার পেলাম। এত বড় ব্রিজ! আম্মু আমাদের দেশে আর কয়টা বড় ব্রিজ আছে? বললাম যে কয়টা মনে পরল তখন ।
হুট করে আমাকে আমাকে প্রশ্ন করল পদ্মা নদীতে কোনো ব্রিজ নাই ?
- না বাবা নাই!
কেন নাই?
- তৈরি করা হয়নাই!

কেন তৈরি করা হচ্ছেনা?

- হবে বাবা হবে ?
কিন্তু কবে? এখনও হচ্ছেনা কেন?
বাধ্য হয়ে বললাম বাবা সরকার চেষ্টা করছে ব্রিজ বানাতে। অনেক বড় ব্রিজ তো অনেক টাকা লাগবে, সে জন্য দেরি হচ্ছে।
কেন সরকারের টাকা নাই আম্মু?
- এত টাকা নাই বাবা !
আম্মু তুমি মিথ্যা কথা বলতেছ। সকারের টাকা নাই! হি হি কি বোকা আমার আম্মু!
অনেক বুঝালাম, বললাম সত্যি বাবা। আমরা গরিব দেশ তো, এত টাকা আমাদের নাই! বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ বাবা! আমরা সাহায্য চাচ্ছি। পাচ্ছি না!
কেন পাচ্ছেনা আম্মু?
কি করে বুঝাই দুর্নীতি জড়িয়ে গেছে! কি করে বুঝাই কেন টাকা নাই? কেন বানানো হচ্ছেনা পদ্মা ব্রিজ!
শেষ করে দিলাম বাবা শোনো খুব শীঘ্রই বানাবে! এত প্রশ্ন করোনা বাবা। (বিরক্ত হয়েই গেছি বলা যায়)। যখন বানাবে দেখতে পাবা জানতে পারবা!
কি করে আম্মু? টাকা পাবে কই? বাংলাদেশকে কেন গরীব দেশ বলা হয়? উন্নয়নশীল দেশ কি?
বললাম এমনও হতে পারে আমার বেতন থেকে, তোমার বাবার বেতন, মামার বেতন সবার বেতন থেকে কিছু পরিমান টাকা কেটে রাখবে! তারপর শুনেছি এই আমরা মোবাইল দিয়ে কথা বলি সেখান থেকেও টাকা কেটে রাখবে! বুঝলা বাবা! আমাদের টাকা দিয়ে বড় ব্রিজটা বানানো হলেও হতে পারে! আবার অন্য ভাবেও হতে পারে! আমি জানি না বাবা! তুমি যখন বড় হবা তখন সব বুঝবা!

একটু পর আবার প্রশ্ন, মেঘনা সেতু ভেঙ্গে গেল কেন? এটা কেন মেরামত করতে হচ্ছে? কেন এতদুর ঘুরে বাবাকে কুমিল্লা যেতে হয়? বাবা কি আজো ভাঙ্গা ব্রিজটার উপর দিয়ে গেল? 
হ্যালো বাবা তুমি আর বাসায় ফিরবানা? যেদিন বাবা ওই রাস্তা দিয়ে ঢাকার বাইরে যাবে সেই সে বাবাকে ফোন দিয়া জানতে চাইবে! ভয় পায়! বাবা তুমি যখন ব্রিজের ওপর উঠো তখন কি ব্রিজটা কাঁপতে থাকে? বেশী নড়ে? ভয় পাওনা? ছিদ্র হয়ে গেছে?
হাসিন ব্রিজ মেরামত হচ্ছে! চুপ থাকতো বাবা!
কতদিন লাগবে? আম্মু সত্যি কি মেরামত হচ্ছে? নাকি গাড়িসহ ব্রিজ ভেঙ্গে নদীতে পড়ে যাবে! আম্মু তুমি না ইঞ্জিনিয়ার? তুমি আমাকে বল!
বাবা এত গাড়ি প্রতিদিন চলাচল করে যে ব্রিজের যতটুকু ক্ষমতা ওজন নেয়ার তার থেকে অনেক বেশী নিতে হচ্ছে। যে ইঞ্জিনিয়ার ডিজাইন করেছে তিনি ভাবতেও পারেন নাই আমাদের দেশে এত দ্রুত গাড়ির সংখ্যা বেরে যাবে। বাবা জনসংখ্যার উপর একটা হিসাব। প্রতিদিন রাস্তা দিয়ে কয়টা গাড়ি চলে সেটার একটা জরিপ  করে পড়ে একটা ব্রিজ ডিজাইন করা হয় এবং তাই হয়েছিল! তারপর তো সিমেন্ট, রড, বালি এইসবের ঘাপলা আছেই বাবা!
তখন ছেলে বলে, তাইলে মা চলো আমরা আমেরিকা চলে যাই। নইলে অস্ট্রেলিয়া। যেটা ধনী দেশ। এখানে কেবল হরতাল, যানজট, মারামারি হয়।
নাহ যাবনা! ওখানে গেলে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে। আমি বাংলা বলতে ভালবাসি। শুনো, তুমি কিন্তু আমাকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ভর্তি করবেনা। নানা কথা নানা প্রশ্ন।
আমার স্বামী তার ছেলের প্রশ্নের দিকে তাকিয়ে হতবাক হয়ে শুনল আর বলল এই GENERATION বড় হলে কি হবে দেখলা? সব খুঁটিয়ে বের করবে । অনেক সচেতন! আমার তোমার মতো না। আমার সন্তানের দিকে তাকিয়ে আমিও সত্যি অবাক হই। আবার আতকে উঠি আমাকে আবার ত্বকীর মা হতে হবে নাতো ? কিংবা বিশ্বজিৎ? আমাদের দেশে বেশি সচেতন হওয়া কি ভাল? নিজের প্রশ্নে নিজেই দ্বিধা দ্বন্দ্বে পুড়ে মরি। বড় করে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি!
তবুও আশায় বুক বাধি। আমার ছেলে এই দেশের মাটিতে দেশকে ভালোবেসে বড় হোক, দেশের জন্য ওর মেধাকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাক। ভাল মানুষ হোক এটাই আমি চাই! সুস্থ জীবন যাপন করুক! একজন গর্বিত নাগরিক হয়ে উঠুক। আমার দেশের রাজনীতি কি ওদের জন্য হয়ে উঠবে না?